আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় দ. কোরিয়ার সহায়তা চান জামায়াত আমির

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:০০ পিএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিসে ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিকের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা জানান।

জামায়াত আমির জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেছেন তারা। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের  স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি। পাশাপাশি আগামীতে দুই দেশের সম্পর্ক আরো কীভাবে একটা চমৎকার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় সে বিষয়ে আমরা অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেছি। বাংলাদেশ কীভাবে সামনে দেশের জনগণের উন্নতি নিরাপত্তা অগ্রগতি নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশ ও কোরিয়া একত্রে তাদের পার্টনারশিপ আরো কীভাবে উন্নত করতে পারে সেগুলো আমরা আলোচনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আন্দোলনের যারা আহত হয়ে চোখ হারিয়েছেন, মূল্যবান অঙ্গহানি হয়েছে, কোরিয়া তাদের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কি সহযোগিতা করতে পারে সে বিষয়ে আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তারা ভেবেচিন্তে বেশ কিছু সহযোগিতা করতে পারবেন। এই মুহূর্তে আমাদের এই সহযোগিতাটা বড়ই প্রয়োজন। নইলে কিছু জীবন আজীবনের জন্য পঙ্গু বা বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। আমরা আমাদের দেশের উন্নয়নে কোরিয়ার যে দক্ষতা সেটা কীভাবে আরো বেশি পেতে পারি তা নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। একই সঙ্গে কোরিয়াতে বসবাস করে বাংলাদেশিরা আরো কীভাবে বড় অবদান রাখতে পারে এবং এ দেশ থেকে দক্ষ কর্মী কোরিয়ায় যেতে পারেন সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’ 

জামায়াত আমির বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর ধরে আমাদের ওপর তাণ্ডব চলেছে। আমরা অফিস খুলে বসে আছি মাত্র দুই মাস। তারা আমাদের দেখতে এসে সম্মানিত করেছেন। আমরা আশা করি দুই দেশ আগামীতে পরস্পরের শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতার ভিত্তিতে আরো বেশি সামনে এগিয়ে যাবে। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটা চূড়ার দিকে এগোবে।’

পরে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক সাংবাদিকদের বলেন, ‘কীভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে কথা হয়েছে। দেশের গার্মেন্টস শিল্প, ইলেক্ট্রনিকস কনজ্যুমার, ইনফাস্ট্রাকচার খাত, পিপিপি খাতে কোরিয়া সহযোগিতা করতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক খাতে কোরিয়া উন্নতি করছে। সেই দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশকে আমরা সহযোগিতা করতে চাই।’ এ সময় তিনি বাংলাদেশের কাঠামোগত উন্নয়ন ও শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরেন। অন্তর্বর্তী সরকার গুণগত সংস্কার ও পরিবর্তন আনতে পারবে আশাবাদ ব্যক্ত করে শ্রমিকরা যাতে ন্যায্য সম্মান পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সংসদ সদস্য এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, প্রচার সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত