সংস্কার স্বপ্নের এক মাস

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৫২ পিএম

ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর তিন দিন পর আজ থেকে ঠিক এক মাস আগে ৮ আগস্ট দেশের হাল ধরে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রথমে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরে এই সরকারে যোগ দেন আরও চার উপদেষ্টা। সবমিলিয়ে ২১ সদস্যের এই সরকারের পথচলার আজ এক মাস পূর্তি হলো।

অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব নেওয়া সরকারকে শুরুতেই যথেষ্ট সময় ব্যয় করতে হচ্ছে বিগত সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিরসনের কাজে। এ ছাড়া ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের আর্থিক খাতসহ বেশকিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে সুশাসন ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার। আর্থিক খাতে সংস্কারের অংশ হিসেবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এমন একজন ব্যক্তিকে গর্ভনর পদে নিয়োগসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদগুলোতে আনা হয়েছে পরিবর্তন। পাশাপাশি অনেকগুলো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদল করা হয়েছে। যেগুলো আগে ছিল বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। এ ছাড়া বিগত সরকারের আমলে আর্থিক খাতের কেলেঙ্কারি উদঘাটন ও শ্বেতপত্র প্রকাশের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যাংক খাত সংস্কারে সিদ্ধান্ত হয়েছে আলাদা কমিশন গঠনের। সেইসঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, অনিয়ম-জালিয়াতির ঋণ ও পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার।

গত এক মাসে প্রশাসনের শীর্ষপদে ব্যাপক রদবদলের ঘটনা ঘটেছে, যা এখনো চলছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা সচিবদের সৃষ্টিশীল নাগরিকবান্ধব মানসিকতা নিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির কর্মপরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যা নিয়মিত মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুরনো চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল উপায়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সচিবদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ ছাড়া দুর্নীতির লাগাম টানতে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব বিবরণী জমারও নির্দেশ এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক মাস পূর্তিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর বার্তা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এতে তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ বিপ্লবীরা দেশের মানুষের মনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন জাগিয়ে দিয়েছে, তা পূরণে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। শহীদদের আত্মত্যাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তন করতে চাই। এক নতুন যুগের সূচনা করতে চাই।’

সরকার পতনের পর অধিকাংশ স্থানীয় জনপ্রতিধি গা-ঢাকা দেওয়ায় তাদের অপসারণ করে বসানো হয়েছে প্রশাসক। কর্মবিরতি ও হামলার ভয় কাটিয়ে আবারও কাজে ফিরেছে পুলিশ। পোশাক ও লোগো পরিবর্তনসহ নানা সংস্কারের মাধ্যমে এই বাহিনীকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নতুন সরকার।

সরকার পরিবর্তনের ছোঁয়ায় দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রেও নানান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে নতুনদের।

এদিকে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আমলের এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে হচ্ছে একের পর এক মামলা হতে দেখা যাচ্ছে, গ্রেপ্তারও হয়েছেন অনেকে।

অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একাধিক মামলার সাজা বাতিল করা হয়েছে। মুক্তি দেওয়া হয়েছে কারাগারে বন্দি বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। সেইসঙ্গে জামিন দেওয়া হয়েছে জঙ্গি কার্যক্রমসহ গুরুতর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে, যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি, আধাসরকারি, এমনকি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ছেন, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, অপমান-অপদস্থসহ নানা চাপের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। যা নিয়েও আছে সমালোচনা।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সবমিলিয়ে প্রথম এক মাসে সরকারের নেওয়া অনেক পদক্ষেপই ইতিবাচক।

আর্থিক খাত সংস্কারে উদ্যোগ : আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ব্যাংকিং খাতে ‘নজিরবিহীন লুটপাট’ হয়েছে উল্লেখ করে এ খাতকে স্থিতিশীল করার জন্য পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। ব্যাংকিং খাতের টেকসই সংস্কারে ইতিমধ্যেই আলাদা ব্যাংকিং কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। খুব শিগগিরই কমিশন গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ‘লুটপাটে’র শিকার হওয়া বেশ কিছু ব্যাংকের আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে প্রধান করে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান : ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারি কোনো কাজে যেন আর দুর্নীতি না হয়, সেটি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। দুর্নীতির অভিযোগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় অর্ধশত মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই ধরনের অভিযোগে তদন্ত হচ্ছে কয়েক ডজন আমলার বিরুদ্ধে। গত দেড় দশকে বাংলাদেশ থেকে যত অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, সেগুলো ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল : অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর গত এক মাসে প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে ব্যাপক রদবদল হতে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নতুন করে বদলি, পদায়ন ও নিয়োগ করা হয়েছে কয়েকশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে। অনেকেই হয়েছেন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওএসডি)। বেশ কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরেও পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই অনেকে বাদ পড়েছেন।

বিচার বিভাগে বড় পরিবর্তন : আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর বিচার বিভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটতে দেখা গেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির মুখে গত ১০ আগস্ট পদত্যাগে বাধ্য হন আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিরাও তার সঙ্গে পদত্যাগ করেন। এ ঘটনার পর নতুন বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন আপিল বিভাগের বিচারক সৈয়দ রেফাত আহমেদ। একইভাবে আপিল বিভাগে নতুন আরও চার বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

গুমের ঘটনা তদন্তে কমিশন : আওয়ামী লীগ আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়া বা গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেকেরই খোঁজ মিলছে সরকার পরিবর্তনের পর। আগের সরকারের নির্দেশেই বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা তাদের তুলে নিয়ে বছরের পর বছর আটকে রেখেছিলেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন। ফলে শেখ হাসিনার শাসনামলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ যত মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের স্বজনরাও এখন আশায় বুক বাঁধছেন। তাদের দাবির মুখে সম্প্রতি পাঁচ সদস্যের একটি গুম তদন্ত কমিশন গঠন করেছে সরকার।

পুলিশের থানায় ফেরা : গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন এলাকার বহু থানায় নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সারা দেশের ৬৩৯টি থানার মধ্যে অন্তত ৪৫০টি ‘আক্রান্ত’ হয়েছিল। ভাঙচুর করে থানা জ্বালিয়ে দেওয়া, অস্ত্র ও মালামাল লুট, এমনকি পুলিশ হত্যার ঘটনাও তখন ঘটতে দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে কর্মস্থলে নিরাপত্তা, পুলিশ হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণসহ বেশকিছু দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা। তবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সারা দেশে ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। ১১ আগস্ট কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে থানায় ফেরেন পুলিশ সদস্যরা। যদিও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পদত্যাগের হিড়িক : শেখ হাসিনার পতনের পর সরকারি, আধাসরকারি, এমনকি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় পদ ছাড়ছেন, আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, অপমান-অপদস্থসহ নানা চাপের মুখে কর্তা-ব্যক্তিরা পদত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত চার সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ শীর্ষ পদের ব্যক্তিরা দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ড. ইউনূস ও খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল : আওয়ামী লীগ শাসনামলে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরজাহান বেগমকে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার আগের দিন তাদের দুজনেরই সাজা বাতিল করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একইভাবে তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অর্থ আত্মসাতের মামলা থেকেও সম্প্রতি খালাস পেয়েছেন।

অন্যদিকে শেখ হাসিনার আমলে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের জেল দেওয়া হয়েছিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। কিন্তু সরকার পতনের এক দিন পরেই রাষ্ট্রপতি তার সাজা মওকুফ করে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ছাড়া মানহানির অভিযোগে করা পাঁচটি মামলা থেকেও খালাস পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন গত দেড় দশকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি বিএনপি, জামায়াত ও তাদের সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী। এ ছাড়া জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জঙ্গিবাদের অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দীন রাহমানী এবং হত্যা মামলার আলোচিত কয়েকজন আসামিও। কারামুক্ত হয়েছে তালিকাভুক্ত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীও।

শেখ হাসিনাসহ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে মামলা : দুর্নীতি, হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ নানান অভিযোগ থাকার পরও গত দেড় দশকে যাদের বিরুদ্ধে সেভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি, আগের সরকারের সেইসব ‘প্রভাবশালী’ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন মামলা হতে দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই শতাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। যেগুলোর বেশিরভাগই হত্যা মামলা। একইভাবে আসামি হয়েছেন সজীব ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানাসহ আওয়ামী লীগ সভাপতির পরিবার ও নিকট আত্মীয়দের অনেকে।

শিক্ষা খাতে যত পরিবর্তন : সরকার পরিবর্তনের ছোঁয়ায় বাংলাদেশের শিক্ষা ক্ষেত্রেও নানা পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছর নবম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন তুলে দিয়ে নতুন যে শিক্ষাক্রম আওয়ামী লীগ সরকার চালু করেছিল, অন্তর্বর্তী সরকার সেটিতে সংস্কার এনে আবারও বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জনপ্রতিনিধিদের জায়গায় প্রশাসক : শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা মেয়র ও চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পটপরিবর্তনের পর সরকার সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে কিংবা পরিষদে না যাওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহতের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সক্রিয় জামায়াত : ক্ষমতা হারানোর চার দিন আগে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ নম্বর ধারায় ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ ও তাদের ছাত্র সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রশিবির’কে নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় বসার তৃতীয় সপ্তাহে এসে সিদ্ধান্ত বদলে গেছে। বাতিল করা হয়েছে আগের প্রজ্ঞাপন। ফলে দলটির নেতাকর্মীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সারা দেশের পাড়া-মহল্লায় তাদের জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে।

১৫ আগস্টের ছুটি বাতিল : ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা নেওয়ার পর গত দেড় দশক ধরে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিন ১৫ আগস্টে সারা দেশে ব্যাপক আয়োজনে শোকদিবস পালিত হতে দেখা গেছে। জাতীয় দিবস হিসেবে ওইদিন সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেটিও বদলে গেছে। শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

নানা দাবিতে বিক্ষোভ-ঘেরাও : ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী প্রায় তিন সপ্তাহ জুড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নানা দাবিতে একের পর এক বিক্ষোভ-আন্দোলন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের বিক্ষোভ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত