আমি তখন ক্লাস টেন-এ পড়ি। মাঝে মাঝে বিটিভিতে (বাংলাদেশ টেলিভিশন) ফোন করি। নওয়াজীশ আলী খান সাহেবের সাথে কথা বলতে চাই। অপারেটর কিছুক্ষণ চেষ্টা করে বলে-উনি সিটে নাই। কখন সিটে থাকে সেটাও বলতে পারেনা।
সেই সময় টেলিভিশন মানে একমাত্র বাংলাদেশ টেলিভিশন। সেই টেলিভিশনও তুমুল জনপ্রিয়। বিশেষ করে নাটকের জন্য। আর সেসব জনপ্রিয় নাটকের শেষে স্ক্রীনে প্রযোজক হিসেবে যাদের নাম দেখা যেতো তারাও একেকজন হিরো। যেমন আতিকুল হক চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোস্তফা মনোয়ার, মোস্তাফিজুর রহমান, নওয়াজীশ আলী খান প্রমুখ। ইনারা সবাই স্টার হলেও কোনো বিচিত্র কারণে আমার মতো এক কিশোরের মনে নওয়াজীশ আলী খানের নামটা মনের ভেতর গেথে গেছে।
আমি তখন গোপনে লেখালেখি করি। বাসার কেউ এটা তেমনভাবে জানেনা। কবিতা-গল্প লিখতে লিখতে একটা নাটকও লিখে ফেললাম। (সম্ভবত ১৯৮৫-৮৬ সালে।) মনে হলো নাটকটা যদি বিটিভিতে দেখানো যেতো..বিটিভিতে সেই নাটকটা যেন দেখানো যায় সেই উদ্দেশ্য থেকেই নওয়াজীশ আলী খানকে ফোন করা।
ফোনে ‘পাইনা পাইনা’, যে ফোন ধওে শুধু বলে ‘সিটে নাই’; এই ‘নাই নাই’.. করতে করতে একদিন উনাকে ‘সিটে’ পাওয়া গেলো। ভরাট এবং খানিকটা জলদগম্ভীর কণ্ঠে নিজের নাম বলে জানতে চাইলেন আমি কে? কেনো ফোন করেছি?
আমি খুব শরমের সাথে ঘটনা বললাম। একটা নাটক লিখেছি। আপনাকে পাঠাতে চাই। উনি আমার পরিচয় এবং বয়স জেনে বললেন, বেটার হবে তুমি মমতাজউদ্দিন আহমেদ স্যারের কাছে যাওÑ যেয়ে দেখাও তোমার নাটক লেখাটা হয়েছে কি-না! আমি ওটা দেখার জন্য ঠিক ব্যক্তি নই।
ঐ একবারই কথা। তারপর আর কোনো যোগাযোগ নেই।
২.
প্রায় উনিশ কুড়ি বছর পরে ২০০৩-০৪ সালে নওয়াজীশ ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। উনি এটিএন বাংলায় জয়েন করেছেন। উনার সাথে সাক্ষাতের জন্য একজনকে হায়ার করলাম। সেই মারফত এপয়েনমেন্ট।
এটিএন বাংলায় গেলাম সাক্ষাৎ করতে। এত বিরাট এক ব্যক্তিত্বের মানুষÑ কিন্তু বসেন ছোট্ট এক কামড়ায়! দুইজন অতিথি সেখানে একসাথে বসা বেশ কষ্টকর। কিছু সময় বসলাম। ‘নীড়ে তার নীল ঢেউ’সহ আমার তিন উপন্যাস উনাকে দিলাম। সাথে নীড়ে তার নীল ঢেউ উপন্যাসের একটি নাট্যরূপ স্ক্রীপ্ট আকারে দিয়ে বললাম, আপনি যদি মেহেরবানী করে দেখেন, বড় খুশি হতাম।
উনি রাখলেন।
দিনকয় পরে এক সন্ধ্যায় আমার বাসার ল্যান্ড ফোন বাজছে। অসময়ের ফোন। অনাকাক্সিক্ষত ফোন। ধরলাম। অপরপ্রান্ত থেকে ভরাট গলায় জলদগাম্ভীর্যে বললেন, আমি নওয়াজীশ আলী খান বলছি এটিএন বাংলা থেকে।
কি ভরাট গলার আওয়াজÑ ফোনের মধ্যেই গমগম করে। স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ। বাক্যের মধ্যে গম্ভীরতা। কথার ধরণে ঐশ^র্য। কিন্তু উপস্থাপনায় দারূন আন্তরিকতা অনুভব করা যায়। একটা অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি হয় এমন আওয়াজে।
নওয়াজীশ ভাই বললেন, আমি প্রায় দুই হাজার নাটকের স্ক্রীপট পড়েছি। হুমায়ূন (হুমায়ূন আহমেদ) ছাড়া কারো স্ক্রীপ্ট আমাকে এখন আর মুগ্ধ করে না। তোমার লেখা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তুমি আসো আমার অফিসে। (নাট্যকাররূপে হুমায়ূন আহমেদের আবিস্কারকও নওয়াজীশ আলী খান)
নওয়াজীশ ভাই আমার লেখা নিয়ে আরো সুন্দর সুন্দর কথা বললেন। এত বড় একজন মানুষ আমার মতো ক্ষুদ্র, নাটকজগতের নিতান্ত শিশুকে নিয়ে যে প্রশংসা করলেন তাতে নিজের কাছেই বড় লজ্জা হলো। একইসঙ্গে বড় রকমের উৎসাহও তৈরি হলো। উৎসাহের আতিশয্যে সেই রাতে আরেকটা নাটকের স্ক্রীপ্ট লেখে ফেললাম। সেটা নিয়ে উনার সাথে দেখা করলাম। সেই স্ক্রীপ্ট পড়ে নওয়াজীশ ভাইয়ের মুগ্ধতা আরো বেড়ে গেলো। বললেন, তোমার এই স্ক্রীপ্টগুলো ইমেডিয়েটলি নাটক হওয়া দরকার। তুমি কি কাউকে দিয়ে প্রডাকশন করাতে পারবে?
তখন আমি প্রথম আলোতে লিখি। টেলিভিশনের লোকজনের সাথে পরিচয় থাকলেও কাজ করার জন্য যেরকম খাতির দরকার, সেটা নেই।
নওয়াজীশ ভাই একজন বড় ডিরেক্টরকে খবর দিয়ে আনলেন। একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া পরিচালক। (নামটা গোপন রাখলাম) স্ক্রিপ্ট পরিচালকের পছন্দ হলো। নাটক প্রডাকশন শুরু করলেন। প্রডিউসার হচ্ছে একটি বড় এনজিও প্রতিষ্ঠান। দশ পর্ব নাটক শুটিং এডিট করে একদিন আমাকে খবর দিলেন আমি যেন একবার নাটকটা দেখে আসি। খুবই উত্তেজনা নিয়ে গেলাম এনজিও অফিসে। নিজের প্রথম নাটক..!
এডিট প্যানেলে বসে চার পর্ব নাটক দেখলাম। তারপর আর ধৈর্য্যে কুলালো না। অফিসের লোককে বললাম, ভাই একটা কাগজ কলম দিতে পারবেন?
প্রধান সহকারি পরিচালক কাগজ কলমের ব্যবস্থা করে দিলেন। সাদা কাগজে পরিচালকের উদ্দেশ্যে লিখে দিলামÑ এই নাটকে আমার নাম যাবেনা। সহকারি পরিচালকের হাতে সেই কাগজ দিয়ে চলে এলাম।
বেশ অনেক রাতে পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক আমাকে ফোন করলেন। বললেন, তোর এত বড় সাহস..আমি অমুক-এত বড় ডিরেক্টর তাকে তুই লেখিস ‘তোর নাম যাবে না’। তুই কোথাকার হুমায়ূন আহমেদ..।
পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালকের এইটুকু কথা ছাপার যোগ্য। বাকী দশ পনর মিনিট সময় তিনি যেসব বাক্য এবং গালাগাল করেছেন সেসব উচ্চারণ করলে অযু নষ্ট হয়ে যেতে পারে..। (আমার ধারণা শরাব জাতীয় খান্নাস জলপান ছাড়া ঐরকম কুৎচ্ছিত শব্দ বলা এই পর্যায়ের সুস্থ মানুষের জন্য কঠিন)
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। নওয়াজীশ ভাই এত বড় সুযোগ করে দিলেন। মুহুর্তে সব শেষ। বিখ্যাত কবি জালালুদ্দিন রুমির একটি লাইনই শুধু মাথায় ঝনঝন করে বাজতে লাগলো ও ধস ধ ংসধষষ াড়ষপধহড়, যিড়ংব ড়ঢ়বহরহম রং ভরহরংযবফ। আমি এক ক্ষুদ্র আগ্নেগিরি যার শুরুটাই শেষ। নাটকজগতে আমার অবস্থাটা ঠিক সেইরকম।
আমি নিশ্চিত হয়ে গেলামÑ নাটক জীবনের ক্যারিয়ার এখানেই সমাপ্তি।
ঘটনা এখানে শেষ হলেও চলতো। কিন্তু শেষ হলোনা। আমার নামে বিচার বসলো এটিএন বাংলায়। এজলাশ নওয়াজীশ আলী খানের কক্ষ। বিচারকও উনি। বাদী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিখ্যাত পরিচালক এবং প্রযোজক এনজিওর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অপরাধী হিসাবে আমাকে খবর দেয়া হয়েছে। নাটকের ক্যারিয়ার শুরুর আগেই শেষ হয়ে যাওয়াতে যত না খারাপ লাগছে তার চেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছিলো নওয়াজীশ ভাইয়ের জন্য। উনি এত উৎসাহ নিয়ে আমার লেখা যেন নাটক হয় তার আয়োজন করলেনÑ বিনিময়ে আজ তাকে সেজন্য সালিশ-দরবার করতে বসতে হয়েছে। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী কাগজে এমন কথা লিখেছো যে নাটকে তোমার নাম যাবে না?
আমি বললাম, জ্বি।
নওয়াজীশ ভাই জানতে চাইলেন, কেন লিখেছো?
জবাবে বললাম, আপনিতো স্ক্রীপ্ট পড়েছেন। আমি আনন্দের নাটক লিখেছি। কিন্তু সেটি বেদনার নাটক তৈরি করা হয়েছে। আমার ভালো লাগেনি।
পরিচালক এবং প্রযোজক একবার আমাকে দেখেন, একবার নওয়াজীশ ভাইয়ের দিকে তাকালেন। এমন এক গুরুজনের সামনে আমার মতো অজ্ঞ এক তরুণের এই বেত্তমিজি তারা কিছুতেই মানতে পারছিলেন না। রাগে তাদের চোখের পাতা ঘনঘন দাপাচ্ছিলা।
যেহেতু বিচারের রায় কি হবে সেটা আমি জানি সেজন্য নাটক বিষয়ে আমি আর কোনো কথা বললাম না।
নওয়াজীশ ভাই পরিচালক এবং প্রযোজকের কথা শুনলেন। যেই ইসুতে বিচার বসেছে, অবস্থাদৃষ্টে সেখানে আমি দোষী। অপরাধী। অপরাধের শাস্তি কী হয় সেটিই এখন বিবেচ্য।
সবশুনে নওয়াজীশ ভাই আমার দিকে তাকালেন। বললেন, তোমার এই তরুণ বয়সে জীবনের প্রথম নাটক করতে এসে সৃষ্টিশীলতার যে অহংকার তুমি দেখালে তাকে আমি সম্মান জানাচ্ছি। সেলুট করছি।
আমি আসমান থেকে পড়লাম। হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছিÑ উনি বলে কী?
সাথে যোগ করলেন, তবে তোমার কাছে আমি একটি অনুরোধ করছি, যেহেতু এখানে ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে, আর আমার রেকমেনডেশন ছিলোÑ তাই তোমার নামটা যদি নাট্যকার হিসাবে তুমি রাখো আমি খুশি হবো।
এই হলেন বাংলাদেশের টিভি নাটকের জহুরী এবং কিংবদন্তি নওয়াজীশ ভাই। তার এই উদারতা, বড়ত্ব, সত্যিকারের শ্রেষ্ঠত্বের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য যোগ্য শব্দ এবং এবং ঠিক বাক্য আমার জানা নেই।
নওয়াজীশ ভাইয়ের সাথে আমার দেখা হয় কম। কিন্তু দু’জনের যোগাযোগ গভীর। সেই গভীরতার পরিমাপ করা কঠিন। আমি যখন বিদেশে ছিলাম তখনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বাকী জীবনেও হবে না ইন-শা-আল্লাহ।
এই ঘটনার পরে তিনি আমাকে বললেন, তুমি টেলিভিশন নাটক ডিরেকশনে আসো। তোমার যে সিটকম, হিউমার এবং উইট এটি তুমি নাটক করলেই কেবল ঠিকভাবে ফুটে উঠবে। তুমি নাটক করো।
আমিতো নাটক পরিচালনার আগা-মাথা কিছুই জানিনা। নাটক পরিচালনা কিভাবে করবো নওয়াজীশ ভাই?
তিনি বললেন, কচু গাছ কাটতে কাটতে মানুষ ডাকাত হয়ে যায় আর তোমার মতো ক্রিয়েটিভ মানুষ নাটক করতে পাবে না এটা হয়! আমি ব্যবস্থা করছি।
নওয়াজীশ ভাই সত্যিই এমন ব্যবস্থা করলেন যে এইক্ষেত্রে আমার মতো অপদার্থ একটা লোক টানা প্রায় একযুগ লাগাতার বিভিন্ন টেলিভিশনে ৫০০ শতাধিক পর্বের নাটক এবং বহু সংখ্যক ঈদ নাটক, টেলিফিল্ম রচনা ও পরিচালনা করার সুযোগ পেলো। বলা বাহুল্য সেসময় ইউটিউবের আধিপত্য ছিলোনা, নাটকে এই বিশাল সফলতা প্রাপ্তির পেছনে বড় শক্তি ছিলো দেশেবিদেশে বাংলাভাষী নাটকের বিপুল দর্শকপ্রিয়তা। তাদের সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ।
৩.
এরমধ্যে অনেক বছর চলে গেছে। নওয়াজীশ ভাইয়ের সাথে আমার হৃদ্যতা ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে পারিবারিক স্তরে বিস্তৃত হয়েছে। নওয়াজীশ ভাইকে কখনো আমি দেখি আমার বাবার রূপে, আবার তিনি আমার অভিভাবক। কখনো আমার বন্ধু। তিনি আমার স্বজন। আমার প্রিয়জন। আমার ‘ফিল্টারড’ আপনজন। ‘ফিল্টার’ শব্দটা ব্যবহারের ব্যখ্যাটা করা দরকার। শব্দটা প্রমাণিত ভালোবাসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আমি মাঝখানে বেশ কিছু বিপদাপদের মধ্য দিয়ে গেছি। সেইসময়টা ভয়ানক কষ্টকর- কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর একটা উপকারিতাও আছে। সেইসময় আমার এক বিপদের কথা শুনে সবাই পাশে দাঁড়ানো বা সাপোর্ট দেওয়াতো দূরের কথা- আমাকে ভীষণভাবে ভৎর্সনা করতে লাগলো। বললো আমারই দোষ। নিকটপরিবারে, পরিবারের বাইরে সবাই যখন আমাকে দুষছিলো, এমন একদিন নওয়াজীশ ভাইয়ের অফিসে গেলাম। উনাকে ঘটনা বললাম। শুনে প্রথমবারের মতো কোনো মানুষ আমাকে বললেন, তুমি ভুল করোনি। তুমি ঠিক আছো। তোমার কোনো অন্যায় এখানে নেই। তোমার সাথে অন্যায় করা হয়েছে। আমি তোমার পক্ষে।
চাপকল দিয়ে মাটির নিচ থেকে স্বচ্ছ পানি উঠে কারণ পাইপের নিচে ফিল্টার আছে। ফিল্টার ময়লা পানি, মাটি, পাথর সবকিছু ছেকে পরিষ্কার পানি উপরে পাঠায়। মানুষের জীবনে বিপদাপদও এক ধরনের ‘ফিল্টার’। জীবনের কঠিন সময়ে বিপদ নামের ‘ফিল্টার’ ময়লামানুষ, বন্ধুরূপে অবন্ধু, ভন্ডস্বজন সবকিছুকে ছেকে ফেলে। চিনতে সাহায্য করে। সেই ‘বিপদফিল্টার’ দিয়ে সত্যিকারের স্বজন চিনলাম।
নওয়াজীশ ভাইয়ের জন্য আমার অশেষ শ্রদ্ধা। অফুরন্ত ভালোবাসা। মহামহিমের কাছে প্রার্থনা তিনি তাকে দীর্ঘ, সুস্থ ও সুখময় জীবন দান করুন এই পৃথিবীতে এবং পরবর্তী পৃথিবীতে। জন্মদিনে তার জন্য এটিই আমার শুভেচ্ছা।
৪.
টেলিভিশন মিডিয়াতে যারা কাজ করেন, বিটিভি আমলে যারা তারকা পরিচালক, প্রযোজক ছিলেনÑ তাদের নিয়ে একটি জনপ্রিয় সাপ্তাহিকীতে একটি মূল্যায়নধর্মীয় প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিলো। সেখানে ‘ক্লিনম্যান’ হিসাবে একজনকে মাত্র পাওয়া গিয়েছিলো, তিনি নওয়াজীশ আলী খান। এরকম মানুষরা জাতীয় বীর, মডেল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই টেলিভিশনে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করার ৫০ বছর পুর্ণ করেছেন টেলিভিশন জগতের জনপ্রিয়, সিদ্ধ এবং বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব নওয়াজীশ আলী খান। তিনি যেমন দেশের সেরা জনপ্রিয় নাটকগুলোর প্রযোজক ছিলেন, একইসাথে জহুরির মতো বহু নতুন নাট্যকার খুজে বের করেছেন, নির্মাতা তৈরিতে তুলনাহীন ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের এই জীবন্ত টেলিভিশন কিংবদন্তী ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানানো একটি জাতীয় কর্তব্য। জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে এমন মানুষদের সম্মান করা গেলে সেই জাতি বা গোষ্ঠি নিজেরাই সম্মানীত হয়। আমাদের দেশে ২১শে পদক, স্বাধীনতা পদক, বাংলা একাডেমি পদকসহ এরকম নানা উপায় আছে গুণী মানুষদেরকে সম্মান জানানোর জন্য। (সর্বশেষ গত বছর সেটি তিনি পেয়েছেন)
প্রায় তিন দশক প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে কাজ করছি। সেইসূত্রে নওয়াজীশ আলী খান সম্পর্কে আমার একটি মূল্যয়ন আছে। সবকথা একইভাবে বলা যায়না। আমার মূল্যায়নের কথাটাও অন্যরকম।
বাঘ হিংস্র। সাপ বিষধর। হিংস্র বা বিষধররূপেই তারা জন্মায়, জীবনযাপন করে এবং মৃত্যু ঘটে। কিন্তু মানুষ ব্যতিক্রম। মানুষরূপে জন্মগ্রহন করলেও ‘মানুষ’ তাকে হতে হয়। ‘মানুষ’ একটি হয়ে উঠবার ব্যাপার। কারণ একজন মানুষ তার আচরণ ও কাজের দ্বারা বাঘের চেয়ে হিংস্র হতে পারে, সাপের চেয়ে বিষধর হতে পারে, হরিণের চেয়েও লাজুক হতে পারে। আমাদের টেলিভিশন জগতে হিংস্র‘বাঘমানুষ’ বিষধর ‘সাপমানুষের’ বিভিন্ন সংবাদ ছাপা হয়, প্রচার হয়। তবে আমাকে কেউ যদি টেলিভিশন জগতের তিনজন ‘মানুষে’র নাম জিজ্ঞেস করে আমি উত্তরে বলবো,
এক. নওয়াজীশ আলী খান।
দুই. নওয়াজীশ আলী খান।
তিন. নওয়াজীশ আলী খান।
এরপরে অন্য কারো নাম আসাতে পারে..।
লেখক, নাট্যকার ও নির্দেশক, গবেষক ও শিক্ষক এবং সম্পাদক: ভ্রমণ
বাংলাদেশের টেলিভিশনজগতের জীবন্ত কিংবদন্তি এটিএন বাংলার সিনিয়র এডভাইজার, নওয়াজীশ আলী খানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই লেখা
