তাইওয়ান থেকে কেনা পেজারগুলোতে বিস্ফোরক রেখেছিল ইসরায়েল

  • পেজারগুলি তাইওয়ান-ভিত্তিক গোল্ড অ্যাপোলো থেকে আমদানি করেছে লেবানন
  • পেজারগুলোতে তিন গ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক লুকানো ছিল, সূত্রের বরাতে বলছে রয়টার্স
আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:২৬ পিএম

লেবাননজুড়ে প্রায় হাজার হাজার পেজার বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত এবং তিন হাজার জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে লেবাননে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোজতবা আমানিও রয়েছেন।

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার লেবাননজুড়ে প্রায় ৫ হাজার পেজারে বিস্ফোরণ ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

পেজার একধরনের ছোট যন্ত্র। এটি সাধারণত হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করেন।

হিজবুল্লাহর দাবি, কয়েকমাস আগে আমদানি করা পেজারগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ বিস্ফোরক স্থাপন করেছিল। গতকাল পেজার বিস্ফোরণের ঘটনার মাস কয়েক আগেই এ কাজ করেছে ইসরায়েল। 

দেশটির নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, পেজারগুলি তাইওয়ান-ভিত্তিক গোল্ড অ্যাপোলো থেকে আমদানি করেছে তাঁরা। এই কোম্পানি থেকে পাঁচ হাজার পেজার কিনতে আদেশ (ক্রয়াদেশ) দিয়েছিল হিজবুল্লাহ। চলতি বছরের শুরুর দিকে পেজারের চালানটি লেবাননে পৌঁছায়।

তবে তাইওয়ান-ভিত্তিক গোল্ড অ্যাপোলো কোম্পানিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা ডিভাইসগুলি তৈরি করেনি। বিএসি নামক একটি কোম্পানি দ্বারা ডিভাইসগুলো তৈরি করানো হয়েছিল।

গোল্ড অ্যাপোলোর প্রতিষ্ঠাতা হু চিং-কুয়াং বলেছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত পেজারগুলি ইউরোপের একটি কোম্পানি দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। তবে কোম্পানিটির নাম তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি।

তিনি জানান, “পণ্যটি আমাদের ছিল না। শুধুমাত্র এটিতে আমাদের ব্র্যান্ড ছিল।"

এদিকে এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ এসব বিস্ফোরণের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছে। সংগঠনটি বলেছে, এ জন্য ইসরায়েলকে ন্যায্য শাস্তি পেতে হবে। তবে ইসরাইল এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য করেনি।

হিজবুল্লাহর কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞাত দুটি সূত্র রয়টার্সকে চলতি বছর জানিয়েছিল যে, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরায়েলিদের ট্র্যাকিং এড়াতে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পেজার ব্যবহার করছে।

লেবাননের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র বলেছে, উৎপাদন পর্যায়েই পেজারগুলোতে পরিবর্তন (মডিফাই) এনেছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ।

একই সূত্রটি জানিয়েছে, মোসাদ যন্ত্রের (পেজার) ভেতরে একটি বোর্ড ঢুকিয়ে দিয়েছিল। এই বোর্ডে বিস্ফোরক উপাদান ছিল। এর একটি সাংকেতিক ভাষা গ্রহণের ক্ষমতা ছিল। যেকোনোভাবেই হোক, এটি শনাক্ত করা খুব কঠিন। এমনকি কোনো যন্ত্র বা স্ক্যানার দিয়েও শনাক্ত করা যায় না।

সূত্রটি বলেছে, যে তিন হাজার পেজার বিস্ফোরিত হয়েছে, সেগুলোতে বিস্ফোরণের আগে সাংকেতিক বার্তা পাঠানো হয়েছিল। এই কারণেই বিস্ফোরকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

আরেকটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, নতুন পেজারগুলোর মধ্যে তিন গ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক লুকানো ছিল। কয়েক মাসেও হিজবুল্লাহ তা শনাক্ত করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিক সাড়া পাওয়া যায়নি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত