মুখীকচুর বাম্পার ফলন: ন্যায্য দাম পাচ্ছে না চাষিরা! 

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:২৪ পিএম

দিনাজপুরের বিরামপুরে মুখীকচুর বাম্পার ফলনে আর্থিক সচ্ছলতার স্বপ্ন দেখছে প্রান্তিক চাষিরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাষির মুখে হাসি ফোটাচ্ছে সাদা সোনা খ্যাত মুখীকচু। উপজেলার উঁচু-নিচু জমি জুড়ে সবুজ কচু গাছে শুধুই সাদা সোনার হাতছানি। চলতি বছর বিরামপুর উপজেলার ১৬০ হেক্টর জমিতে মুখীকচুর চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি দপ্তর। ফলন ভালো হলেও উৎপাদিত পণ্যের নায্য দাম পাচ্ছে না, অভিযোগ চাষিদের।

বিরামপুর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, নদীর পাড়ের আবহাওয়া ও উর্বর মাটির ফলে মুখীকচুর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ লাভ হয় বলে উপজেলার কৃষকরা মুখীকচু চাষে আগ্রহী হচ্ছে। উপজেলার পরিত্যক্ত ঢালু জমিতে মুখীকচু চাষে সোনা ফলছে বলেও মন্তব্য করেন। চলতি বছর বিরামপুর উপজেলার ১৬০ হেক্টর জমিতে মুখীকচুর চাষ হয়েছে।

শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, উঁচু-নিচু জমি জুড়ে কচু গাছের। সবুজ কচু গাছেই যেন সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় প্রান্তিক চাষিরা। বিরামপুর উপজেলার সব ইউনিয়নে মুখীকচুর চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি চাষ হয় পলিপ্রয়াগপুর, মুকুন্দপুর ও কাটলা ইউনিয়নে এবং পৌর এলাকার নদীর পাড়ে।

স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান ও অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বিরামপুর উপজেলার কৃষকরা ঢালুসহ সমতল জমিতে মুখীকচুর চাষ করছেন। মুখীকচু চাষে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরেছে উপজেলার কৃষক পরিবারে। মুখীকচু চাষে গত কয়েক বছরে বদলে গেছে এলাকার অর্থনীতি। এ সবজি লাভজনক হওয়ায় চাষের পরিধি বাড়ছে। কিন্তু গতবারের চেয়ে অনেক দাম কম হওয়ায় চাষীদের মনে হতাশাও বিরাজ করছে।

উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বাদমুখা গ্রামের কচু চাষি জুলফিকার বলেন, ৫০ শতক জমিতে কচু আবাদ করে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। উৎপাদন খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। গতবছর প্রতি মন কচু ১৬-১৮ শত টাকা দরে বিক্রি করেছি কিন্তু এবার সে তুলনায় প্রতি মন কচু ১১-১৩ শত টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গতবারের মত দাম পেলে, আরও বেশি লাভবান হওয়া যেত।

পাইকারি ব্যবসায়ী লিটন সরকার, মো. আশরাফুল ইসলাম ও সাব্বির বিহারী জানান, গত কয়েক বছরে মুখীকচু বিরামপুর উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ঢাকাসহ নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও বড় বড় পাইকারি মোকামে। এবার উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে কম দামে পাওয়ায় পাইকারি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত