প্রথম শ্রেণির পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের দাবি ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:১০ পিএম

সরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের জন্য প্রথম শ্রেণীর পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ এবং সরকারি পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করছে সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী পরিষদ। 

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাজধানীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ফিজিওথেরাপির শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, দাবির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। তারা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলেও ঘোষণা দেন।

এ সময় পরিষদের সমন্বয়ক মো. ফজলুল হক বাবু বলেন, ডাবল জিপিএ ৫ নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির অধীনে ৫ বছর মেয়াদি (বাধ্যতামূলক এক বছরের ইন্টার্নশিপসহ) ব্যাচেলর অব ফিজিওথেরাপি/ব্যাচেলর অব সাইন্স ইন ফিজিওথেরাপি প্রফেশনাল ডিগ্রি সম্পন্ন করার পরও সরকারিভাবে আমাদের কোনো কর্মক্ষেত্র নেই। এ ধরনের বৈষম্য আর মেনে নেওয়া যাবে না।

আরেক সমন্বয়ক মো. মোত্তাকিম বিল্লাহ ইমরান বলেন, সারা বাংলাদেশে স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। প্রতি বছর স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি আক্রান্ত হন সহস্রাধিক মানুষ। দেশে শুধু সেরেব্রাল পালসি রোগী আছে প্রায় ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫১৪ জন। এছাড়াও আরো অনেক রোগেও ফিজিওথেরাপি অপরিহার্য।

এই সমন্বয়ক বলেন, এসব রোগীদের প্রাথমিক মেডিকেল চিকিৎসার পর থেকেই দরকার হয় নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। তাদের প্যারালাইসিস থেকে মাংসপেশীর শক্তি বাড়িয়ে পূর্বের অবস্থায় নিতে , প্রতিবন্ধী শিশুদের সুস্থ জীবন উপহার দিতে সাহায্য করে ফিজিওথেরাপি। অথচ কোনো সরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার জন্য ফিজিওথেরাপিস্ট নেই। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার অভাবে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাই এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাব না।

সমন্বয়ক মো. আহমাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, ১৯৬০ সালে বাংলাদেশে অধ্যাপক ডা. আবুল হোসেনের হাত ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিজিওথেরাপি বিভাগ চালু হয়। অথচ আজ ২০২৪ সাল সরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট পদ শূন্য। 

সমন্বয়ক মো. আব্দুল্লাহ আল রুবায়েত বলেন, ১৯৯৮ সালে সরকারি অনুমোদন পাওয়া সরকারি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও বাউন্ডারি ওঠানো হলেও কলেজটি বাস্তবায়ন হয়নি। সুতরাং দাবি আদায় না হলে আমাদের ফেরার পথ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত