নওগাঁয় সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:০০ পিএম

২০১৫ সালে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহিদুজ্জামান সরকারসহ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ৭৪ জন নেতাকর্মীর নামসহ আরো ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

রবিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নওগাঁর ১ নম্বর আমলি আদালতে বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে এ মামলাটি করেন নওগাঁ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নওগাঁ পৌরসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমতিয়াজুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে নওগাঁ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। 

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন জলিল জন, নওগাঁ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ, নওগাঁ শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায়, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির রহমান, সাধারণ সম্পাদক আমানুজ্জামান শিউল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ লাল, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম, নওগাঁ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মজনু, রাজন প্রমুখ।

বাদীর বর্ণনা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে নওগাঁ পৌরসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হামলার ঘটনা ঘটে। নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহিদুজ্জামান সরদার, নওগাঁ সদর আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন জলিল জন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদের নেতৃত্বে হামলা করা হয়। সে সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, নির্বাচনের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ছিনতাই এবং ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায় সন্ত্রাসীরা।

মামলার বাদী বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে জানান, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ঘটনার পরদিনই নওগাঁ সদর থানায় মামলা করতে যাওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ ওই সময় মামলা গ্রহণ করেনি। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মামলা করলে হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন। এ জন্য এতদিন মামলা করতে পারেননি।  

বাদীর আইনজীবী মিনহাজুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালে পৌরসভার নির্বাচনের ফল ঘোষণার সময় নওগাঁ  জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হামলার ঘটনায় দন্ড বিধির ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/১১৪ ও ৩৪ তৎসহ ১৯০৮ সনের বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের ৩/৪/৬ ধারায় ১ নম্বর আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত