এখন টাকা নিতে আসে না কেউ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১৩ এএম

রামপুরা থানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সামনে ভ্যানগাড়িতে করে আখের রস বিক্রি করেন মোতালেব হোসেন। বিক্রি হোক বা না হোক, প্রতিদিন ১৮০ টাকা করে চাঁদা দিতে হতো তাকে। এক মাস আগেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশকে দৈনিক হাজিরা হিসেবে চাঁদা দিতেই হতো। টাকা দিতে গড়িমসি করলে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যেত তাকে। কিন্তু গত এক মাসে তার কাছে চাঁদা চাইতে আসেনি কেউ। 

গতকাল সোমবার মেরুল বাড্ডা এলাকা থেকে রামপুরা বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের ফুটপাতের দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের আগের মতো আর চাঁদা দিতে হয় না। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর কেউ চাঁদার টাকা নেওয়া জন্য আসছে না। আগে সন্ধ্যা নামলেই পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা আসতেন চাঁদার জন্য। সেই চিত্র এখন আর নেই সড়কে। তবে এমন চাঁদাবাজমুক্ত কতক্ষণ থাকবে এটা নিয়েও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন? কারণ, ইতিমধ্যে নতুন করে অনেকে চাঁদা আদায়ের জন্য নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও চালাচ্ছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফুটপাতের দোকানগুলো অবৈধ, এ কারণেই চাঁদা নেওয়ার সুযোগ খোঁজেন অনেকে। রাজনৈতিক সরকারগুলোর সময় সেটি ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাই সেই সুযোগ কাজে লাগান। এখনো যে কেউ কেউ চেষ্টা করছেন না, তেমনটি নয়। তবে প্রতিরোধের মুখে তারা সফল হচ্ছেন না।

ফুটপাতের দোকানগুলোর মতো ফিটনেসবিহীন লেগুনাগুলো চাঁদা দিয়ে পাড়া-মহল্লার সড়কে চলাচল করত। সেই লেগুনাগুলোরও এখন আর চাঁদা দিতে হচ্ছে না বলে জানান চালক শফিক হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগে যা ইনকাম করতাম, তার অর্ধেক টাকা চলে যেত রাস্তায়। তবে এক মাস ধরে আমাদের কোনো টাকা দেওয়া লাগছে না। কেউ টাকা নিতে আসছেন না।’

রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন ফুটপাতে মাস্ক বিক্রেতা রেজাউল বলেন, ‘আগের মতো প্রতিটি মাক্সে ৩০ টাকা নেওয়া লাগছে না। এখন আমরা ১৮ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি করলেই আমাদের লাভ হচ্ছে। কারণ রাস্তায় বর্তমানে কোনো খরচ নেই।’

একই কথা বললেন লেবু দিয়ে ঠান্ডাপানির বিক্রেতা ইয়াসমিন। তিনি আরও বলেন, ‘আগে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা দেওয়া লাগত; কিন্তু এক মাস ধরে কোনো টাকা দেওয়া লাগছে না।’

তবে ভিন্ন মত প্রকাশ করলেন রামপুরা বাজারসংলগ্ন চা দোকানদার তামিম হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি জায়গায় ছোট ঘর তৈরি করে সেখানে দোকানের ব্যবস্থা করে দেন এখানকার ছাত্রলীগের এক নেতা। তাকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হয়। এ ছাড়া আমার দোকান থেকে অন্য কোনো টাকা দিতে হয় না। তবে এখন কাকে টাকা দেব, তা জানি না। দোকান এখানে থাকবে কি না তা নিয়েও চিন্তায় আছি।’

একই অবস্থা রাস্তার পাশের বাকরখানির দোকানদার রাশেদ মিয়ারও। তিনি বলেন, ‘এই দোকান থেকে আগে সন্ধ্যার পর প্রায় সময় ১০০ টাকা নিয়ে যাইতেন। কিন্তু এক মাস ধরে এ রকম কোনো টাকা দেওয়া লাগছে না। তবে আমি এখানকার কর্মচারী, মালিক হয়তো ভাড়া বাবদ এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কিছু টাকা দেন এখানকার নেতাকর্মীদের।’

চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যমসারির দুজন নেতা দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন, ‘পটপরিবর্তনের আগে এই সড়কের দুই পাশের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করতেন স্থানীয় দুই কাউন্সিলর। তবে বর্তমানে তাদের কোনো খোঁজ নেই। তাই এই সড়কে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণও নেই। তাই এখন চাঁদা দিতে হচ্ছে না দোকানদারদের। তবে নতুন করে এগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। সামনে হয়তো কারও নিয়ন্ত্রণে যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত