খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক রিয়াজ শাহেদের একটি চাঁদাবাজির কল রেকর্ডের অডিও-ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই কল রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে।
কল রেকর্ডে বলতে শোনা যায়, তারা নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ খালিদ আহমেদের কাছে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে। তবে ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন ও রিয়াজ শাহেদ।
চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেনকে কল রেকর্ডে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের মেইন লোক হলো রিয়াজ, হয়তো জানেন। এখন যে পজিশন, সেই পজিশনের মধ্যে ওই এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষতি করেছে, আমাদের ওই এলাকায় অনেক ক্ষতি করেছে সে। যাই হোক লোকাল পলিটিক্সে আপনি (শেখ খালিদ আহমেদ), বার বার বলতেছি যে, সে আমার ছোট বেলার বন্ধু, সে যেন না আসে। তার ব্যাপারটি একটু দেখতি হবে নে, যেন না ফাঁসে। ওর দিকে একটু খেয়াল-টেয়াল রাইখেন। তারপরও ওর জন্য একটু করতি হবে।’
প্রতি উত্তরে আরেকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাই কী করতে হবে, বলেন না? ও তো আমার ভাই, বন্ধু সমস্যা নেই। কী করতে হবে বললি, আমার জন্য একটু সুবিধা হয়। তখন হোসেনকে বলতে শোনা যায়, কিছু হেল্প করা লাগবে। পাশ থেকে ফিসফিসিয়ে আরেকজন বলে দুই লাখ টাকা দিতে হবে।’
এ সময় শফিকুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন তো কম-বেশি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ম্যানেজ করা লাগবে।’ অপর ফোন থেকে বলা হয়, ‘আপনি বলেন, আপনি বললে আমার মনটা ঠাণ্ডা হয়ে যায়’। এ সময় শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘লাখ দুই টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েন’। এর উত্তরে সে বলে, ‘আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি ভাই, কোনো সমস্যা নেই’।
এরপর শফিকুল ইসলাম যার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তার আরেকটি ফোনে শোনা যায়, ‘ভাইকে অনেক কষ্টে ম্যানেজ করেছি। তুই ওইটা ম্যানেজ কর বন্ধু’। তখন সে জানতে চায়, ‘তোকে কে ফোন দিয়েছিল’। সে উত্তরে বলে ‘উনি হলেন, আমাদের মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন ভাই। খবরদার কারো কাছে নাম বলবি না। বললে অসুবিধা আছে। তখন সে বলে না কারো কাছে বলব না দোস্ত’।
কল রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক রিয়াজ শাহেদ বলেন, ‘কল রেকর্ডটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নানামুখী ষড়যন্ত্র করছে একটি স্বার্থন্বেষী মহল। যারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তারাই এখন আমার রাজনৈতিক ইমেজ নষ্ট করতে বেনামে অপপ্রচারে পোস্টারিং করছে। তাতেও ক্ষ্যান্ত না হয়ে অডিও ক্লিপ বানিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। এই রেকর্ড ভয়েস নকল করার অ্যাপস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে ৬০/৭০ ভাগ মিল থাকলেও বাকি কণ্ঠের মিল নেই।’
খুলনা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘অ্যাপসের মাধ্যমে ভয়েস কল নকল করে এখন এগুলো করা হচ্ছে। এই কল রেকর্ডটি একদম ফেক, মিথ্যা, নকল, বানোয়াট। আমরা একটি পরিচ্ছন্ন পরিবার। আমার নিজের ব্যবসা আছে। আর আমি দুই লাখ টাকা চাঁদা এটা কেউ বিশ্বাসও করবে না। আমি প্রতিবাদও দিয়েছি। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেন,‘আমি মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক রিয়াজ শাহেদের কল রেকর্ডটি শুনেছি। বুধবার রাতেই তাদের শোকজ করা হয়েছে। তাদের কৈফিয়ত সন্তোষজনক না হলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’
দিনে ঝগড়া, রাতে স্বামীর অণ্ডকোষ কেটে দিলেন স্ত্রী
গণভবনকে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিল সরকার