রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উভয় ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সম্প্রতি রাশিয়া থেকে শিপমেন্ট করা হয়েছে। যা শিগগির প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান রসাটম।
গুরুত্বপূর্ণ এসব যন্ত্রপাতি সে দেশে তৈরি করেছে রসাটমের অধীনস্থ একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান—স্পেশালাইজড সায়েন্টিফিক রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর ইন্সট্রুমেন্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (এসএনআইআইপি)।
স্বয়ংক্রিয় রেডিয়েশন মনিটরিং ব্যবস্থার সাহায্যে নির্ধারিত বস্তুর রেডিয়েশন প্যারামিটার সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং ডাটা ডিসপ্লে করা হয়ে থাকে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পারমাণবিক জ্বালানিচক্র প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিজ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্রে এই সিস্টেমগুলো ব্যবহৃত হয়।
রসাটমের তথ্যমতে, বিদ্যুৎ প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের জন্য ১৫টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ৮টি রেডিয়েশন মনিটরিং সিস্টেম ইউনিট শিপমেন্ট করা হয়েছে। রূপপুর প্রকল্পের বিশেষ চাহিদা বিবেচনা করে এই সিস্টেমগুলো তৈরি করা হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ৩০০টি ডোজিমিটার এবং ফিল্টার হোল্ডারের একটি ব্যাচ প্রকল্প সাইটে এসে পৌঁছাবে।
এসকল যন্ত্রপাতি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসএনআইআইপি’র প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্ডার কার্টসেভ বলেন, ‘স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য নির্ধারিত যন্ত্রপাতিগুলো একটি সিঙ্গেল প্যাকেজে রূপপুর প্রকল্পে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে প্রথমবারের মতো এ জাতীয় সল্যুশন ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ডোজিমিটার এসে পৌঁছাবার আগেই আমরা মূল হার্ডওয়্যার পেয়ে গেছি। আমরা সত্যিই আনন্দিত যে, প্রকল্পের স্টার্টআপের জন্য অতি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো শিগগির হাতে পাচ্ছি।’
এর আগে, কক্ষের অভ্যন্তরে অব্যাহত রেডিয়েশন মনিটরিং এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ডিটেকশন ইউনিট ও বিভিন্ন ডিভাইস শিপমেন্ট করেছে এসএনআইআইপি। এছাড়াও, ব্যক্তিগত ডোজিমেট্রিক মনিটরিং সিস্টেমের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারও ইতিমধ্যে প্রকল্প সাইটে ডেলিভারি করা হয়েছে। এই সিস্টেম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ব্যক্তিদের দ্বারা ব্যবহৃত ডোজিমিটার থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। আরও যেসব প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এসে পৌঁছেছে তার মধ্যে রয়েছে তথ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ হার্ডওয়্যার, রেডিয়েশন দূষণ মনিটরিং যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
রাশিয়ার কারিগরী ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুরে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রকল্পটিতে দুটি বিদ্যুৎ ইউনিট থাকবে এবং এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটে স্থাপিত হবে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর—১২০০ রিয়্যাক্টর যা সকল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পুরনে সক্ষম।
২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বরে উদ্বোধনের পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে চলছে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর এবং এর পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ প্রকল্পে রাশিয়া ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
