লেবাননে ওয়াকিটকি বিস্ফোরণ, ডিভাইসে জাপানি কোম্পানির লোগো

  • বিস্ফোরিত যন্ত্রগুলোতে জাপানি প্রতিষ্ঠান আইকমের লেবেল দেখা গেছে
  • বিস্ফরিত মডেলটি ১০ ​​বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আইকম
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৪৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে হাজার হাজার পেজার বিস্ফোরণের একদিন পরেই বুধবার শত শত যোগাযোগের তারহীন যন্ত্র ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন নিহত ও ৪৫০ জন আহত হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহর সদস্যদের ব্যবহৃত কয়েক হাজার পেজার (যোগাযোগের তারহীন যন্ত্র) একযোগে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়। আহত হয় প্রায় তিন হাজার।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের পর বিস্ফোরিত যন্ত্রগুলোতে জাপানি রেডিও সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আইকমের (আইসিওএম) লেবেল দেখা গেছে। এছাড়া “জাপানে তৈরি” লেবেল ও দেখা গেছে।

রয়টার্স জানায়, বিস্ফোরিত ওয়াকিটকির ছবিতে জাপানি রেডিও কমিউনিকেশনস এবং টেলিফোন কোম্পানি আইকমের (6208.T) নামের লেবেল দেখা গেছে। এগুলো আইসি-ভি৮২ মডেলের ডিভাইসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

পরবর্তীতে রয়টার্স আইকমের সাথে যোগাযোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের লোগো সম্বলিত যোগাযোগের ডিভাইস বিস্ফোরিত হয়েছে এমন সংবাদের প্রতিবেদন সম্পর্কিত তথ্য তদন্ত করছে তাঁরা।

টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত আইকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের ওয়েবসাইটে এই সম্পর্কিত তথ্য জানার সাথে সাথেই বিষয়টি সম্পর্কে তদন্ত করছে। পরবর্তীতে আপডেট তথ্য প্রকাশ করা হবে।

তবে জাপানি আইকম কোম্পানি এসব ডিভাইস পাঠিয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এই মডেলটি ১০ ​​বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তাঁরা।

আইকম বলছে, জাপানের নিরাপত্তা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুসারে অনুমোদিত পরিবেশকদের মাধ্যমে বিদেশে তাদের পণ্যগুলো রপ্তানি করা হয়। তবে অনেক আগে থেকেই কোম্পানিটি বিশ্ব বাজারে তাদের ডিভাইসের জাল সংস্করণ, বিশেষ করে বন্ধ হওয়া মডেলগুলো সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।

এদিকে লেবাননের এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ পাঁচ মাস আগে যখন পেজারগুলো কিনেছিল তখন একই সাথে ওয়াকিটকিগুলোও কিনেছিল।

তবে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে যে ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ এসব বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। হিজবুল্লাহর একজন কর্মকর্তা বলছেন, ‘বিস্ফোরণটি ছিল হিজবুল্লাহর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন।‘

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত