বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে (২০১০-২০১১ সাল) নিয়োগ পাওয়া চুক্তিভিত্তিক অ্যাডহক (অস্থায়ী) ও বিভিন্ন সময়ে চুক্তিভিত্তিক (প্রকল্প) চিকিৎসকদের অবৈধভাবে দেওয়া এনক্যাডারমেন্ট বাতিলসহ ছয় দফা পূরণের দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত চিকিৎসকরা।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসকরা।
এ সময় চিকিৎসকরা জানান, যারা মেধার ভিত্তিতে পাস করে এসেছেন, তাদের পদোন্নতির খবর নেই। অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের স্থায়ীকরণ আর পদোন্নতির ব্যবস্থা চলছে। তারা ভাবতেও পারেননি এই সরকারের আমলেও তাদের রাস্তায় থাকতে হবে। এসব এডহক চিকিৎসকদের অবৈধভাবে যদি স্থায়ীকরণ করা হয় এবং ৪২ বিসিএসের পর সিনিয়রিটি না আসে তবে স্বাস্থ্য খাতে সব চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয়ে যাবে।
সংগঠনের সদস্য সচিব ডা. উম্মে তানিয়া নাসরিন বলেন, আমরা ক্ষুব্ধ। ২০১০-১১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দলীয় ডাক্তার নিয়োগ করে। তখনকার বিসিএসের কার্যক্রম চলমান থাকলেও বিসিএস পাস ডাক্তারদের ননক্যাডার বানিয়ে দলীয় ক্যাডারদের টাকা পয়সার বিনিময়ে পুনর্বাসন করে। তারা কিভাবে এই সরকারের আমলে স্থায়ীকরণ পায়? এমনকি নিয়োগের নিয়মের ব্যত্যয় করে অবৈধ নিয়োগের দিন থেকেই তারা সিনিয়রিটি পাচ্ছে।
এই চিকিৎসক নেতা আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় স্বাধীন হয়নি। আগের সরকারের প্রেতাত্মারা কাজ করছে। বিগত সৈরাচারের কর্মকর্তারা কলকাঠি নাড়ছে।
মানববন্ধনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহাখালী ইউনিটের সদস্য সচিব ডা. তৌফিক আহমেদ বলেন, ২০১০-১১ সালে বিসিএসকে বাইপাস করে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আড়াই হাজার কর্মকর্তাকে ২০২২ সালে এনক্যাডার করা হয়। কিন্তু তাদের আবশ্যিক শর্ত পূরণ না করেই এনক্যাডার হয়েছে। এর আগেই ২০১৬ সালে তারা পদোন্নতি পেয়েছে। এটা কীভাবে তারা পেতে পারে? উপরন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিগত সময়ের অন্যায়গুলোকে প্রমার্জনার গেজেট জারি করতে যাচ্ছে।
আরেক সদস্য ডা. আপেল আনোয়ার বলেন, প্রায় শত কোটি টাকার বিনিময়ে তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এখন তাদের অবৈধ সুপারিশের মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার বানানোর জন্য উদ্ধত হয়েছে।
মানববন্ধনে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবির শুরুতেই বলা হয়, বিগত সরকারের অন্যায়গুলো বর্তমান সরকার দ্রুততার সাথে পাশ করে যাচ্ছে, আমরা কোনোভাবেই এই অন্যায় মানব না। সেখানে বলা হয়, ১০-১১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক অ্যাডহকদের অবৈধ স্থায়ীকরণ, এনক্যাডারমেন্ট, পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রমার্জনা বাতিল করতে হবে।
দিল্লির চাকরি খুঁইয়ে পন্টিং এখন প্রীতি জিনতার
দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিজয় এসেছে: নজরুল
সাত দিনে সিএমপি থেকে ১৫০ কনস্টেবলকে বদলি