স্বপ্নের দেশ গড়তে বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা চাইলেন ড. ইউনূস

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৫ এএম

বৈষম্যহীন সমাজ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে জীবন উৎসর্গকারী তরুণদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে বিগত সরকার কীভাবে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যাকা- ঘটিয়েছে এবং তাজা গুলির সামনে কীভাবে ছাত্ররা বুক পেতে দাঁড়িয়েছে, তার বর্ণনা তুলে ধরেছেন তিনি। আন্দোলন গোছানো ছিল জানিয়ে তিনি বলেছেন, আগামীতে তরুণরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুতের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে হোয়াইট হাউজ বাংলাদেশের নতুন সংস্কার কর্মসূচিতে অব্যাহত মার্কিন সমর্থনের কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশে তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্রায় ২০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

এদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছাড়াও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, আইএমএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভার, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রতিষ্ঠান ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ’ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিদেশি বন্ধুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেভাবে কথা বলে, এ রকম কথা আমি কখনো শুনিনি। তারা নতুন পৃথিবী, নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রস্তুত। প্লিজ আপনারা তাদের হেল্প করবেন। যেন তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। এ গুরুদায়িত্ব আমাদের সবার নিতে হবে। এ সময় তিনি বিল ক্লিনটনের হাত ধরে বলেন, আপনি আমাদের সঙ্গে এ স্বপ্ন পূরণে আছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটা হঠাৎ করে হয়েছে, এমন কিছু নয়। খুবই গোছানো আন্দোলন। এ ছাড়া এত বড় আন্দোলন হয়েছে, মানুষ জানত না কে আন্দোলনের লিডার! যার ফলে একজনকে আটক করা যেত না। বলাও যেত না যে, একজনকে আটক করলে আন্দোলন শেষ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা যে সাহস ও প্রত্যয় দেখিয়েছে, তা আমাদের অভিভূত করেছে। গুলি চালিয়ে যে স্বৈরাচার তাদের সব স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল, তারা সেই শাসকের পতন ঘটাতে বুলেটের সামনে দাঁড়াতে পিছপা হয়নি। বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে তারা পঙ্গুত্বকে বরণ করেছে। তাই তরুণদের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার বাংলাদেশ গড়তে আমরা আপনাদের পাশে চাই।

এ সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিগত সরকার কীভাবে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যাকা- ঘটিয়েছে এবং তাজা গুলির সামনে কীভাবে ছাত্ররা বুক পেতে দাঁড়িয়েছে, তার বর্ণনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, তাদের দেখতে অন্য তরুণদের মতো মনে হলেও আপনি যখন তাদের কাজ দেখবেন, বক্তব্য শুনবেন, আপনিও অবাক হবেন। তারা সারা দেশ নাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক কিছু হয়েছে, কিন্তু তারা তাদের বক্তব্য, ত্যাগ কিংবা কমিটমেন্ট থেকে পিছিয়ে যায়নি। তারা গুলির মুখে বুক পেতে দিয়ে বলেছে, ‘আপনারা চাইলে আমাদের হত্যা করতে পারেন, কিন্তু আমরা পথ ছেড়ে যাব না।’

বিদেশি বন্ধুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আমরা এই সুযোগ হারাতে চাই না। বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে তরুণরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। এটি বাস্তবায়নে আপনাদের সবার সমর্থন প্রয়োজন।

সংবর্ধনা আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আরও ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ। অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে আলোকচিত্রী ও লেখক শহিদুল আলম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাগুলো নিয়ে লেখা দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষদিকে তার বিশেষ সহকারী মাহফুজসহ তিনজনকে স্টেজে ডেকে এনে আন্দোলনে তাদের ভূমিকা প্রকাশ করেন।

জো বাইডেন-ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠক : এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওয়াশিংটন ও ঢাকার মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এটি অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দুই দেশের জনগণের সম্পর্কের গভীরে প্রোথিত রয়েছে।

মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) ফাঁকে দুই নেতার সাক্ষাতের পর হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন দুই সরকারের মধ্যে আরও সম্পৃক্ততাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশকে তার নতুন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে মার্কিন সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে সাম্প্রতিক নিয়োগে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এই বৈঠকের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এবং ড. ইউনূসের অন্তর্রর্তী সরকারের প্রতি ‘পূর্ণ সহযোগিতার’ আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন।

কীভাবে বাংলাদেশের ছাত্ররা আগের স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং জীবন দিয়েছে, সেটি জো বাইডেনের কাছে বর্ণনা করেছেন ড. ইউনূস। দেশ পুনর্গঠনে তার সরকার জোরালোভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা দরকার হতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীরা যেসব দেয়াল চিত্র এঁকেছিল, সেসবের ছবি সংবলিত ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামের একটি বই প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে উপহার দেন প্রধান উপদেষ্টা।

নির্বাচন কখন : যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠকে ড. ইউনূস জানিয়েছেন, তার সরকার ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের কাজ হলো নির্বাচন, বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা এবং সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো খুঁজে বের করা এবং সেগুলো সরকারকে অবহিত করা। যখন সবাই একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছবে এবং ভোটার তালিকা প্রস্তুত হবে, তখনই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে। এর আগে প্রয়োজনীয় সব সংস্কার করা হবে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রেসিডেন্ট এসব সংস্কারের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেন তারা। তিনি প্রফেসর ইউনূসকে জানান, ইতিমধ্যে ঢাকায় তাদের একটি দল গেছে এবং দলটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এরপর তাদের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আগামী মাসে আইএমএফের পরিচালনা পর্ষদ বৈঠকে বসবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে ইউনূসের তিন প্রস্তাব : ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনের প্রথম দিনেই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর জন্য তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন ড. ইউনূস।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইড ইভেন্ট হিসেবে আয়োজিত এ বৈঠকে সহ-আয়োজক ছিল ইন্দোনেশিয়া, গাম্বিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বৈঠকে মূল বক্তা হিসেবে ইউনূস তিনটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

প্রথমত, ইউনূস জাতিসংঘের মহাসচিবকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে একটি কনফারেন্স আয়োজনের আহ্বান জানান। এই কনফারেন্সের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সৃজনশীল ও কার্যকরী সমাধানের পথ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান’কে আরও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য সঠিক সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তৃতীয় প্রস্তাবে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় সমর্থন আহ্বান করেন ড. ইউনূস।

ড. ইউনূস বলেন, জাতিসংঘের বহু সাধারণ অধিবেশন এবং নিরাপত্তা পরিষদের নানা উদ্যোগের পরও মিয়ানমারে মূল সংকটের সমাধান না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়নি। গত সাত বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি। শরণার্থী শিবিরগুলোয় যুবকদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়ছে।

তৌহিদ হোসেন-জয়শঙ্কর বৈঠক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ড. ইউনূসের বৈঠক না হলেও দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে নিউ ইয়র্কে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের এ বৈঠক হয়। জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনের এক ফাঁকে দুই দেশের এই দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

ইউনূস-শাহবাজ বৈঠক : দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধান ঐকমত্য পোষণ করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে একটি ‘নতুন পৃষ্ঠা’ খোলা উচিত বলেও মনে করে পাকিস্তান। গতকাল স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তর, নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার শীর্ষ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সার্কের পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানান।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় প্রধান উপদেষ্টার। বৈঠকে দুই নেতা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করা একটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে এবং পাকিস্তানের সমর্থন প্রয়োজন। শাহবাজ শরিফ এ উদ্যোগের জন্য তার সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং দেশগুলোকে আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, “বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উচিত তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ‘নতুন পৃষ্ঠা’ খোলা। আমাদের সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করা খুবই জরুরি।”

শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও চামড়া খাতে পাকিস্তানের বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস দুই দেশের মধ্যে যুব কর্মসূচি বিনিময়ের প্রস্তাব করেন।

এ সময় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা নবায়ন এবং যৌথ কমিশন পুনরায় সক্রিয় করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আলোচনাকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত