ঢাকার মতিঝিল এলাকার ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে কাপড়ের ব্যবসা করছেন মো. সালাউদ্দিন আহমেদ। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগেও দিনে ৪০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো তাকে। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে এখন আর কাউকেই চাঁদা দিতে হচ্ছে না। অবশ্য কেউ যে চাঁদা দাবি করেননি তা নয়, কিন্তু কেউ চাঁদা দাবি করলেই সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীকে কল দেন। চাঁদাবাজরা ভয়ে পালিয়ে যান।
এটি শুধু সালাউদ্দিনের একার গল্প নয়। এখন কমলাপুর এজিবি কলোনি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত সড়কের পাশের ফুটপাতের কোনো ব্যবসায়ীকে চাঁদা দিতে হচ্ছে না। তবে এ এলাকার ক্রেতারা চাঁদা বন্ধের সুফল পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন। তারা বলছেন, সড়কে চাঁদা বন্ধ হলেও পণ্যের দামে এর কোনো প্রভাব নেই। গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
এনজিওকর্মী আলাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শোনা যাচ্ছে এখন আর কোথাও চাঁদা নেই। তাহলে ব্যবসায়ীদের মানুফা আদায়ে এত বেপরোয়া ভাব কেন? আমাদের দেশের মানুষের বোধ আসবে কবে? একই ফুটপাতে একই মানের পোশাকের দামে দোকানভেদে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার পার্থক্য রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য থাকায় সবকিছুর দাম বেশি ছিল। কিন্তু এখন তো চাঁদা দিতে হয় না দোকানিকে। তাহলে দামে এতটা পার্থক্য কেন থাকবে?’
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সরকার পতনের পর থেকে সড়কে পুলিশের উপস্থিতি না থাকায় এখন আর কেউ চাঁদা চাইতে আসে না। কিন্তু কদিন আগে একটা রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে চাঁদা চাইতে এলে শিক্ষার্থী ও সেনাবাহিনীকে কল দিলে তারা পালিয়ে যায়।
এদিকে কমলাপুর এজিবি কলোনির ফুটপাতের কয়েকটি সবজির দোকান ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলো সব ধরনের সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি করলা ৫০ থেকে ৮০, বরবটি ৬০ থেকে ৭০, কচুর লতি ৫৫ থেকে ৬০, কাঁকরোল ৫৫ থেকে ৮০, ঢেঁড়শ ৪০ থেকে ৫০, গাজর ১৪০ ও প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়।
সবজি ব্যবসায়ী মাহমুদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাজারে চাঁদাবাজি না থাকলেও আমাদের খরচ কমেনি। বাড়তি দামে কেনা ও বাড়তি খরচ থাকায় সবজির দাম কিছুটা বেশি।’
এদিকে ডিমের বাজর ঘুরেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। ১৫০ টাকায় এক ডজন ডিম পাইকারি বাজারে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। তা ছাড়া পাড়া-মহল্লার কিছু কিছু দোকানে ১৬০ টাকাও প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারের অন্য ব্যবসায়ীর মতো ডিম ব্যবসায়ীরা একই কথা বলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী চাঁদার হার অনুযায়ী প্রতি পিস ডিমে ৮ থেকে ১০ পয়সা চাঁদা দিতে হতো। এখন আর সেই চাঁদা দিতে হচ্ছে না। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় বন্যায় পোলট্রি খাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ডিমের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে।
