উঁকিঝুঁকি নতুন নতুন চাঁদাবাজের

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১০ এএম

পুরান ঢাকার বাবুবাজার থেকে নয়াবাজার এলাকায় ফুটপাতে আগের মতো চাঁদাবাজি নেই। তবে বাসস্ট্যান্ডের সামনে চাঁদাবাজি করতে দেখা গেছে গতকাল সোমবারও। আওয়ামী লীগের স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের অনুসারীর কিছু নেতাকর্মী ৫ আস্টের পর আড়ালে ছিলেন। কিন্তু তিন দিন ধরে তাদের অনুসারীরা বাবুবাজার থেকে নয়বাজার এলকায় চাঁদা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সময় বাবুবাজার থেকে নয়াবাজার এলাকায় সড়কের দুপাশে অসংখ্য অবৈধ দোকান ছিল। সেসব জায়গায় তোলা হতো বড় অঙ্কের চাঁদা। সেই সঙ্গে এই রুটে চলা গাড়িগুলো থেকেও চাঁদা তোলা হতো। কিন্তু গত ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যারা চাঁদা তুলত তারা আত্মগোপনে চলে যায়।

কিন্তু কয়েকদিন ধরে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে থাকা বাসগুলো থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা তোলা হচ্ছে। তবে আগে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হতো। কিন্তু এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন হাজী সেলিমের অনুসারী রনি মিস্ত্রি।

বাবুবাজারে ফুটপাতের চা বিক্রেতা মানিক মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, দোকান চালাতে রোজ ২০০ টাকা দিতে হতো। কিন্তু ৫ আগস্টের পর এখন টাকা দিতে হচ্ছে না। কেউ আগের মতো টাকা নিতে আসছে না। ফলে দোকান চালাতে আগের থেকে সড়কে ব্যয় কমেছে।

এই এলাকায় ফল বিক্রেতা জব্বার মিয়া বলেন, আগে হাজী সেলিমের লোকজন এখান থেকে টাকা উঠাত। গত মাসে তাদের লোকজনকে টাকা উঠাতে দেখা যায়নি। কিন্তু তিন দিন ধরে তদের হাজী সেলিমের অনুসারীরা ফের চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে। সামনে মনে হয় চাঁদা দিতে হতে পারে।

এদিকে গাবতলী রুটে চলা ব্রাদার্স পরিবহনের এক চালক শরীফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেকেই বলে চাঁদাবাজি নেই। কিন্তু আমাদের এই এলাকার অবস্থা কিন্তু বদলায়নি। তবে আগে আরও বেশি টাকা নেওয়া হতো। এখন কম তোলা হচ্ছে। কিন্তু চাঁদাবাজি কিন্তু বন্ধ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক দিন এখানে যারা চাঁদা তুলতো তারা আত্মগোপনে ছিল। কিন্তু তাদের অনেকেই এখন প্রকাশ্যে এসে চাঁদা দাবি করছে।

বাবুবাজার থেকে যাত্রাবাড়ী চলা এক লেগুনা চালক মো. জামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত মাস থেকে কোনো চাঁদা দিতে হচ্ছে না এই রুটে। আগে কাউন্সিলর থেকে শুরু করে সবাই টাকা নিত। এখন গাড়ি চালিয়ে যে টাকা থাকে সেগুলো নিজে ও গাড়ির মালিককে দিই। কিন্তু চাঁদাবাজরা এই রুটে মাথাচাড়া দিতে চাচ্ছে। হয়তো আবারও চাঁদা দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত