জমি না পেলে মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন নানক

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:২২ পিএম

সাধারণ মানুষের জমি দখল না করতে পেরে তাদের ওপর বিভিন্ন সময় ক্ষমতা দিয়ে মামলা ও হয়রানি করতেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও সাবেক বস্ত্রমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। এমনকি জমির একজন ওয়ারিশ মারা গেলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে দেননি নানক। উল্টো পুলিশ দিয়ে মিথ্যা অভিযোগে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলা করেছেন।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (বিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে এমন দাবি তোলেন ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম হিরণ, হারুন আকবর ও নেহার বেগম। তারা বরিশাল নগরীর নিউ সার্কুলার রোড মুহুরী বাড়ির বাসিন্দা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কামরুল ইসলাম হিরণ বলেন, বরিশাল নগরীর নিউ সার্কুলার রোড মুহুরী বাড়ির মৃত জুলমত আলীর ওয়ারিশদের ১৩৯ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে জাহাঙ্গির কবির নানক ও তার ভাই নাসির আহমেদ লিটু। নানকের বাবা বজলুর রহমান সন্যামত বরিশাল কালেক্টরেট অফিসের কর্মচারী হওয়ার সুযোগে জুলমত আলীর নামের ১৩৯ শতাংশ জমির কাগজপত্রে গড়মিল করেন। এরপর থেকে শুরু হয় জমি দখলের পাঁয়তারা। দখলে নিতে না পেরে প্রথমে নানকের বাবা এবং পরে নানাক ও তার ভাই মিলে জমি দখলে নিতে মামলা চালিয়ে আসছে। নানক বিভিন্ন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জুলমত আলীর ওয়ারিশদের বিভিন্ন মামলায় আসামি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সিএস রেকর্ডীয় সম্পত্তি ১৮৫৯ সালে ১১ আইনে তৌজি নিলামভিত্তিক নিলাম খরিদদার বাবু ‘অশোক চন্দ্র গুপ্তের নিকট হইতে বন্দোবস্ত নিয়া ১৯৪৮ সালে আরএস রেকর্ড করে নেন। এ সময় নানকের বাবা বজলুর রহমান সন্যামত প্রথমে ১৯৫৫ সালে মামলা করেন এবং বিচারে তিনি হেরে যান। মোতালেবদের বিরুদ্ধে দখল প্রমাণে ব্যর্থ হলে নানকের বাবা দেওয়ানি মামলা রেন। যেখানে তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে মোতালেব ওরফে মোসলেম আলী হাওলাদারের বাবার নাম জুলমত আলী হাওলাদারের পরিবর্তে তহম্মদ লিখে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেন।

কামরুল ইসলাম হিরণ বলেন, দুঃখের বিষয় হল বারেক হাওলাদারের মৃত্যু হলেও তাকে পারিবারিক কবরস্থানে নানক ক্ষমতা বলে দাফন করতে পারিনি। নানক ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে পুলিশকে বাদী বানিয়ে ডাকাতি ও অস্ত্র মামলায় আমাদের আসামি করেছিল। ভুক্তভোগীরা দ্রুত জমির মামলা অবসানের পাশাপাশি এই হয়রানি করার অভিযোগে নানকের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানাতে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তার ভাই নাসির আহমেদ লিটুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের মুঠোফোনও বন্ধও পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত