গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন সম্মাননা পেলেন ড. তাহমিদ আহমেদ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৪৬ পিএম

বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন স্বীকৃতি পেয়েছেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআর,বি) নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ। শিশু পুষ্টি নিয়ে অগ্রণী অবদানের জন্য এই বিরল সম্মাননা দেওয়া হয় তাকে। শিশু পুষ্টি, বিশেষ করে মাইক্রোবায়োম-ডিরেক্টেড রেডি-টু-ইউজ বা সহজে ব্যবহারোপযোগী থেরাপিউটিক ফুড নিয়ে তার কাজ বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের অপুষ্টি মোকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের ড. তাহমিদ আহমেদ, ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও ভারতের রতন টাটাসহ ১০ জন এই সম্মাননা পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় আইসিডিডিআরবি।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ‘গোলকিপার্স ২০২৪: রেসিপি ফর প্রোগ্রেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সন্মাননা ঘোষণা করা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সপ্তাহের সাথে মিলিয়ে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। একটি উষ্ণায়ন বিশ্বে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পুষ্টি এবং উদ্ভাবনী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে এটি আয়োজন করা হয়।

আইসিডিডিআরবি জানায়, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ড. জেফরি গর্ডনের সাথে পরিচালিত ড. আহমেদের যুগান্তকারী গবেষণা মাইক্রোবায়োম-ডিরেক্টেড রেডি-টু-ইউজ থেরাপিউটিক ফুড উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শিশুদের জন্য একটি পরিপূরক খাবার যা অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির মাধ্যমে গুরুতর অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই পরিপূরক খাবার বর্তমানে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং শিশুদের বৃদ্ধি ও পুষ্টির উন্নয়নে আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখাচ্ছে।

এই সম্মানার ব্যাপারে ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, এটি একটি বড় সম্মানের বিষয়। অপুষ্টি এখনও বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতার কারণে প্রতিটি শিশু যেন পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে পারে তা নিশ্চিত করার লড়াই অনেক বেশি জরুরি। আর এটি নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর, আরও সহনশীল বিশ্ব গড়ে তুলতে আমাদের গবেষণা এবং উদ্ভাবনী সমাধানে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে ‘২০২৪ গোলকিপারস’ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। এই সংকট সমাধানে ড. তাহমিদ আহমেদের উদ্ভাবনী সমাধানের মতো আরও সমাধান খুঁজে বের করার প্রয়াস অপরিহার্য। প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে অতিরিক্ত চার কোটি শিশুকে স্টান্টেড বা খর্বকায় হওয়া এবং ২৮ মিলিয়নের বেশি শিশু ওয়েষ্টেড বা কৃশকায় হওয়া রোধ করার জন্য বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপের জরুরী প্রয়োজনের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত