ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় লেনদেন কমেছে ৩৩ হাজার কোটি

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:৪১ এএম

গত জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কয়েক দিন ইন্টারনেট বন্ধ ও ধীরগতির বড় প্রভাব পড়েছে অর্থ লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যম মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। এক মাসের ব্যবধানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন কমেছে ২১ শতাংশের বেশি। শুধু জুলাইয়ে আগের মাসের তুলনায় এ মাধ্যমে লেনদেন কমেছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের জুলাই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। আর আগের মাস জুনে এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে জুনের তুলনায় জুলাই মাসে লেনদেন কমেছে ৩২ হাজার ৯১২ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ২১ শতাংশেরও বেশি।

ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্র করে জুলাইয়ের ১৯ তারিখ থেকে টানা পাঁচ দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা। মোবাইল নেটওয়ার্কও ছিল খুবই নাজুক। ফলে মোবাইল ব্যাংকিংসহ অর্থ লেনদেনের অধিকাংশ সেবাই ছিল বন্ধ।

প্রতিবেদন বলছে, জুলাই মাসে এমএফএসগুলোতে জমা (ক্যাশ ইন) হয়েছে ৩৫ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। আর আগের মাস জুনে এমএফএসগুলোতে জমা (ক্যাশ ইন) হয়েছিল ৪৩ হাজার ৫৬২ কোটি। সেই হিসাবে জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ক্যাশ ইন কম হয়েছে ৮ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া জুলাই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলন (ক্যাশ আউট) হয়েছে ৪০ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। তার আগের মাসে এমএফএসের মাধ্যমে উত্তোলন (ক্যাশ আউট) হয়েছিল ৫১ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। সেই হিসাবে জুনের তুলনায় জুলাই মাসে ক্যাশ আউট কম হয়েছে ১১ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া জুলাই মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, যা জুন মাসে ছিল ৩ হাজার ২২৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ কমেছে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা। একইভাবে কমেছে রেমিট্যান্স আহরণ। যেখানে জুন মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসীরা ৯৯৪ কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৭১৪ কোটি টাকা। কমেছে প্রায় পৌনে ২০০ কোটি টাকা।

তবে লেনদেন কমলেও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে হিসাবসংখ্যা। চলতি বছরের জুলাই মাসে হিসাবসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৩১ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬টিতে। জুন মাসে হিসাবসংখ্যা ছিল ২৩ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ২০৬টি। সে হিসাবে হিসাবসংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৫০টি। নিবন্ধিত এসব হিসাবের মধ্যে পুরুষ গ্রাহকের হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩৩ ও নারী গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৭১ লাখ ৮ হাজার ৪৮০টি। এসব হিসাবের মধ্যে শহরের হিসাবসংখ্যা হলো ১০ কোটি ৯৮ লাখ ২ হাজার ৬৫৯ এবং গ্রামের হিসাবসংখ্যা হলো ১২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৪।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) যাত্রা শুরু হয়। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এরপর ‘নগদ’-এর অবস্থান। লেনদেন ছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবামূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, মাই ক্যাশ, শিওর ক্যাশসহ নানা নামে ১৩টির মতো ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান এমএফএস সেবা দিচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত