সামনের বছর শুরুতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্ব নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে দলগুলো। এর আগে সবাই চাইছে র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান উন্নতি করতে। তাতে বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে মিলবে অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ। সেই স্বপ্ন নিয়েই এ মাসের শুরুতে ভুটান সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকদের দুটি প্রীতি ম্যাচে হারিয়ে র্যাংকিংয়ে উন্নতি আনা। তবে হয়েছে উল্টো। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব র্যাংকিংয়ে অধঃপতন ঘটেছে হাভিয়ের কাবরেরার শিষ্যদের। এখন বাংলাদেশ আছে ১৮৬তম স্থানে। অবনতি ঘটেছে ভুটানেরও। তারা নেমে এসেছে ১৮৪-তে।
৯ ডিসেম্বর হবে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় পর্বের ড্র। এর আগে র্যাংকিংয়ে উন্নতির সুযোগ থাকবে দুটি। অক্টোবর ও নভেম্বরে দুটি করে সর্বোচ্চ চারটি ফিফা স্বীকৃত ম্যাচ খেলতে পারবে বাংলাদেশ। তবে বাফুফে জানিয়েছে ৭ থেকে ১৫ অক্টোবর ফিফা উইন্ডোতে কোনো ম্যাচ খেলার ইচ্ছে তাদের নেই। তারা ১১ থেকে ১৯ নভেম্বর চায় দেশের মাটিতে র্যাংকিংয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলে র্যাংকিংয়ের উন্নতি করতে।
এখন পর্যন্ত বাছাইয়ের ড্রয়ের সর্বশেষ চার নম্বর পটেই থাকছে বাংলাদেশের নাম। অর্থাৎ র্যাংকিংয়ের এই অবস্থায় বাংলাদেশকে গ্রুপের চতুর্থ বা শেষ দল হিসেবে অংশ নিতে হবে বাছাইপর্বে। ফলে আগের তিনটি দলই থাকবে তাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তিন নম্বর পটে উঠে আসতে হলে সামনের দুটি উইন্ডোর সদ্ব্যবহার প্রয়োজন ছিল। তবে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার জানালেন ঘরোয়া ফুটবল সামনেই শুরু হয়ে যাবে বলে তারা অক্টোবরের উইন্ডোতে খেলবে না, ‘আমাদের আসলে ভুটানেই ভালো একটা সুযোগ ছিল। সেটা আমরা পারিনি কাজে লাগাতে। দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোল না খেলে র্যাংকিংয়ে ভুটানের চেয়ে এগিয়ে যেতাম নিশ্চিত। এখন সামনে দুটি উইন্ডোর একটিতে আমরা দুটি ম্যাচ খেলার চেষ্টা করছি। দুটি উইন্ডোতে খেলা সম্ভব নয়, কারণ আমাদের ঘরোয়া মৌসুম শুরু হয়ে যাবে। নভেম্বরে দুটি ম্যাচই আমরা বাংলাদেশে আয়োজন করতে চাই। যাতে র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষেও জয়ের চেষ্টা করতে পারি।’
এদিকে বাংলাদেশ ও ভুটানের মতো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে অবনতি ঘটেছে ভারত ও নেপালেরও। ভারত দুই ধাপ নেমে এখন ১২৬তম। নেপাল এক ধাপ নেমে ১৭৬তম। মালদ্বীপের আছে একই ১৬৩তম স্থানে। এ ছাড়া পাকিস্তানও তাদের আগের ১৯৭তম স্থানে আছে। র্যাংকিংয়ের বড় লাফ দিয়ে ২০৫ থেকে ২০০-তে এসেছে শ্রীলঙ্কা। দলটির এই উন্নতির অন্যতম কারণ প্রবাসী ফুটবলারদের জায়গা করে দেওয়া। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে সবমিলিয়ে আটজন প্রবাসী শ্রীলঙ্কানকে খেলিয়েছেন দলটির নয়া কুয়েতি কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরি।
বাংলাদেশের জন্য যা মোটেই সুখকর খবর নয়। দুই প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া ও তারেক কাজীই কেবল গত কয়েক বছরে পেরেছেন বাংলাদেশ দলে থিতু হতে। এর মধ্যে জামালের ক্যারিয়ার এখন অস্তাচলে। আর তারেক ব্যস্ত আছেন ফিনল্যান্ডে বাধ্যতামূলক আর্মি ট্রেনিংয়ে। যে কারণে ছয় মাস তিনি খেলতে পারবেন না। তবে বাফুফে জানিয়েছে, তারা জোড় চেষ্টা করছে নভেম্বরের উইন্ডোতে লেস্টার সিটি তারকা হামজা চৌধুরীকে অভিষেক করাতে।
