স্বর্গে ক্রুইফের সঙ্গী হলেন টোটাল ফুটবলের নিসকেন্স

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৪৪ পিএম

২০০৫ সালে রাইনাস মিশেলস চলে যান। ২০১৬ সালে বিদায় নেন ফুটবল কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ। আর এবার তাদের সঙ্গী হলেন টোটাল ফুটবলের আরেক রূপকার ইয়োহান নিসকেন্স। ৭৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন নেদারল্যান্ডসের এই বিখ্যাত মিডফিল্ডার। 

মিশেলসের ব্রেইন চাইল্ড টোটাল ফুটবল ধারণা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে ক্রুইফের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই ইয়োহন নিসকেন্স। তিনি ছিলেন সেই প্রজন্মের অংশ যারা ১৯৭০-এর দশকে পরপর দুটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছিলেন, যদিও দু’বারই শিরোপা অধরা থেকে যায়। আয়াক্সের হয়ে পরপর তিনবার ইউরোপীয় কাপ জেতার সময় নিসকেন্স ছিলেন দলের অপরিহার্য অংশ। তাঁর সতীর্থ শাক সোয়ার্ট একবার বলেছিলেন, "মাঝমাঠে নিসকেন্স দুইজন খেলোয়াড়ের সমান মূল্যবান ছিলেন।"

দুই ইয়োহান- নিসকেন্স ও ক্রুইফ

শুধু শক্ত ট্যাকলকারী নয়, নিসকেন্স ছিলেন দক্ষ এবং পরিশ্রমীও। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে তিনি পাঁচটি গোল করেন, যা টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক। প্রথম দুই মিনিটের মধ্যেই তাঁর করা পেনাল্টি গোলটি ছিল বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে দ্রুততম। যদিও সেই ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যায় নেদারল্যান্ডস।

১৯৭৮ সালের আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তবে আবারও ফাইনালে স্বাগতিক দলের কাছে পরাজয়ের স্বাদ পান নিসকেন্স ও তার দল।

১৯৭৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে নিসকেন্সের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস

নিসকেন্স তার ক্লাব ক্যারিয়ারেও দারুণ সফল ছিলেন। আয়াক্সের পর বার্সেলোনায় যোগ দেন এবং সেখানে তাকে "দ্বিতীয় ইয়োহান" নামে ডাকা হতো। তিনি বার্সার হয়ে কোপা দেল রে ও ইউরোপীয় কাপ উইনার্স কাপ জিতেছিলেন। পরে নিউইয়র্ক কসমোসের হয়ে পাঁচ মৌসুম খেলেন।

খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পর কোচিংয়ে যুক্ত হন নিসকেন্স। নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকায় কোচিং করেছেন এবং নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত