একদিনে ছয় মামলায় জামিন ত্বরিত মুক্তি সাবের চৌধুরীর

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:০২ এএম

সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে ছয়টি মামলায় জামিন দিয়েছে আদালত। বিএনপিকর্মী মকবুলকে গুলি করে হত্যার মামলায় গত সোমবার তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। তবে রিমান্ডে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। কিন্তু তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পল্টন থানার দুই মামলায় ও খিলগাঁও থানার পৃথক চার মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত।

গতকাল ঢাকার পৃথক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এসব মামলায় অসুস্থ বিবেচনা প্রত্যেক মামলায় ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন লাভের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আদালতের গারদখানা থেকে মুক্তি পান সাবের হোসেন চৌধুরী। এ সময় একটি কালো রঙের গাড়িতে করে আদালত এলাকা ত্যাগ করেন তিনি।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর হত্যা, গণহত্যার অভিযোগে গত দুই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ৫০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে এই প্রথম ক্ষমতাচ্যুত সরকারের মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কেউ জামিনে মুক্তি পেলেন। গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে সাবের হোসেন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গ্রেপ্তারের তিন দিনের মধ্যে জামিন ও মুক্তি পেলেন তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাবের হোসেন চৌধুরীর রিমান্ড ফেরত প্রতিবেদনে বলেন, সাবের হোসেনের পাঁচ দিনের রিমান্ড চলাকালে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো প্রশ্নেরই উত্তর দিতে পারছেন না, কথোপকথনে জানা যায়, তিনি আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ও হৃদরোগে আক্রান্ত। তার হার্টে তিনটি রিং পরানো হয়েছে। আসামির বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতিতে পুলিশ হেফাজতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আশানুরূপ তথ্য পাওয়া যাবে না, ভবিষ্যতে আসামির সুস্থতা সাপেক্ষে পুনঃজিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হবে। পল্টন থানার দুই মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমান। আর খিলগাঁও থানার চার মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান।

সাবের হোসেন চৌধুরীর আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন আগে। বেঁচে থাকলে তারপর রিমান্ড। আসামি অসুস্থ, ঘাড়ে ব্যথা, ডায়াবেটিসের রোগী, তার হার্টে তিনটি রিং পরানো হয়েছে। তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। আসামি পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করেন। মানুষ হিসেবে তিনি সবার সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করেছেন।’

অন্যদিকে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকীর নেতৃত্ব কয়েকজন আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে শুনানিতে বলেন, ‘এই আসামি অসুস্থ, অথচ দাঁড়িয়ে রয়েছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে ফ্যাসিবাদী সরকারের সঙ্গে হাত মেলাবে। দেশের শান্তি নষ্ট করবে। জামিন নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।’

শুনানি নিয়ে বিচারক জামিনের আদেশ দেন। তবে জামিন আদেশের পর বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আদালত থেকে বের হয়ে যান। একই সময়ে তড়িঘড়ি করে এজলাস ত্যাগ করেন বিচারক। তখন আদালতে হট্টগোল শুরু হয়। বিএনপিপন্থি কয়েকজন আইনজীবী আদালতে থাকা টেবিল ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। পরে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত কক্ষ ত্যাগ করলে পল্টন থানার দুই মামলায় জামিন শুনানি হয় এবং জামিন মঞ্জুর করে আদালত। জামিনের নথি তৈরির পর আদালতের গারদখানা থেকেই মুক্তি দেওয়া হয় সাবের হোসেন চৌধুরীকে।

গ্রেপ্তারের পর গত ৭ অক্টোবর পল্টন থানার একটি মামলায় সাবের হোসেন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হক তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর এক দফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব সরকার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। এর পাশাপাশি অবস্থানরত হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত