মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, ২০২০ সালের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন বড় ধরনের হস্তক্ষেপ করেছিল এবং দেশটির প্রায় ২২ কোটি (২২০ মিলিয়ন) ভোটারের ফাইল হাতিয়ে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিশেষ প্রাইম-টাইম ভাষণে তিনি এই দাবি করেন এবং এ সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা নথি অবমুক্ত (ডিক্লাসিফাই) করার ঘোষণা দেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প।
তবে ২০২১ সালে প্রকাশিত মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা কিংবা নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে কোনো বিদেশি শক্তি প্রযুক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করেছে বা তাতে সফল হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ওই প্রতিবেদনটি তৎকালীন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জন র্যাটক্লিফের নেতৃত্বে প্রস্তুত করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, অন্তত ২০০৮ সাল থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটার, জনমত, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে আসছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের হাতে থাকা ভোটারদের তথ্য গোপনীয় ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবেই এ ধরনের ভোটার তালিকা কিনে থাকে। ফলে এসব তথ্য ব্যবহার করে কোনো নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, চীন সংক্রান্ত এসব তথ্য প্রকাশ জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেছেন, চীন কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
ভিসা নিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের দুঃসংবাদ দিল যুক্তরাষ্ট্র