হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই বিভিন্ন গ্রুপ, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি-কর্তাদের অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া ও দুর্নীতিবাজ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। তাদের মতে, নতুনভাবে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে বৈষম্য ও দুর্নীতির কোনো স্থান নেই। প্রয়োজন নেই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরও। বিক্ষোভ হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও। এ সময় চারজন ডেপুটি গভর্নর, হেড অব বিএফআইইউ এবং নীতি উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। তবে তাদের মধ্যে দুজন ডেপুটি গভর্নরের নিয়োগ বহাল রাখায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিক্ষোভের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে দুজন ডেপুটি গভর্নর, হেড অব বিএফআইইউ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন এবং বাকি দুজন ডেপুটি গভর্নর পরে পদত্যাগ করবেন মর্মে মৌখিকভাবে সম্মতি প্রদান করেন। ব্যাংককর্মীদের আন্দোলন চলাকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধু ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহারকে পরবর্তী ডেপুটি গভর্নরদের নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে তৎকালীন ইডি-১ (বর্তমান ডেপুটি গভর্নর) মো. জাকির হোসেন আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করেন। তবে নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নুরুন নাহার ও হাবিবুর রহমানকে ডিজি হিসেবে বহাল রেখে দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন আন্দোলনকারী কর্মকর্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার তখনকার সময়ে মীমাংসাকারী কর্মকর্তা ও বর্তমানে ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেনের মাধ্যমে গভর্নরের কাছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ’ নামে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকর্তাবৃন্দ কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণœকারী জনস্বার্থবিরোধী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ তাদের অসন্তুষ্টি ও অনাস্থা প্রকাশ করেছে। চিঠিতে বেশ কিছু দাবি উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে গত ৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভায় কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত প্রতিশ্রুতির দ্বিতীয় অংশ অর্থাৎ পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত অবশিষ্ট দুজন ডেপুটি গভর্নরের পদত্যাগ-প্রত্যাহার ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য তৎকালীন ইডি-১ (বর্তমান ডেপুটি গভর্নর মো. জাকির হোসেন) মাধ্যমে গভর্নরের কাছে নিবেদন পেশ করছে। অন্যথায়, যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়ী থাকবে না।
