ছাত্রশিবিরকে সবার চেয়ে ভালো হওয়ার আহ্বান

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৩৭ পিএম

ছাত্রশিবিরের সবাইকে তার ক্যাম্পাসে, তার ক্লাসরুমে কিংবা তার শিক্ষকের কাছে সবচেয়ে ভালো হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জেনারেল জাহিদুল ইসলাম। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহী মহানগর শিবিরের সাথী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্রশিবিরের সাথী ভাইদের সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে তৈরি করতে হবে। যিনি যে লেভেলে আছেন তার একাডেমিক রেজাল্ট সামনের দিনে অবশ্যই ভালো হতে হবে। যারা একাডেমিক রেজাল্ট ভালো করতে পারবে না ছাত্রশিবিরের সাথে আপনি সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে দেন। ছাত্রশিবির তার ক্যাম্পাসে, তার ক্লাসরুমে, তার শিক্ষকের কাছে সবচেয়ে ভালো হতে হবে।

ছাত্রশিবির সেক্রেটারী আরও বলেন, গত ১৫ বছর ফ্যাসিজম কায়েমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যেটি বেশি ভূমিকা রেখেছে সেটি ছিল ট্যাগিংয়ের রাজনীতি। কথায় কথায় রাজাকার! তার বাবারই জন্ম হয়নি ৭১ সালে, অথচ সে সন্তানকে আপনি রাজাকার বলেন। কথায় কথায় শিবির! কেমন শিবির? নামাজ পড়লে শিবির। সে দাঁড়ি রাখছে এজন্য সে শিবির। সে টাকনুর উপরে প্যান্ট পরে এজন্য সে শিবির। সে মেয়েদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে না এজন্য সে শিবির। সে মাদকাসক্ত হয় না এজন্য সে শিবির। কত নির্মম এই রাষ্ট্র!

বিশ্বজিৎ-আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা দেখেছি, একবার হরতাল চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে বিশ্বজিৎ নামের একজনকে কিভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, মিডিয়ার সামনে। সারাবিশ্ব দেখেছে সেই চিত্র। তাদের অভিযোগ ছিল, বিশ্বজিৎ শিবিরের হিন্দু শাখার সদস্য। কতটা হাস্যকর! কত নির্মম! আবরার ফাহাদ পানি সন্ত্রাস নিয়ে কথা বলেছিল। তাকে শিবির আখ্যায়িত করে সাপের মত পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেছেন। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের যদি চিত্র হয় এই। এটি কী দুই একটি ঘটনার মধ্যেই সিমাবদ্ধ? বাংলাদেশের প্রতিটি আনাচে কানাচে প্রতিটি অলিতে গলিতে ক্যাম্পাসের প্রতিটি রুমে রুমে হলে হলে এমন হাজার হাজার গল্প লুকায়িত আছে। তাই আমরা বলতে চাই এই ট্যাগিং এর রাজনীতি গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের ফ্যাসিজম কায়েমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এজন্য আমাদের দাবি আগামী দিনে কোনো ধরণের ট্যাগিং এর রাজনীতি চলবে না।

আমরা কাউকে প্রতিপক্ষ মনে করি না। কেউ যদি আমাদের প্রতিপক্ষ বানায় তবে তাদের প্রতি আমাদের ম্যাসেজ হলো, আদর্শকে অদর্শ দিয়ে মোকাবেলা করুন। আদর্শকে কোনো ধরনের ট্যাগিং প্রোপাগান্ডা দিয়ে মোকাবেলা করতে আসবেন না। কারণ আমরা যে আদর্শকে লালন করি এটি কোনো ওয়ার্কশপ করে বানানো আদর্শ নয়। আল্লাহর কাছ থেকে পাঠানো আদর্শ মেনে চলি। আপনি দুনিয়ার আদর্শ দিয়ে আমাকে মোকাবেলা করবেন? আপনি যদি মোকাবেলা করেন আপনাকে আমরা ওয়েলকাম করছি। কিন্তু কোনো ধরনের ট্যাগিং, প্রোপাগাণ্ডা বা মিথ্যাচার দিয়ে যারা মোকাবেলা করতে আসলে ভবিষ্যতে তাদের এই ফ্যাসিজমের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করা হবে বলেও হুশিয়ার উচ্চারণ করেন জাহিদুল ইসলাম।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি সভাপতি সিফাত উল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক সিদ্দিক আহমেদ, রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির ড. কেরামত আলী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন, রাজশাহী মহানগর শিবিরের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন, গোলাম মর্তুজা, তৌহিদুর রহমান সুইট, জসিম উদ্দিন সরকার, হাফেজ খাইরুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আব্দুল মোহাইমিন প্রমুখ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত