বরগুনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়কের গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় উভয় পক্ষের ৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চলমান ছাত্র-জনতা মৈত্রী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বরগুনার বিভিন্ন উপজেলার সমন্বয়কদের সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিনিময় সভা চলাকালীন সময় এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বরগুনা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা হয়। পুলিশ ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ একজনকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বৃহত্তর বরিশাল জোনের বিভাগীয় ছাত্র জনতা মৈত্রী সফরের অংশ হিসেবে বরগুনার শিল্পকলা একাডেমীতে উপজেলা প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। মতবিনিময় সভার এক পর্যায়ে বরগুনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দাবি করা মীর নিলয়কে ছাত্রলীগের দোসর আখ্যায়িত করে সমন্বয়ক রেজাউল করিমের গ্রুপের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে স্থগিত হয়ে যায় প্রথম পর্বের মতবিনিময় সভা। পরে পুলিশ ও নৌ-বাহিনীর সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে বিকাল তিনটায় দ্বিতীয় পর্বের সভা শুরু হলে পুনরায় বাকবিতণ্ডায় জড়ায় দুই পক্ষ।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আমরা কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছিলাম, আমরা স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করেছিলাম। এখন সবাই ক্ষমতার লোভে সমন্বয়ক হতে চায়। সমন্বয়কদের দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের প্রতি অনুরোধ থাকবে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বরগুনার এই ঝামেলা নিরসন করা হোক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. রেজাউল বলেন, মীর নিলয় একজন ছাত্রলীগ কর্মী ছিল। সেখান থেকে এখন সমন্বয়ক সাজছে।
মীর নিলয় বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ইন্ধনে কয়েকজন শিক্ষার্থী আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করছেন। আমি শুরু থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলাম, এখনো যুক্ত রয়েছি। ছাত্রদের আন্দোলকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
বরগুনা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম মিঞা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি সফল করার জন্য দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের কর্মসূচি পালন করতে পারে সেজন্য আমরা পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। এখানে কারা সঠিক সমন্বয়ক আর কারা সমন্বয়ক নয় সেটি আমাদের দেখার বিষয় না। কেন্দ্র থেকে যারা এসেছে তাদেরকেই আমরা প্রটেকশন দিচ্ছি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রোগ্রামে আমরা নিরাপত্তা প্রদান করছি। প্রথম পর্বে দুই পক্ষের মধ্যে একটু উত্তেজিত পরিস্থিতি হলেও এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে আমরা যখন গেট থেকে সবাইকে তল্লাশি করে ভেতরে ঢোকাচ্ছিলাম তখন একজনের কাছ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। চাপাতি থাকা ব্যক্তিকে আমরা পুলিশি হেফাজতে নিয়েছি। যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
