রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চৌরঙ্গী মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে ৭ জন বালিয়াকান্দি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরা হলেন— উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নু, ইলিশকোল গ্রামের কালাম শেখের ছেলে আলম শেখ, একই গ্রামের হাসেম ভুঁইয়ার ছেলে জাহিদুল ভুঁইয়া, বালিয়াকান্দি গ্রামের মৃত ইদ্রিস মোল্যার ছেলে রুবেল মোল্যা, সাঈদ শিকদারের ছেলে আরিফ শিকদার, আমতলার কালু মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া, পথচারী বালিয়াকান্দি গ্রামের বাদশা মোল্যার ছেলে ফিটু মোল্যা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার ভুঁইয়াকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নুর ছেলেসহ তার লোকজন লাঞ্ছিত করে। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বালিয়াকান্দি শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে দুই গ্রুপ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।
এ সংঘর্ষের খবর পেয়ে রাজবাড়ী জেলা শহর থেকে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ও বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মশিউল আলম চুন্নুসহ ৩ জনকে আটক করে যৌথ বাহিনী। আটককৃতদের মধ্যে ২ জন সংঘর্ষে আহত হওয়ায় তাদেরকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়। আটককৃত ৩ জন থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ খবর লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলা দায়েরের পর তাদের সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে জানা গেছে।
যৌথ বাহিনী সূত্র জানায়, মশিউল আলম চুন্নু সংঘর্ষে আহত হয়ে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে গেলে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। কিন্তু গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আত্মগোপন করেন। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে যৌথ বাহিনী। এ সময় তিনি নিজেকে ভিন্ন নামে পরিচয় দেন। তবে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সংঘর্ষের ঘটনার পর এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনী টহল ও সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ বলেন, সংঘর্ষের পর চুন্নুর নেতৃত্বে আমার বাসভবনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলছে।
