লতিফুল ইসলাম শিবলী গীতিকার হিসেবে জনপ্রিয়। এদেশের ব্যান্ড সংগীতকে একটি প্ল্যাটফর্মে তুলে দিতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। তার কবিতা প্যারিসের চিঠি যেটা জেমস গেয়েছিলেন ‘প্রিয় আকাশি’ নামে তার আবেদন সময়ের সঙ্গে চলমান। শিবলীকে সম্প্রতি কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাহতাব হোসেন
নতুন এই দায়িত্ব পেলেন, কী মনে হচ্ছে?
আমি গীতিকার ও লেখক। গানও করি। ফলে এটা একটা নতুন ধরনের দায়িত্ব। এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের একটা কাজ। এই চ্যালেঞ্জটা আমি নিয়েছি। এখন কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতীয় কবি, কিন্তু সেটা মুখে মুখে। আমার প্রথম কাজ হবে কাজী নজরুল ইসলামকে সাংবিধানিকভাবে জাতীয় কবি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা।
আপনি ব্যান্ড ও মূলধারার সংগীতে কাজ করেছেন এখানে কাজের ধরন কেমন হবে?
নজরুল একটা সমুদ্রের নাম, যেখানে সমস্ত নদী এসে মিলিত হয়। নজরুলের সংগীত যদি বলেন, তাহলে এটা নিয়ে অনেক কাজ করা যায়। আমাদের চলচ্চিত্রে ও নাটকে নজরুলের গানকে জনপ্রিয় করা সম্ভব। এই ধরনের কাজ যারা করবে আমাদের ইনস্টিটিউট থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও নজরুলের গান নিয়ে ফিউশন হচ্ছে। এরই মধ্যে কোক স্টুডিওতে নজরুল সংগীত নিয়ে ফিউশন করা হয়েছে। নজরুলের গানের স্বরলিপি ঠিক রেখে আমরা যুগোপযোগী করে এ সময়ের শ্রোতাদের কাছে নজরুল সংগীত পৌঁছে দেব।
তার মানে নজরুলসংগীতকে জনপ্রিয় করার একটা প্রয়াস থাকবে?
হ্যাঁ অবশ্যই। কাজী নজরুল ইসলামের সমস্ত সৃষ্টি সবসময়ই আবেদন রাখে। আমাদের কাজ হবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে আমি মূল ৫টি পয়েন্ট ঠিক করেছি। আমার কাজের শুরুটা হবে সেভাবেই।
সেটা কেমন?
১. আমাদের জাতীয় কবিকে সাংবিধানিক
স্বীকৃতি দিয়ে গেজেটভুক্ত করতে হবে। ২. স্কুল ও কলেজের প্রতিটি শ্রেণিতে গুরুত্বের সঙ্গে নজরুলের রচনাকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৩. নজরুল সাহিত্যকর্ম ও সমসাময়িক বিশ্বে ফ্যাসিবাদ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের চিন্তাধারার প্রাসঙ্গিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ ও গবেষণার জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ‘নজরুল সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার মতো দ্বিপাক্ষিক এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে হবে। ৪. এবারের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে আবারও প্রমাণ হয়েছে নজরুল এই জাতির জীবনে কী ভীষণ প্রাসঙ্গিক। দেশ জুড়ে দেয়ালের গ্রাফিতি রেখেছে তার নিদর্শন। আমাদের কাজ হবে এই নজরুল চেতনায় জাতীয় ঐক্যকে অটুট রাখার জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ তথা বিভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করা। ৫. একটি আন্তর্জাতিক মানের নজরুল বায়োপিক নির্মাণের ব্যবস্থা করা।
এসবের বাইরে আপনার নিজস্ব লেখালেখি নিয়ে বলুন...
গান লেখার কাজ তো চলে। তবে আমি প্রতি বইমেলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাস লিখি। এবারও নতুন একটি উপন্যাস লেখা শুরু করেছি। তবে নজরুল ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব পাওয়ার পর হাতে সময় একেবারে কম। এরমধ্যে কীভাবে লিখব, সেটা নিয়ে চিন্তিত। তবে লিখে ফেলব। উপন্যাসের নামও ঠিক করেছি, তবে সেটা এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।
