বন্যা দুর্গত এলাকায় বিতরণ হচ্ছে শিশুর জন্য ক্ষতিকর খাবার, সতর্কের পরামর্শ

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:০৬ পিএম

দেশের বন্যা দুর্গত এলাকায় পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য বিতরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদরা। তারা বলেছেন, বন্যার্ত শিশুদের মাঝে ফর্মুলা দুধ, পাউডার দুধ, শিল্পজাত পণ্য, যেমন কেমিক্যালযুক্ত বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত জুস, সিরিয়াল, চিনিযুক্ত পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য এসব খাবার ক্ষতিকর ও বিতরণের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগের সময় শিশুদের জন্য খাদ্য বিতরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে হবে। এসব খাবার এই মান অনুসরণ করে না।

আজ সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের ১৬ জন জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ, ডায়েটিশিয়ান ও উন্নয়নকর্মী এই সতর্কতা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেন—

১. প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসহায় মানুষ প্রায়ই পাউডার দুধ দূষিত পানির সাথে দূষিত পাত্র বা বোতলে মিশিয়ে তাদের শিশুদের খাওয়ান। এতে বন্যাকবলিত এলাকায় শিশুদের ডায়রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। দুর্যোগের সময়, ডায়রিয়া শিশুদের গুরুতর অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

২. ভবিষ্যতের জন্য দুধ সংরক্ষণ করতে এবং খরচ বাঁচাতে, মানুষ প্রায়ই ফর্মুলা দুধের প্রস্তাবিত পরিমাণ ব্যবহার করে না এবং এর ফলে শিশুকে খাওয়ানোর জন্য পাতলা দুধ তৈরি করে। এই পাতলা দুধ শিশুর অপুষ্টি বাড়ায় এবং প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে নিয়ে যায়।

৩. বাণিজ্যিকভাবে প্রস্তুতকৃত কেমিক্যালযুক্ত জুস বা সিরিয়াল ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন— বিস্কুট, কেক, চিপস, ইনস্ট্যান্ট নুডলস— এসবে কোনো পুষ্টিগুণ নেই। এই খাবারগুলোতে অতিরিক্ত চিনি, লবন ও ক্ষতিকর তেল রয়েছে। এই অতিরিক্ত লবন ও মিষ্টি খাবার শিশুদের সামান্য পরিমাণ শক্তি প্রদান করলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি, যেমন— প্রোটিন, ভিটামিন বা খনিজ পদার্থ সরবরাহ করে না। এই খাবারগুলো শুধু পেট ভরায়, কিন্তু কোনো পুষ্টি সরবরাহ করে না এবং শিশুদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো অসংক্রামক রোগের দিকে নিয়ে যায়।

৪. দুর্যোগের সময়, যখন তিন বেলার খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়, তখন এমন খাবার নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা অল্প পরিমাণে হলেও ন্যূনতম পুষ্টি নিশ্চিত করে, যা শিশুদের স্বাস্থা বজায় সহায়তা করে। ৬ মাসের বেশী বয়সের শিশুদের চিড়া, বাদাম, খেজুর, খিচুড়ি, ডাল বা সুজির । খাবার খাওয়ানো বিভিন্ন পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে। এ বিষযে, আমরা সরকার অনুমোদিত। খাদ্য প্যাকেজ সুপারিশ করছি। সুপারিশটি এখানে যুক্ত করা হলো আলাদাভাবে।

৫. ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো উচিত যেকোনো দুর্যোগের সময়, বিশেষ করে বন্যার সময়, কারণ এটি নবজাতক এবং ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ খাদ্য।

যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন— জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ ডা. মো. মহসীন আলী, ফারিয়া শাবনাম, সায়কা সিরাজ, আসফিয়া আজিম, তাসকীন চৌধুরী, শিরিন আফরোজ, ইফতিয়া জেরিন, পুষ্টিবিদ মাসুমা চৌধুরী, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এহসামুল আজিম, ডায়েটিশিয়ান খাতুন ওয়ালিউন্নেশা ও শওকত আরা সাঈদা লোপা, উন্নয়ন কর্মী নিগার সুলতানা ও অমিত কুমার মালাকার, খাদ্য প্রকৌশলী মোহাম্মাদ ফরিদ আহম্মদ, জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. এডুইন থিয়ফিলাস গোস্বামী, প্রজেক্ট কো—অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল আমিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত