মারধরের শিকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইতিহাস বিভাগের ৩৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লার মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শাস্তিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর ৪ দফা দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন শিক্ষক এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, বুধবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯তম আবর্তনের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম মোল্লাকে কয়েকজন শিক্ষার্থী কয়েক দফায় মারত্মকভাবে প্রহার করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে শামীমের মৃত্যু ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী এবং নানা মাধ্যমে প্রাপ্ত ভিডিওতে শামীমকে নির্মমভাবে প্রহারকারী শিক্ষার্থীদের শনাক্ত করা গেছে। এছাড়া নানা বয়ানে, পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডকে যেভাবে মব জাস্টিজ/ গণপিটুনি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এমন পরিস্থিতে আমরা ক্যাম্পাসে সকলের নিরাপত্তা ও শিক্ষার যথাযথ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
বিবৃতিতে উপাচার্যের কাছে উত্থাপিত শিক্ষকদের চার দাবিগুলো হলো- যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে শামীম মোল্লার খুনিদের শনাক্ত করে অবিলম্বে বহিষ্কার করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় আইনে সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে হবে, প্রক্টরের জিম্মায় থাকা সত্ত্বে ও প্রহৃত হওয়ার উক্ত হত্যাকাণ্ডের দায় প্রক্টরিয়াল টিমকে নিতে হবে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের কর্তৃত্ববাদীতার অবসান ঘটাতে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। গত ১৫ ও ১৭ জুলাই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর সশস্ত্র হামলার মদদদাতা ও হামলাকারী সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে ।
বিবৃতিদাতা শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক মানস চৌধুরী, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা, অধ্যাপক খন্দকার নেহাল মুনিম, অধ্যাপক এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক পারভীন জলি, অধ্যাপক মাহমুদা আকন্দ, ধীমান সরকার, শরমিন্দো নিলোর্মী, অধ্যাপক স্বাধীন সেন, সৈয়দ নিজার আলম, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সুমন, সহযোগী অধ্যাপক স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, অধ্যাপক আইনুন নাহার।
এর আগে গতকাল বুধবার বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক ফটকে একদল শিক্ষার্থী শামীম মোল্লাকে দেখতে পেয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী তাকে প্রক্টর অফিস থেকে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে সেখানে কয়েক দফা মারধর করে। রাত সোয়া আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। রাত সোয়া নয়টার দিকে তাকে পুলিশি হেফাজতে সাভারের গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হসাপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
