যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পঞ্চম দফার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) থেকে শুরু হওয়া এই শান্তি আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পর্যন্ত চলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
চলমান আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্দিষ্ট 'পাইলট এলাকা' নির্ধারণ করা। এই এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) ও প্রতিরক্ষা দপ্তরে (পেন্টাগন) রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই যৌথ সেশন পরিচালিত হচ্ছে । এর মূল লক্ষ্য সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনা শুরুর ঠিক আগে হিজবুল্লাহ অভিযোগ করে যে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নাবাতিয়াহ এলাকার কাছে বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহ এ ঘটনাকে বিশ্বাসঘাতকতামূলক বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, এতে দুই বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতির একটি স্পষ্ট লঙ্ঘন যা প্রতিরোধ বাহিনী (হিজবুল্লাহ) এখন পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বৈরুত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েকেল লেইতার লেবাননে ইরানের প্রভাব এবং হিজবুল্লাহকে ভেঙে দেওয়ার প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
লেইতার বলেন, এটি পঞ্চম দফার আলোচনা এবং আমাকে বলতে হচ্ছে আমরা একটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছি। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিলাম এই শর্তে যে হিজবুল্লাহ উত্তর দিকে সরে যাবে। সেই চুক্তি কি এখনও কার্যকর রয়েছে?
লেইতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের কাছে নতুন অর্থায়ন পৌঁছালে হিজবুল্লাহ নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং সেই অর্থ ইসরায়েলবিরোধী কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে।
অন্যদিকে, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেছেন, তার সরকার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি দখলের সম্পূর্ণ অবসান ছাড়া অন্য কিছু মেনে নেবে না।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে জোসেফ আউন বলেন, আমরা নতুন একটি আলোচনায় প্রবেশ করছি যা আমাদের দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের পথে নির্ণায়ক হবে বলে আশা করি। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব সমগ্র ভূখণ্ডে বিস্তৃত করা।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।
এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।
অনলাইন জুয়ার সাজা ৭বছর কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ৫ কোটি টাকা