ক্যারিয়ারের শুরুতে যা অনুসরণ করবেন

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৩০ এএম

অধিকাংশ শিক্ষার্থীই শিক্ষাজীবন শেষ করে পেশাজীবন শুরু করেন। অনেকেই পড়াশোনা চলাকালেই আয়-উপার্জনের চেষ্টা করেন। অনেকেই আবার চাকরিজীবনে থেকেও অপেক্ষাকৃত ভালো জবের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। ক্যারিয়ার আর পড়াশোনা চলে সমান তালে। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতে যদি কিছু বিষয় অনুসরণ না করেন তাহলে হোঁচট খেতে পারেন। লিখেছেন এনাম-উজ-জামান

লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্য নির্ধারণ করা। শিক্ষাজীবন থেকে পেশাজীবনে প্রবেশের এ সন্ধিক্ষণেও আপনাকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এর ফলে কাজে বেশি মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে। ক্যারিয়ার শুরুর কতদিন পর আপনি কোন অবস্থানে থাকতে চান তার একটি তালিকা তৈরি করুন। নির্দিষ্ট সময় পরপর তালিকা নিয়ে বসুন, মূল্যায়ন করুন। লক্ষ্যের দিকে কতটুকু এগিয়েছেন তা বিচার করুন।

লক্ষ্য থেকে দূরে থাকলে এই দূরত্ব অতিক্রম করতে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে তা নির্ধারণ করুন। আপনার অবস্থানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করছেন তাদের অবস্থা দেখুন। তাদের বেতন, শ্রম এগুলো বিবেচনা করে মূল্যায়ন করুন যে, আপনি কোন অবস্থানে আছেন।

প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার লক্ষ্য কতটা সংগতিপূর্ণ

আপনি উচ্চাভিলাষী হলে শুধু হবে না, আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন সে প্রতিষ্ঠানটিও উচ্চাভিলাষী কিনা তা পর্যবেক্ষণ করুন। কারণ আপনি একা সফল হতে পারবেন না। একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অর্থ হলো প্রতিষ্ঠানের অংশ হয়ে ওঠা। এ অবস্থায় বিচ্ছিন্নভাবে একা একা সফল হওয়া যায় না। তাই আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিবেশ, লক্ষ্য, উচ্চাভিলাষ আপনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য কিনা তা লক্ষ্য করুন। যদি প্রতিষ্ঠানটি সমমনা না হয়ে থাকে তাহলে আপনি বিকল্প চিন্তা করতে হতে পারে।

সফলদের পরামর্শ গ্রহণ করুন

সফল হতে হলে সফলদের পরামর্শ গ্রহণ করুন। আপনি যে পথ পাড়ি দিতে শুরু করেছেন তারা যেহেতু সেই পথ আগেই চলেছেন তাই কীভাবে চলতে হবে সে সম্পর্কে তারা আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন। ঠকে শেখার থেকে দেখে শেখা অর্থাৎ অন্যের কাছ থেকে দেখে, জেনে, শুনে শেখা সবসময়ই নিরাপদ। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। তাদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা সমাধানের কৌশল ইত্যাদি পথ চলতে আপনাকে সাহায্য করবে।

তত্ত্বীয় জ্ঞান ঝালাই করুন

শিক্ষাজীবন শেষ হলেও শেখা কোনো শেষ নেই। পেশাজীবনে তত্ত্বীয় জ্ঞান আপনার বিশ্বস্ত বন্ধু। এমন তো হতেই পারে যে, প্রথম বর্ষে পড়া অনেক কিছু আপনি বিস্মৃতপ্রায়। সে সম্পর্কিত কোনো কাজ সামনে এলে তত্ত্বীয় জ্ঞানটি ঝালাই করে নিতে ভুলবেন না। তত্ত্বীয় জ্ঞান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা এ দুইয়ের মিশেলে কাজটি যেমন নিখুঁত হবে তেমনি এ বিষয়টিও আপনার স্মৃতিতে গেঁথে যাবে চিরদিনের জন্য। নিজের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্যও আপনাকে নখদর্পণে রাখতে হবে। তবেই আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনি ভালোভাবে পালন করতে পারবেন।

নতুন নতুন বিষয় শিখুন

ক্যারিয়ারে ভালো করতে হলে নতুন নতুন বিষয় শেখার কোনো বিকল্প নেই। যোগাযোগ দক্ষতা, কার্যকৌশল, আপনার কাজ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সফটওয়্যার সম্পর্কে নতুন যেকোনো বিষয় আগ্রহের সঙ্গে শেখার অভ্যাস করুন।

ভারসাম্য বজায় রাখুন

যদি চাকরি বা পেশাজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান তাহলে ক্যারিয়ার ও পড়াশোনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা আপনাকে করতেই হবে। নইলে আপনি যেকোনো সময় একটি বা উভয়ই হারাতে পারেন। যদি আপনার লক্ষ্য হয়ে থাকে অপেক্ষাকৃত ভালো জবের জন্য প্রস্তুতি তাহলে সেদিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। কোচিংয়ের সাহায্য নিতে পারেন। যদি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করেন তাহলে অবশ্যই পড়াশোনা ও ক্লাস নিয়মিত করতে হবে। আর যদি ক্যারিয়ারেই মনোযোগ দিতে চান তাহলে কোম্পানির সঙ্গে একাত্ম হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত