মাছ ঘাটের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২ 

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:১৩ পিএম

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মাছ ঘাট ও নদী দখল নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনে সিরিয়াল, কমিশন বাণিজ্য আধিপত্য বিস্তারে দু'পক্ষের সংঘর্ষে ১২ জন জেলে আহত হয়েছেন। এতে কালু মাঝির জেলেদের ওপর জামাল মাঝির লোকজনের হামলা করার অভিযোগ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মাতাব্বর হাট মাছ ঘাটে দুপক্ষের মধ্যে ইট পাটকেল নিক্ষেপে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, জেলে নুর আলম (২৩), মো.ইমন (১৯), মো.স্বপন (২৪), আকবর হোসেন (৩০), বাবুল হোসেন (৪০), তারেক (২২), লোকমান (২০), মো.রুবেল (২৫), এরা ভোলার দৌলতখাঁর বাসিন্দা। জামাল মাঝির মো. রাশেদ (৩৫), মো. রবিন (২৫), মো.মোবারক (২৭),  রাকিব (৩৫), রফিক (৩০) সহ আরও ৪ জন আহত হন।

কালু মাঝি জানান, রাতে নদীতে পিডাইন্না জাল (বেড় জাল) দিয়ে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ জামাল মাঝি তার নৌকা ও জালের সামনে তার নৌকা ও জালে ফেলে। এতে বাঁধা দিলে জামাল মাঝি তার লোককজন ঘাটে আসলে ইট মারতে থাকে। এতে কালু মাঝিসহ আরও ৮ জন আহত হন। গুরুতর আহত একজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তারা সবাই ভোলার দৌতলখাঁর বাসিন্দা। গত কয়েক বছর মাতাব্বর হাট মাছ ঘাটে জিহাদের নিয়ন্ত্রণে মাছ ধরছেন। গত কিছু দিন ঘাটের দখল ও আড়তদারদের মধ্যে কমিশনের টাকার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে আধিপত্য বিস্তার শুরু হয়। ঘাটের আড়তদার মফিজ মাতাব্বর, খলিল মেম্বার, মনির মেম্বার, আজাদ মাতাব্বর, মো. বাবুল, মো. আলম, আকতার সিকদারের মাধ্যমে নদীতে মাছ ধরা হয়। মাছ বিক্রির শতকরা ১০-১৫ শতাংশ তারা ভাগ করে নেন। 

ইব্রাহিম খলিল মেম্বার জানান, জিহাদের আড়তে থাকা আলমের সহযোগিতায় জামাল মাঝির লোকজন কালু মাঝির জেলেদের ওপর হামলা চালান। 

মফিজ মাতাব্বর জানান, জিহাদের আড়তে থাকা ৫-৬টা পিডাইন্না জাল (বেড় জাল) আলমসহ আমরা ৮-৯ জন আড়তদার নিয়ন্ত্রণ করি। 

জামাল মাঝি জানান, তিনি জিহাদের আড়তে মাছ বিক্রি করতেন। গত কিছুদিন যাবত ঘাটে ৮-৯ জন আড়তদার জিহাদের ব্যবসায় থাকা জালগুলোর নদীতে মাছ ধরার সিরিয়াল দিচ্ছে না। ঘাটে পিডাইন্না জালে (বেড় জাল) মাছ বেশি ধরা যায়। দীর্ঘদিন ভোলার ৫-৬ জন মাঝি মাতাব্বর হাট ঘাটের পিডাইন্না জাল (বেড় জাল) দিয়ে মাছ ধরে। হঠাৎ আড়তদার মফিজ মাতাব্বর, খলিল মেম্বার, মনির মেম্বার, বাবুল, আকতার সিকদার এরা জিহাদের কোন জেলেকে নদীতে মাছ ধরতে দিচ্ছে না। আমি স্থানীয় হওয়ায় তাদের কমিশন দিতেছি না। ভোলার জেলে-মাঝিরা তাদের ১০-২০ শতাংশ কমিশন দেয়। যার কারণে ঘাটের আড়তদাররা ভোলার জেলেদের মাছ ধরার সিরিয়াল সবসময় দেয়। 

স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি জানান, মাতাব্বর হাট মাছ ঘাটের পিডাইন্না জাল (বেড় জাল) ও আড়তের কমিশন নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগ নেতা জিহাদের আধিপত্য ছিল। হঠাৎ সরকার পরিবর্তনের পরপর বেড় জাল ও আড়তের কমিশন নিয়ন্ত্রনে নেন মফিজ মাতাব্বর, খলিল মেম্বার, মো. বাবুল, মো.মনির মেম্বার, আকতার সিকদারসহ কিছু আড়তদার। এরাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। প্রতিদিনের মাছ আড়তের বিক্রির ১০-২০ শতাংশ কমিশন এদের দিতে হয়। 

মো. আলম জানান, পিডাইন্না জাল (বেড় জাল) ও ঘাটের দায়িত্বে ছিল জিহাদ। সরকার পরিবর্তনের পর ঘাটে থাকা আড়তদাররা জেলে ও মাঝিদের ভাগ করে নেয়। এতে কমিশন নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়। জিহাদের জেলেদের নদীতে নামতে বিভিন্ন রকম বাঁধা দিচ্ছে।

মো.জিহাদ জানান, বেড় জাল ও জেলেদের নদীতে মাছ ধরা, বিক্রি সবই ছিল। হঠাৎ সরকার পতনের পর যাদের নাম এসেছে তারা ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তারা জেলে ও আড়তদার থেকে শতকরা ২০ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন। তবে ঘাটের ব্যবসার সাথে তিনি এখন জড়িত নন। 

মো. জিহাদ উপজেলার চর ফলকনের মৃত রফিক মাস্টারের ছেলে। তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যের দায়িত্বে রয়েছেন। 

এ বিষয়ে কমলনগর থানা ইনচার্জ (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, ঘাটের দখল নিয়ে মারামারির ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যাবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত