সোনাগাজী হাসপাতাল

বন্যায় মোমবাতির আলোয় ৬ দিনে ৫১ শিশুর জন্ম

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:৫২ পিএম

ভয়াবহ বন্যায় বিভীষিকাময় সময় কেটেছে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লেবার ওয়ার্ডে কর্মরত ডাক্তার-নার্সদের। বন্যায় ২০ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত হাসপাতালে রেকর্ড সংখ্যক নবজাতকের জন্ম হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বন্যার সময় ছয় দিনে ৫১ জনের সফল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে।

বন্যায় পুরো সোনাগাজী উপজেলা ৫ থেকে ৭ ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। বন্যার পানিতে উপজেলার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ডুবে যায়। জীবন বাঁচাতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের ঠাই হয় আশ্রয় কেন্দ্রে। ভেঙে পড়েছিলো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ছিল না মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেটবিহীন সময়টাতে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছিলেন না অনেকেই। মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায়।

এমন পরিস্থিতিতে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত (২০-২৫ আগস্ট) ছয় দিন ধরে লেবার ওয়ার্ডে মোমবাতি ও মোবাইল টর্চের আলোয় প্রসব ও সেলাইয়ের কাজ করেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতালের নার্স লিজু আরা খাতুন।

বন্যার সময়ের ডেলিভারিগুলোর স্মৃতিচারণ করার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে নার্স লিজু আরা বলেন, কখনো মোমবাতির আলোতে, কখনো রোগীর স্বজনদের সাথে করে নিয়ে আসা টর্চলাইটের আলোয়, আবার কখনো কখনো মোবাইলের আলোতে ঝুঁকি নিয়ে ডেলিভারিগুলো সম্পন্ন করেছি। এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি চাকরি জীবনে কখনো হয়নি।

লেবার ওয়ার্ডের ইনচার্জ রেজিয়া বেগম বলেন, ২০ আগস্ট রাত থেকে হাসপাতালে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছয়দিন ধরে মোমবাতি কিংবা মোবাইল টর্চের আলোয় ডেলিভারি ও সেলাই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় ডেলিভারি শেষে হাত ধোয়ারও পানি পর্যন্ত পাইনি। তবুও আমরা সেবা চলমান রেখেছিলাম।

রেকর্ড সংখ্যক ডেলিভারি হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বন্যার কারণে সোনাগাজীর সাথে ফেনী ও ঢাকা চট্টগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যার কারণে আগে যেসব এলাকার লোকজন ফেনী সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতো তারাও বন্যার সময় সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সোনাগাজী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উৎপল দাশ বলেন, বন্যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ডুবে গেলেও বন্ধ ছিল না চিকিৎসা সেবা। অনেক সমস্যার মধ্যেও জরুরি বিভাগসহ  পুরো হাসপাতালে চিকিৎসা চলমান রেখেছিলাম। বন্যার সময় রেকর্ড সংখ্যক ডেলিভারি হয়েছে। চিকিৎসক নার্সরা শত প্রতিকূলতার মাঝেও চিকিৎসা সেবা অব্যহত রেখেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত