নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হওয়ার মত যোগ্য শিক্ষক নেই উল্লেখ করে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে যোগ্য উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ গেইটের সামনে প্রেস ব্রিফিংকালে শিক্ষার্থীরা এসব কথা জানায়।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর, প্রক্টরিয়াল বডি, প্রোভস্ট বডিসহ, একাডেমিক দায়িত্বেরও কেউ কেউ নিজ নিজ অপরাধের দায়ে পদত্যাগ করেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, আবু সাঈদ হত্যার বিচার শুরু হচ্ছে না, আহতদের সুনিশ্চিত চিকিৎসা দেয়াও হচ্ছে না এমন অনেক কিছুই হচ্ছে না। এমতাবস্থায় বেরোবিতে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানাই।
প্রেস ব্রিফিংকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উদিত হয়েছে নতুন এক স্বাধীনতার সূর্য এবং শুরু হয়েছে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার। দেশ- সংস্কারের সুশৃঙ্খল ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে, এই গণ অভ্যুত্থানের স্পৃহাবিন্দু শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের বিচার, আহত সকল শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর সকল শিক্ষার্থী একজন ভাইস চ্যান্সেলরের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছে।
তারা আরও বলেন, এ অবস্থায় অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর জন্য যোগ্য, মেরুদণ্ড সম্পন্ন এবং বিশ্বমানের পাঠ-পরিকল্পনার সাথে সংযুক্ত এমন একজনকে ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দিতে হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবির) ভাইস চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করা মতো নিজ ক্যাম্পাসের উপযুক্ত কেউ নেই।
এ সময় তারা বলেন, যেদিন আমাদের শহীদ আবু সাঈদ এই রাস্তায়, রণাঙ্গনে শহীদ হয় সেদিন কোনো শিক্ষক, ভিসি, প্রক্টরিয়াল বডি, প্রশাসনের কেউ সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে ছিলেন না। সেই জায়গা থেকে ভিসির মতো পদে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছি।
