স্থানীয়দের অভিযোগ

মরদেহগুলো ভ্যান থেকে পিকআপে তুলে আগুন ধরিয়ে দেয় পুলিশ 

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম

মাথায় হেলমেট ও ভেস্ট পরা দুই পুলিশ সদস্য একটি ভ্যানের ওপর মরদেহ তুলছেন। ভ্যানে আগেই অনেকগুলো মরদেহ স্তূপ করে রাখা। ঢেকে রাখা চাদরের পাশ দিয়ে ঝুলে আছে নিহতদের হাত। এমন রোমহর্ষক একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও এবং ছবি যারা দেখছেন, সকলেই শিউরে উঠছেন ভয়ে-আতঙ্কে।

ভিডিওটি সাভারের আশুলিয়া থানার সামনের বলে নিশ্চিত করেছেন এএফপির ফ্যাক্ট চেক এডিটর কদরুদ্দিন শিশির। ভিডিওটি ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন থানার সামনে থেকে ধারণ করা বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। আশুলিয়া থানার সামনে গিয়ে ভিডিওটির সঙ্গে হুবহু মিল পেয়েছেন দেশ রূপান্তরের এই প্রতিনিধি। 

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের পেছনের সড়ক দিয়ে থানার দিকে যাওয়ার পথে ডান পাশের দেয়ালটি হুবহু ভিডিওর সাথে মিলে যায়। মহাসড়ক থেকে থানার দিকে অগ্রসর হয়ে এসবি অফিসের দিকে চৌরাস্তায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৫ আগস্ট সকাল থেকেই নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বৈষম্যবিরোধী কোটা আন্দোলনকারীরা। শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের খবরে আন্দোলনকারীরা থানার চারপাশ দিয়ে ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ মসজিদের মাইক ও হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের পরেও আন্দোলনকারী থানার দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এসময় পুলিশ গুলি চালাতে থাকে। তখন তারা দোকান বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। আশুলিয়া থানার একাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও কেউ মুখ খোলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিকেল ৪টার দিকে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বিকেল ৪টার দিকে থানায় হামলার চেষ্টা করে আন্দোলনকারীরা। এসময় পুলিশ এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ছিলেন তিনি। তবে ভ্যানে লাশ স্তূপ করার ঘটনাটি তিনি দেখেননি বলে জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্ট দুপুরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এবং তার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার খবরে ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আশুলিয়া থানা মুখে অগ্রসর হলে নির্বিচারে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে সেই লাশগুলো একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে একটি পিকআপে স্থানান্তর করার পরে গণহত্যার চিত্র মুছে ফেলতে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হতভাগ্যদের মধ্যে ছিলেন সাভারের আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেওয়া স্কুলছাত্র আস-সাবুর (১৬)। তিনি আশুলিয়ার জামগড়া শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দা এনাফ নায়েদের ছেলে। আস-সাবুর স্থানীয় শাহীন স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ভিডিওতে ভ্যানে তোলা কয়েকটি মরদেহের স্তূপের পাশে পুলিশকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেছে। তাদের একজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক (তদন্ত) আরাফাত হোসেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে আত্মগোপনে চলে গেছেন তিনিসহ ভিডিও চিত্রে থাকা পুলিশের সদস্যরা। 

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বিপ্লব ছবিটি আরাফাতের বলে নিশ্চিত করেন। আরাফাতের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। প্রায় দুই বছর আগে তিনি ঢাকা জেলার গোয়েন্দা বিভাগে যোগ দেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত