মুখের উপর ‘না’ বলা অনেকটা কষ্টের, আর যদি সেটা বস হয় তাহলে তো কথাই নেই। আমাদের মধ্যে অধিকাংশই বসের নির্দেশ মেনে চলতে অভ্যস্ত। না বলতে আমরা পারি না। যার প্রভাব পড়ে কাজেও। এ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন নয়। তাই খুব সুন্দরভাবে বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু উপায়ে কথা বললে সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করুন
অনেকেই বসের সুনজরে থাকতে চান। আর সুনজরে থাকতে গিয়ে তাদের ওপর যা কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়, সবটাই মুখ বন্ধ করে করতে থাকেন। তবে এমন মাত্রাতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতি আরও জটিল দিকে পৌঁছে যায়। তাই আপনাকে নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে বুঝতে হবে। নিজে ঠিক যতটা পারবেন, ততটাই করুন। আর এই আত্মবিশ্লেষণ আপনাকেই করতে হবে। তা হলেই আপনার কাছে গোটা চিত্রটা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
বিকল্প বের করুন
‘না’ বলার আগে প্রথমেই ভাবনা হোক এটা। যে প্রস্তাবে ‘না’ বলছেন, তা সমাধানের অন্য কোনো বিকল্প আছে কি? থাকলে সেটা আগেই জানান বসকে। কাজটা অন্যভাবে করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখুন। অফিসের কাজে আপনার এই ভাবনা খুশি করবে তাকে। একান্তই বিকল্প না পেলে না বলতে হবে।
কোয়ান্টিটি নয় কোয়ালিটি
মানুষের ব্রেন মাল্টিটাস্কার নয়। একসঙ্গে একাধিক কাজ করলে আমাদের মস্তিষ্ক ভুল করে ফেলে। আর এই বিষয়টা সংস্থাগুলি বুঝতে চায় না। তারা কর্মীদের উপর একের পর এক কাজ চাপাতে থাকে। তাতে কাজটা উতরে গেলেও তার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে সেই নিয়েও কথা শুনতে হয় কর্মচারীদেরই। তাই এর পর থেকে বস একসঙ্গে অনেক কাজ দিলে নিজের মনের কথা বলুন। দেখবেন তিনি নিশ্চয়ই আপনার কথা বুঝবেন।
মেজাজ হারাবেন না
‘না’ বলতে গিয়ে মেজাজ হারানো কোনো কাজের কথা নয়। যতটা পারেন শান্ত থাকাই সেরা পদ্ধতি। নিজের যুক্তি গুছিয়ে বলুন। বস কিন্তু সহজে ‘না’ শুনতে পছন্দ করেন না। তাই তাঁর বিশ্বাস অর্জন করতে ধৈর্য প্রযোজন। ভদ্রভাবে অসুবিধার কথাটা জানান। তাতেও সমস্যা না মিটলে ফের আলোচনা করুন। কাজ না হলে সাহায্য নিন অফিস প্রোটোকলের।
সরাসরি কথা বলুন
আপনার কথা আপনাকেই বলতে হবে। মনের ভয় দূর করে তাই একবার বসের সঙ্গে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলুন। তাকে বলুন যে আপনার পক্ষে এতগুলো কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে আপনার কী কী সমস্যা হচ্ছে বা কাজে কোথায় কোথায় ব্যাঘাত ঘটছে, সমস্তটা একটা জায়গায় লিখে রেখে তাকে বলুন। তিনি কী বলেন দেখুন। তার পর না হয় অন্য ভাবে ভাবা যাবে। মনে রাখবেন, আপনার কিছু হলে পরিবার ও কাছের মানুষগুলোরই ক্ষতি হবে। অন্য কারও কিছু এসে যাবে না। তাই নিজের জন্য গলার স্বর নিজেকেই তুলতে হবে।
অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে কীভাবে সচ্ছল হবেন?