সকল ধর্মমতের সহাবস্থান চাইলেন জাগ্রত জনশক্তির বক্তারা

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:১২ পিএম

দেশে মাজার ও মন্দির ভাঙার প্রতিবাদে রাজধানিতে অনুষ্ঠিত এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন থেকে বক্তারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা সকল প্রকার সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

জাগ্রত জনশক্তির আয়োজনে আজ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সুলতানশি দরবার শরীফের পীরজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ আবু খায়ের বলেন, 'আমরা যারা সুফিবাদে বিশ্বাস করি তারা শান্তিপ্রিয় মানুষ। আমরা সকল ধর্মমতের সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। কারও প্রতি প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড পছন্দ করি না। আজকের ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিলাদুন্নবীর মিছিলে হামলাসহ যারা ধর্মের নামে সহিংসতা ছড়াচ্ছে তাদের শাস্তি দাবি করছি।'

জাগ্রত জনশক্তির আহ্বায়ক সুদীপ্ত সাইদ খান বলেন, 'দেশের কিছু মানুষ ধর্মের নামে দেশকে উশৃংখল করার চেষ্টা করছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে ভিন্নমত দমন করার চেষ্টা করছে। এইসব সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'ইসলামের নানা রূপ ও মতাদর্শ আছে। সব মতাদর্শের সহাবস্থান বজায় রাখার জন্য 'সেকুলার ইসলাম' বা 'ইসলামী নিরপেক্ষতাবাদ' প্রতিষ্ঠা করতে হবে ও পরমতসহিষ্ণু মতাদর্শের প্রচার করতে হবে। সেই সাথে রাষ্ট্রকে সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।'

সাংবাদিক মাকসুদুল হক ইমু বলেন, বর্তমানে যারা সহিংসতা করছে তাদের শাস্তি দাবি জানাচ্ছি। সাথে যারা হিন্দুদের উপাসনালয় মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সুযোগ সন্ধানীরাও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।'

চলচিত্র কর্মী সিএফ জামান বলেন, এই মাজার এবং মন্দির এদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতি। এদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সেই শুরু থেকেই বসবাস করছে, আর এই পীর ও আউলিয়াদের মাধ্যমেই এদেশে ইসলাম প্রচার হয়েছে। এইসব স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আমাদের হাজার বছরের সংস্কৃতির ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমরা সকল ধর্মের সহাবস্থানে বিশ্বাস করি এবং এহেন গর্হিত হামলার নিন্দা জানাই।'

চলচ্চিত্র কর্মী জহির দিপু বলেন, 'যারা মাজারে হামলা করেছে তারা দুষ্কৃতকারী। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং একই সাথে যারা হামলায় উসকানি দিয়েছে সেই পেছনের মাস্টারমাইন্ডকেও খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এ সময় নাগরিকের গুণগত পরিবর্তন ছাড়া রাষ্ট্রের পরিবর্তন সম্ভব নয়।'

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মাহমুদ দিদার, সাংবাদিক ইসমাইল সিরাজী, অভিনেতা অরণ্য বিজয়, লেখক তানভীর আহমেদ সৃজন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত