সাভারে বাবা-ছেলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৮:২১ পিএম

সাভারের আমিনবাজার থেকে ফুয়াদ ইসলাম (৫৪) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত ও তার ছেলে আশিকের (২) খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকায় রূপালি সৈকত হাউজিংয়ের ভেতর থেকে ওই দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহত ফুয়াদের গরুর খামারের রাখাল জয় (৩০) পলাতক রয়েছে।

নিহতরা হলেন- বাবা ফুয়াদ ইসলাম ও তার ছেলে আশিক। ফুয়াদ ইসলাম তার ছেলে আশিককে নিয়ে আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী এলাকার রুপালি সৈকত হাউজিংয়ে বসবাস করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, ফুয়াদের আমিনবাজার বড়দেশী এলাকায় রূপালি সৈকত হাউজিংয়ের ভেতরে একটি গরুর খামার ছিল। সেখানে জয় নামে একজন রাখালকে দিয়ে ৪টি গরু ও তিনটি বাছুর পালন করতেন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে স্থানীয়রা ফুয়াদের অর্ধগলিত ও তার ছেলের খণ্ডিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানায়।

জানা গেছে, নিহত ফুয়াদ ইসলামের প্রথম স্ত্রী গ্রামে থাকেন। এখানে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন তিনি। সেই স্ত্রীর একটি পুত্র সন্তান হলে ৩-৪ মাসের মাথায় স্ত্রী তাদের ছেড়ে চলে যান। তখন থেকে ফুয়াদ শিশু সন্তানকে দেখাশোনার পাশাপাশি গরুর খামার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। খামারের রাখাল তাদের হত্যা করে গরু আত্মসাৎ করতে চেয়েছিল বলে ধারণা স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গতকাল ওই রাখাল ফুয়াদুল ইসলামের খামারের গরু বিক্রি করতে আসেন। কিন্তু এলাকাবাসী মালিক না থাকায় গরুগুলো বিক্রি করতে দেয়নি। স্থানীয়রা মালিকের উপস্থিতিতে গরু বিক্রি করতে বললে তিনি চলে যান। আজ খামারের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা খামারের ভেতরে গিয়ে বাবা ও ছেলের লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেন। 
 
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাশিদ বলেন, নিহতদের মরদেহ খামারের ভেতরে বালুচাপা দেওয়া ছিল। কিন্তু শিয়াল বালু খুঁড়ে মরদেহ বের করলে দুর্গন্ধ বের হয়। নিহত শিশুর মরদেহ শিয়াল টেনেহিঁচড়ে খণ্ড খণ্ড করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ৫-৬ দিন আগে তাদের হত্যা করে বালুচাপা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে জয় নামের ওই রাখাল পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত