অভিবাসন নীতিতে কঠোর হচ্ছে কানাডা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৯ পিএম

বিশ্বে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের স্বর্গরাজ্য খ্যাত দেশ কানাডা প্রথমবারের মতো অভিবাসী কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। শিগগিরই দেশটিতে থাকা অস্থায়ী বাসিন্দা হ্রাস এবং স্থায়ী অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন বিষয়কমন্ত্রী মার্ক মিলার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত আবাসন সংকট দূর করা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ভৌগলিক আয়তনের বিচারে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডা বরাবরই ‘অভিবাসীদের স্বর্গ’ বলে পরিচিত। উন্নত জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থানের অবারিত সুযোগ এবং আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার স্বল্পতাই এর প্রধান কারণ। বিগত বছরগুলোতে দেশটির সরকার সব সময় অভিবাসীদের স্বাগত জানিয়েছে।

তবে করোনা মহামারির ধাক্কা কেটে যাওয়ার পর বদলে যায় পরিস্থিতি। এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো থেকে জোয়ারের মতো আসতে থাকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। তাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমসিম খেতে থাকে কানাডার সরকার। দেশটির আবাসন ও নাগরিক পরিষেবা ব্যবস্থায় সৃষ্ট হয় অসহনীয় চাপ।

এই অবস্থা সামাল দিতে ২০২৩ সাল থেকে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রবেশ সীমিত করার পদক্ষেপ নেয় দেশটির সরকার। দেশটির পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৫ লাখ ৯ হাজার ৩৯০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী বা কর্মীকে প্রবেশ করতে দিয়েছিল কানাডা। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে প্রবেশ করতে পেরেছেন মাত্র এক লাখ ৭৫ হাজার ৯২০ জন অভিবাসী।

গত এক বছরে কানাডার প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে ২ শতাংশ। দেশটির ডানপন্থী এবং অভিবাসনবিরোধী বিভিন্ন দল এজন্য অভিবাসীদের ঘনত্বকে দায়ী করছেন। জনগণের মধ্যেও ক্রমশ অভিবাসীবিরোধী মনোভাব শক্ত হচ্ছে। তার ফলাফলও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি একটি স্থানীয় নির্বাচনে হেরে গেছে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল লিবারেল পার্টি। সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডার সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত