জালিয়াতিতে সিদ্ধহস্ত বোরহান-মিথুন চক্র 

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:০০ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) কয়েকজন প্রকৌশলীকে নিয়ে চক্র গড়ে তুলেছিলেন সংস্থাটির সদ্য সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। এ চক্রের মাধ্যমে কয়েকশ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। এ চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন সংস্থাটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) কাজী বোরহান উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনিছুর রহমান ও অঞ্চল-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মিথুন চন্দ্র শীলসহ আরও বেশ কয়েকজন।

ডিএসসিসির সঙ্গে নতুন সংযুক্ত ‘অনুন্নত’ এলাকার সড়ক উন্নয়নে ‘শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল ও সারুলিয়া এলাকা সড়ক অবকাঠামো এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ১৭৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। ২০১৭ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ দেখানো হয় ২০১৯ সালে। কাগজপত্রে কাজ শেষ দেখানোর সময় অনেক কাজ বাকি ছিল। যে কাজ শেষ করতে আরও সময় নেন প্রকল্প পরিচালক বোরহান উদ্দিন ও নির্বাহী প্রকৌশলী মিথুন চন্দ্র শীল।

সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত এত বড় বাজেটের সড়ক নির্মাণের পর পাঁচ-সাত বছরের মধ্যে কোনো সংস্কারকাজ করতে হয় না। কিন্তু এই প্রকল্পের এমন অবস্থা করেছে যে, একদিক দিয়ে নির্মাণকাজ চলেছে অন্যদিকে ভেঙে গেছে। এক-দেড় বছরের মাথায় সড়ক খানাখন্দ দেখা দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনগণ বেশ বড় আকারে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ প্রকল্পে অন্তত ১৫৪ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এরপরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ডিএসসিসি। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ডিএসসিসিকে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়।

সেই চিঠির আলোকে গত ৫ মে সংস্থাটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছিম আহমেদের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি করে ডিএসসিসি। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত তা দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বোরহান ও মিথুন সাবেক মেয়র শেখ তাপসের ঘনিষ্ঠদের ম্যানেজ করে ওই প্রতিবেদন ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, ওপরের নির্দেশেই তদন্তে বিলম্ব করেছেন তারা। এ ছাড়া ‘নাসিরাবাদ, ডেমরা ও মান্ডা এলাকার সড়ক অবকাঠামো এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের (প্যাকেজ-১৭) বিল ও জামানত পরিশোধের জন্য মিথ্যা, প্রতারণামূলক প্রত্যয়ন ও জালিয়াতি ধরা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ডিএসসিসি। এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়। কিন্তু গত চার মাসেও এ প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার ও এ দুই প্রকৌশলী মিলে এ তদন্তও ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন।

আরও পড়ুন

 

 
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত