অভ্যুত্থান চেষ্টার দায়ে কঙ্গোয় মার্কিন নাগরিকসহ ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৯ পিএম

ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে তিন আমেরিকানসহ ৩৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, আরও ১৪ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দেশটির এক সামরিক আদালত এ আদেশ দেয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ, বেলজিয়াম, কানাডিয়ান এবং বেশ কয়েকজন কঙ্গোলিজও রয়েছেন। সন্ত্রাসবাদ, হত্যা এবং অপরাধমূলক সংগঠন তৈরির অভিযোগে তাদেরকে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মে মাসে কঙ্গোর বিরোধীদলীয় নেতা ক্রিশ্চিয়ান মালাঙ্গার অনুসারী একদল সশস্ত্র ব্যক্তি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে। এসময় দেশটির প্রেসিডেন্ট কার্যালয় তারা দখল করে নেয়। এতে ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনার পর পরই দেশটির সামরিক বাহিনী মালাঙ্গাকে হত্যা করে।

এ ঘটনায় মালাঙ্গার ২১ বছর বয়সী ছেলে মার্সেল মালাঙ্গা এবং আরও দুই মার্কিন নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মার্সেলের মা ব্রিটনি সয়্যার বলেছেন, তার ছেলে নির্দোষ এবং কেবল তার বাবাকে অনুসরণ করছিল, যিনি নিজেকে নির্বাসিত ছায়া সরকারের প্রেসিডেন্ট বলে মনে করতেন।

অন্য মার্কিনিরা হলেন টাইলার থম্পসন জুনিয়র, যিনি জুনিয়র মালাঙ্গার সঙ্গে উটাহ থেকে আফ্রিকায় এসেছিলেন। থম্পসনের পরিবার বলছে, সিনিয়র মালাঙ্গার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। রাজনৈতিক সক্রিয়তার এবং কঙ্গোতে প্রবেশের কোনো পরিকল্পনাও ছিল না। থম্পসনের সৎ মা জানান, তিনি এবং মালাঙ্গা কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইসওয়াতিনিতে ভ্রমণ করার কথা ছিল।

উন্মুক্ত সামরিক আদালতে রায় পাঠ ও সাজা ঘোষণার বিষয়টি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। গত মাসে সামরিক প্রসিকিউটর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইনোসেন্ট রাদজাবু ‘মানসিক সমস্যায়’ ভুগছেন এমন কেউ বাদে সব আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিতে বিচারকদের প্রতি অনুরোধ জানান। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে কঙ্গোতে দুই দশকেরও বেশি পুরনো স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত