দরবার-ই-জহুর

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪, ১২:০৬ এএম

পূর্ববাংলার স্বায়ত্তশাসন, স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি দৈনিক সংবাদে সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জহুর হোসেন চৌধুরী ‘দরবার-ই-জহুর’ কলামে তৎকালীন সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেস ক্লাবের অন্যতম উপদেষ্টা এই সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ১৯৮০ সালের ১১ ডিসেম্বর ৫৮ বছর বয়সে মারা যান। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮২ সালে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন। অতীতের সঙ্গে অধুনার সংযোগ ঘটাতে ছাপা হলো তার লেখা উপসম্পাদকীয়

মানুষের জীবনকে শেষ পর্যন্ত বিশ্লেষণ করে দেখলে বিভিন্ন অভিজ্ঞতার একটি যোগফলই বলতে হবে। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী আমি ইতোমধ্যেই কয়েকটি জীবন পার হয়ে এসেছি। ইংরেজের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গুপ্ত বিপ্লবী আন্দোলনের ছায়ায় আমার বাল্য ও কৈশোর কেটেছে। ত্রিশের দশকে বিশ্বব্যাপী তীব্র অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ পিতামাতাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করেছে। আমারই এক খালাত ভাইকে দেখেছি, ডিস্টিংশানে ১৯২৮ সনে বিএসসি পাস করার পর চার বছর বেকার থেকে ১৯৩২ সনে ৩০ টাকা মাইনের নোয়াখালী ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডে কেরানির চাকরি নিতে। চাটগাঁ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে অনার্স পড়াবার বন্দোবস্ত সে যুগে ছিল না, আর কলকাতায় পড়বার সামর্থ্যও ছিল, হিন্দুর বিরুদ্ধে মুসলমানদের মনে অভিযোগ ছিল, একটা হীনমন্যতাও ছিল। কিন্তু এসবের মধ্যে বিদ্বেষ ও হিংসার পরিচয় বিশেষ পাইনি। মুসলমানদের মধ্যে একটা তীব্র প্রচেষ্টা ছিল প্রগতিতে হিন্দু সমাজকে ধরে ফেলা। আমি নানার বাড়িতে মানুষ। তখনকার দিনে তিনি চাটগাঁ শহরে একজন প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তি ছিলেন। তার বৈঠকখানায় হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই সমাবেশ প্রায় সমানভাবেই হতো। আমার নানার কয়েকটি ভাড়াটিয়া বাড়ির মধ্যে একটিতে একজন হিন্দু মুন্সেফও থাকতেন। দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াতে ঘনিষ্ঠতাও ছিল। আমার দু’বছর বয়সে টাইফয়েডে আম্মা মারা যান। আম্মার থেকেই যে টাইফয়েড আমারও হয়, তাতে আমার জীবনের আশা চাটগাঁর সিভিল সার্জনও ছেড়ে দিয়েছিলেন। মহিম বাবু নামে একজন হিন্দু হোমিওপ্যাথ ডাক্তারের চিকিৎসায় আমি ভালো হই।

শৈশবে নানি-খালা নামাজ পড়ে আমাকে কোলে নিয়ে দরুদ পড়ে মাথায় ফুঁ দিতেন আর বলতেন, ‘ইংরেজকে কোনো দিন ক্ষমা করবি না। আমাদের এত বড় দেশের চল্লিশ কোটি মানুষকে তারা পরাধীন করে রেখেছে। বাণিজ্য করতে এসে ছলে ও বলে, মীরজাফর-জগৎশেঠ-উমিচাঁদের সাহায্যে পলাশীর মাঠে সিরাজউদ্দৌলাকে হারায় ও পরে মোহাম্মদী বেগকে দিয়ে খুন করায়। কিন্তু মীর মদন ও মোহনলাল দুজনেই তলোয়ার হাতে বাঙালির স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেন। পলাশীর ময়দান হিন্দু ও মুসলমানের রক্তে পবিত্র হয়।’ অর্থাৎ খেলাফত আন্দোলনের রেশ তখনো চলছিল। তারা আরও বলতেন, হিন্দু-মুসলমান হলো মানুষের দুটি চোখের মতো। মহাত্মা গান্ধী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন, মওলানা মোহাম্মদ আলী, মওলানা শওকত আলী, ডা. আনসারী, হেকিম আজমল খাঁর ছবি দেখিয়ে বলতেন, ‘এদের আদর্শ বলে মানবী।’ আরও বলতেন, ‘ইংরেজের গোলামি কখনো করবি না, ইংরেজ মুসলমানদের সবচাইতে বড় দুশমন। বড় হয়ে ব্যারিস্টার হবি, পারতপক্ষে কারুর গোলামি করবি না। গরিবও খোদার বান্দা, তার প্রিয় বান্দা। মানুষকে দরদের চোখে দেখবি। টাকাপয়সার নেশা হওয়া শক্ত গোনাহ। বড়মানুষি করা খোদা সহ্য করে না। অহংকারীর নামাজ খোদা কবুল করেন না।’ এ ধরনের উপদেশ দিতেন, দরুদ পড়তেন আর মাথায় ফুঁ দিতেন। আমার বাবা মৃত্যুকালে একমাত্র প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বীমার টাকা ছাড়া কিছুই রেখে যাননি।

হিন্দু-মুসলমান যে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি, বাল্যে তার গভীরতা আরও অনুভব করেছি। ইংরেজের কারসাজি তখনই সেটা বুঝতে শুরু করলেও যদি এর ঐতিহাসিক ও সামাজিক পটভূমি না থাকত, ইংরেজ তার সুযোগ নিত কী করে। আমাদের পরিবার রাজনীতি-সচেতন ছিল। নজরুলের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে পরোক্ষভাবে বামপন্থী আদর্শেরও ছাপ কিছুটা আমার ওপর পড়েছিল। কৈশোরে ও যৌবনে যখন বামপন্থী আদর্শের প্রভাবে হিন্দু-মুসলিম জনতার সম্মিলিত আন্দোলন ও মুক্তির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তখনই কংগ্রেসী ডানপন্থী নেতৃত্বের এককেন্দ্রিক স্বাধীন ভারত প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ও মুসলিম লীগের পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হলো। চোখের সামনে দেখলাম পার্থক্য ও আত্মীয়তাবোধ রূপ নিতে তীব্র সাম্প্রদায়িক বিরোধে।

শুরু হলো দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। বাংলাদেশ রণাঙ্গনের আঙিনায় পরিণত হলো। দেখা দিল পঞ্চাশের মন্বন্তর। মাগো! ভাত দাও, ফ্যান দাও, বলতে বলতে নিদারুণ মৃত্যুবরণ করল চল্লিশ লাখ আদম সন্তান। কলকাতার রাস্তা থেকে অনাহারে মৃত্যুর লাশ সময়মতো সরানো কলকাতা করপোরেশনের ন্যায় শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও অসম্ভব হলো।  অবিভক্ত বাংলায় তখন মরহুম জনাব খাজা নাজিমুদ্দিনের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভা ক্ষমতাসীন। যুদ্ধজনিত নানা অসুবিধার মধ্যেও সে মন্ত্রিসভাকে কাজ করতে হচ্ছিল। জাপানিরা তখন কক্সবাজারের কাছে এসে পড়েছিল এবং আসামের কোহিমায় তুমুল হাতাহাতি লড়াই চলছিল দিনের পর দিন। জাপানিদের গোটা পূর্ব ভারত অন্ততপূর্ব ও পশ্চিম বাংলা দখল করার রীতিমতো সম্ভাবনা থাকায় ব্রিটিশ সামরিক কমান্ডের নির্দেশে ‘ডিনায়াল পলিসি’ অর্থাৎ ‘পোড়ামাটি নীতি’ অনুসরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমেই সরকার নৌ-চলাচল বন্ধ করে দিয়ে পূর্ব বাংলার সমস্ত নৌকা বাজেয়াফত করেন ও নৌকাগুলোকে বিভিন্ন জায়গায় জড়ো করে রাখেন। ট্রেনগুলোও তখন প্রায় শতকরা আশি ভাগ সেনা চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। সর্বোপরি বাংলাদেশ ছিল চালে ঘাটতি একটি দেশ এবং বার্মা থেকে চাল আমদানি করে সে ঘাটতি পূরণ করা হতো। ব্রহ্মদেশ জাপানের দখলে চলে গেলে সে আমদানিটাও বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই প্রকট হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতেও আমি প্রত্যক্ষ সাক্ষী যে, নাজিমুদ্দিন সরকার প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি। ‘একটি লোককেও অনাহারে মরতে দেব না, প্রয়োজন হলে প্রত্যেকটি বাড়ির তক্তপোশের নিচে সার্চ করে মজুদকৃত চাউল বার করব’ সে সময় খাদ্যমন্ত্রী জনাব সোহরাওয়ার্দীর এ ঘোষণা পরবর্তী তুলনাহীন বিয়োগান্ত পরিস্থিতির পটভূমিকায় নির্মম পরিহাস হিসেবে বিখ্যাত হয়ে রয়েছে। বস্তুত মজুদদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হয়নি। একটি উল্লেখযোগ্য মামলা দায়ের করা হয়নি বা কাউকে তেমন গুরুদন্ডও দেওয়া হয়নি। চালের কালোবাজারি ও মজুদদারির ব্যাপারে সে যুগে দুই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যুক্তভাবে সর্বাপেক্ষা কুখ্যাতি অর্জন করে তাদের একটি ছিল মাড়োয়ারি আর একটি পশ্চিমা মুসলমান।

এরপর এলো ১৯৪৬-এর ১৬ আগস্ট কলকাতার ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা। পাকিস্তান আন্দোলন তখন চরমে উঠেছে, আর সঙ্গে সঙ্গে হিন্দুদের বিরোধিতাও দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছে। তারা প্রস্তুত হচ্ছিল সব শক্তি দিয়ে পাকিস্তান আন্দোলনকে প্রতিরোধ করতে। এ প্রস্তুতির দিকে কোনো নজর না দিয়ে, মুসলিম জনসাধারণকে কোনোরূপ প্রস্তুত না করে ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট একশান ডে’ মুসলিম লীগ কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করলেন। সাধারণ হরতাল এ দিবসের কর্মসূচি ছিল। হিন্দুরা স্বভাবতই এ হরতালের বিরোধিতা করে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সংঘর্ষের জন্য মুসলমানরা প্রস্তুত না থাকায় প্রথম চোটেই তারা প্রচন্ড মার খেল। পরে দুপক্ষেই যে নির্মম হত্যাকান্ড চলে, ইতিহাসে তা The great Calcutta killing নামে কুখ্যাত হয়। হিন্দু ও মুসলমান উভয়েই পৈশাচিকতার চরম নিদর্শন স্থাপন করে। দুহাত দূর থেকে মানুষের মাথাকে থান ইটের আঘাতে ফাটিয়ে টুকরা টুকরা করে দেওয়ার যে আওয়াজ আমি শুনেছি, তা আজও আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেয়। এই দাঙ্গা ক্রমে সারা ভারতে বিশেষ করে নোয়াখালী, বিহার, ইউপি ও সমগ্র পাঞ্জাব প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মধ্যেই ইংরেজ ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ঘোষণা করে। এভাবে প্রায় ৩০ লাখ লোকের প্রাণের, কয়েক লাখ মহিলার সতীত্বের বিনিময়ে ও প্রায় দুই কোটি লোক ভিটামাটি ছেড়ে দেশান্তরী হওয়ার পর প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলমানের জাতীয় আবাসভূমি হিসেবে যে দাবি উত্থাপিত হয়েছিল, তার। কায়েদে আজম জিন্নাহ সাহেব একদিন সাম্প্রদায়িকতার ঘোর বিরোধী ছিলেন এবং প্রস্তাবিত মুসলিম লীগকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে ১৯০৬ সালে এর উদ্বোধনী সম্মেলনে যোগ দিতে অস্বীকার করেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টের পর পূর্ব পাকিস্তানে মুসলমানদের মধ্যে কী জোশ দেখেছি, তা এখনো চোখের সামনে ভাসছে। সরকারি কর্মচারী ও মুসলিম জনগণ উভয়েই সমৃদ্ধ সুখী পাকিস্তান গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল, যেখানে জনগণের দুঃখ-কষ্টের অন্তত লাঘব হবে। পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনাব হবীবুল্লাহ বাহার ঘোষণা করলেন, ‘তাজমহল আমরা হারিয়েছি, কিন্তু এখানে আমরা তৈরি করব মানবতার তাজমহল’। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে এসবই উপহাসে পরিণত হলো। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গণপরিষদের উদ্বোধনী ভাষণে কায়েদে আজম ঘোষণা করেছিলেন, ‘রাজনৈতিক অর্থে পাকিস্তানে মুসলমান আর মুসলমান, হিন্দু আর হিন্দু, খ্রিস্টান আর খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ আর বৌদ্ধ থাকবে না।’ এর একমাত্র অর্থ হয় যে, মুসলমানের জাতীয় আবাসভূমি হিসেবে সৃষ্টি হলেও পাকিস্তান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রই হবে। ১৯৫০ ও ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়। পার্শ্ববর্তী পশ্চিম বঙ্গেও একই সময়ে ভয়াল দাঙ্গা সংঘটিত হয়। ভারতের অন্যান্য বহু স্থানেও প্রায় দাঙ্গা সংঘটিত হতে থাকে। পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দেশ-বিভাগের পরই কাশ্মীর প্রশ্নে যুদ্ধ শুরু হয় এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে একটি অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। কিন্তু ১৯৬৫ সালে আবার রক্তাক্ত সংঘর্ষ শুরু হয় এবং রাশিয়ার হস্তক্ষেপে তাসখন্দ চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে পশ্চিমা সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবিচার-শোষণের বিরুদ্ধে যে জনমত গড়ে ওঠে, তারই ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের জন্ম। যে চরম আত্মত্যাগ ও অকল্পনীয় নৃশংসতার পটভূমিকায় বাংলাদেশের জন্ম, তার কোনো পর্যালোচনা এখানে প্রয়োজন নেই। কারণ, এসব আমাদের ধরতে গেলে কালকের অভিজ্ঞতা। পাল বংশের পতনের পর এই প্রথম বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলো।

শেখ মুজিব যেদিন পাকিস্তানের বন্দিশালা থেকে ঢাকায় ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে ফিরে এলেন, সেদিন এ দেশের জনজীবনে যে জোয়ার এসেছিল, তা কি কাউকে মনে করিয়ে দিতে হবে? ছয়টি মাস না যেতেই সে জোয়ার শুকিয়ে যেতে শুরু করল। তারপর তিন বছর আট মাস না যেতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অধ্যায় শেষ। কেন এমন হলো? গত তিন বছরে বাঙালি জাতি যে অর্থনৈতিক কষ্ট ও রাজনৈতিক আশাভঙ্গের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তার তুলনা খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। পঞ্চাশের দুর্ভিক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু সরকার যদি ঔদাসীন্য এবং ব্যবসায়ীদের উৎকট লোভ দমনে অর্থাৎ কালোবাজারি ও মজুদদারি দমনে ব্যর্থতার পরিচয় না দিতেন, তবে পরিস্থিতি নিশ্চয়ই ওইরূপ ভয়াবহ রূপ নিতে পারত না। বেশ কিছুদিন যাবৎ দেখা হলেই বন্ধুবান্ধব প্রশ্ন করেন, ‘কি হবে বলতে পারেন?’ আমারও পেটেন্ট করা জবাব ‘অতীতের দিকে তাকান’। নিঃস্বার্থ পর্যালোচনার দ্বারা অতীত থেকে যদি আমরা শিক্ষাগ্রহণ করতে না পারি, তবে এ জাতির কোনো ভবিষ্যৎ নেই। (সংক্ষেপিত)

লেখক: সম্পাদক, দৈনিক সংবাদ ৫ অক্টোবর ১৯৭৫

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত