নানা ইস্যুতে তর্ক-বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও বাক্যবাণে জর্জরিতের পর শেষ হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মূল দুই প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিসের সরাসরি বিতর্ক। ৯০ মিনিটের বিতর্ক জুড়েই একে অপরকে দোষারোপ করে গেছেন দুজন।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার) বিতর্ক শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে ১০টায়। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজের আয়োজনে বিতর্কটি শুরু হয়।
বিতর্ক মঞ্চে প্রবেশ করেই ট্রাম্পের দিকে এগিয়ে যান এবং হাত বাড়িয়ে দেন কমলা। একে ওপরের সাথে করমর্দন করেন ট্রাম্প ও হ্যারিস। অর্থনীতি দিয়েই বিতর্কের শুরু করেন তাঁরা।
পুরো বিতর্ক জুড়ে একে অপরকে দোষারোপ, আক্রমণ ও প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন ট্রাম্প ও কমলা। এমনকি কমলাকে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ভাইস প্রেসিডেন্ট বলে অভিহিত করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বিতর্কের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ও কমলা একে অপরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। বিশ্ব এবং সামরিক নেতারা ট্রাম্পকে সম্মান করেন না বলে মন্তব্য করেন কমলা। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হ্যারিসকে সমর্থন করায় বাইডেন তাকে (হ্যারিসকে) ঘৃণা করেন বলে মন্তব্য করে বসেন ট্রাম্প।
বিবিসি বলছে, মূল্যস্ফীতি, অভিবাসন এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলোতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য স্পষ্ট ধারণা নিয়ে বিতর্কে এসেছিলেন হ্যারিস। বিতর্কের অনেক অংশেই ট্রাম্প হ্যারিসের ভুল ধরতে অক্ষম ছিলেন। যার ফলে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন হ্যারিসকে।
অন্যদিকে কমলা অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য খাতে কোন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হতে পারেননি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিতর্কে ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেন এটি।
তবে সবার মনেই প্রশ্ন, বিতর্কে জিতল কে বা এগিয়ে রইল কে? ট্রাম্প নাকি কমলা? যদিও রিপাবলকান ও ডেমোক্র্যাট দুই প্রার্থীর সমর্থকরাই তাদের নিজ নিজ প্রার্থীকে বিতর্কে এগিয়ে রেখেছেন। নিজেদের প্রার্থীকেই জয়ী ঘোষণা করছে দুই দল।
তবে কমলা হ্যারিস ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিতর্কে জয়ী হয়েছেন বলে জানান, টিভি নেটওয়ার্ক ফক্স নিউজের কয়েকজন ভাষ্যকার। ফক্সের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিট হিউম বলেছেন, "কমলা ভালভাবে প্রস্তুত ছিলেন এবং তিনি কোথায় যাচ্ছেন তা জানতেন।" হিউম আরও বলেন যে হ্যারিস বিতর্কের বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্পকে লাইনচ্যুত করতে সক্ষম হয়েছেন।
অন্যদিকে পপ তারকা টেলর সুইফটের সমর্থন পেয়েছেন কমলা হ্যারিস। ইনস্ট্রাগ্রামে এক পোস্টে টেলর লিখেছেন, ‘আমি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিস ও টিম ওয়ালজকে ভোট দেব।’
ট্রাম্প এই বিতর্ককে তার সেরা বিতর্ক পারফরম্যান্স বলে মন্তব্য করেছেন নিজসও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে।
