দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১২৭ নাগরিকের আহ্বান

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৪, ০৫:৪৮ পিএম

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ১২৭ জন নাগরিক। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে সম্প্রতি শহর, গ্রাম ও পাহাড়সহ দেশের নানা অঞ্চলে বিভিন্ন ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা নিয়ে আশঙ্কা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান এবং দুর্গাপূজার উদযাপন নিয়ে নাগরিক উৎকণ্ঠার মাত্রা এখন সর্বোচ্চ। এতে মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হয়ে পড়েছে ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ সম্প্রদায় কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যা জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী বাস্তবতায় খুবই দুঃখজনক।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এই বিষয়টি উল্লেখ করতে চাই যে, দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব। এই উৎসবে যাতে হিন্দু সম্প্রদায় তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারেন সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব। কোনো ধরনের হুমকি বা বাধা ছাড়াই হিন্দু সম্প্রদায় যেন তাদের পূজা উদযাপন করতে পারে সেই বিষয়ে জনঅভ্যুত্থানের গর্ভে জন্ম নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

এতে বলা হয়, দুর্গাপূজা উদযাপন শুরু হবার আগেই অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বারবার পর্যাপ্ত প্রস্তুতির কথা বলা হলেও ঝুঁকি মাত্রা বিবেচনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে মনে করি। একই সঙ্গে এটা খেয়াল রাখা জরুরি, নিরাপত্তা দেওয়ার নামে যেন উৎসব উদযাপনে কোনও গোষ্ঠীর বিন্দুমাত্র সমস্যা না হয়।

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের শান্তিপূর্ণ উদযাপন, যেকোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ এবং সকল নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক ধর্মীয় সহিংসতার ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিবেশকে বিনষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা নিজেদের গোষ্ঠীগত মতবাদকে অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে পারস্পরিক ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তারা বলেন, আমরা মনে করি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুরক্ষিত থাকা কেবল সাংবিধানিক অধিকার নয়, এটি আমাদের দেশের মূল বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহ্য। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়েছে, তা সফল করতে হলে ধর্মীয় সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি রাষ্ট্রকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বিবৃতিতে জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত অবিলম্বে সব মানুষের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলোর কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের সহযোগে সমন্বিত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা আশু প্রয়োজন।

এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

স্বাক্ষরকারী নাগরিকবৃন্দ 
১. আনু মুহাম্মদ, অর্থনীতিবিদ
২. আশরাফ কায়সার, গণমাধ্যমকর্মী
৩.জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট
৪. মানজুর আল মতিন, আইনজীবী
৫. মাহা মির্জা, লেখক ও গবেষক
৬. সামিনা লুৎফা, শিক্ষক ও নাট্যকর্মী
৭. কল্লোল মোস্তফা, লেখক
৮. আ-আল মামুন, অধ্যাপক
৯. বাকী বিল্লাহ, লেখক ও এক্টিভিটস্ট
১০. রেজাউর রহমান লেনিন, গবেষক এবং মানবাধিকার কর্মী
১১. অমল আকাশ, সংস্কৃতি কর্মী
১২. বীথি ঘোষ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক
১৩.  ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, সহযোগী অধ্যাপক ও নৃবিজ্ঞানী
১৪.  রহমান মুফিজ, কবি
১৫. মাসউদ ইমরান, শিক্ষক, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়
১৬. ফেরদৌস আরা রুমী, কবি ও অধিকার কর্মী
১৭.  আরিফ রহমান, লেখক ও গবেষক
১৮.  সৈকত আমীন, কবি
১৯. সৈকত দে, গল্পকার ও চলচ্চিত্র সমালোচক
২০. তুহিন খান, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট
২১. মীর হুযাইফা আল মামদূহ, লেখক ও গবেষক
২২.তানিয়াহ্ মাহমুদা তিন্নি, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী
২৩. রাফসান আহমেদ, চলচ্চিত্র কর্মী
২৪. সারোয়ার তুষার, লেখক ও সংগঠক
২৫. জামসেদ আনোয়ার তপন, সংস্কৃতিকর্মী
২৬. আরিফ নূর, সাংস্কৃতিক কর্মী
২৭. উম্মে রায়হানা, কবি ও সাংবাদিক
২৮. বায়েজিদ বোস্তামী, কবি ও গদ্যকার
২৯. মৃদুল মাহবুব, কবি ও লেখক
৩০. মারজিয়া প্রভা, এক্টিভিস্ট ও নারী অধিকার কর্মী
৩১. মোহাম্মদ আলী হায়দার,থিয়েটার ও মিডিয়াকর্মী
৩২. ইমেল হক, নির্মাতা
৩৩.ওয়াসিফা জাফর অদ্রি, কবি
৩৪. লাবনী আশরাফী, শিক্ষক ও চলচ্চিত্রকার
৩৫ সুদীপ্ত বিশ্বাস, লেখক ও এক্টিভিস্ট
৩৬.শামীম আরা নীপা, এক্টিভিস্ট
৩৭. হুমায়ুন আজম রেওয়াজ, সাংস্কৃতিক কর্মী
৩৮.  নাশাদ ময়ুখ, কবি ও চিন্তক
৩৯. সেতু আরিফ, নির্মাতা
৪০. অনিক রায়, সাংবাদিক
৪১. ইলিরা দেওয়ান, লেখক, মানবাধিকার কর্মী
৪২. সজীব তানভীর, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা
৪৩. দীপক সুমন,অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক
৪৪. ইরফানুর রহমান রাফিন, অনুবাদক
৪৫. আফজাল হোসেন, নাগরিক আন্দোলন কর্ম
৪৬. মইন জালাল চৌধুরী, শিক্ষক
৪৭. বাধন অধিকারী, লেখক ও সাংবাদিক
৪৮. তাহমীদ চৌধুরী, কবি
৪৯. মোশফেক আরা শিমুল, মানবাধিকার কর্মী
৫০. সুস্মিতা রায় সুপ্তি, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী
৫১. প্রীতম দাস, এক্টিভিস্ট 
৫২. আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, রাজনৈতিক কর্মী
৫৩. কামরুজ্জামান রিপন,মানবাধিকার কর্মী
৫৪. কৌশিক আহমেদ, গবেষক ও অধিকার কর্মী 
৫৫.শহীদুল ইসলাম সবুজ, শ্রমিক নেতা
৫৬.রজত হুদা, রাজনীতিবিদ
৫৭.সারা আহমেদ, চিকিৎসক
৫৮.তমসা অরন্য, সাংস্কৃতিক কর্মী
৫৯. সীমা দত্ত, নারী অধিকার সংগঠক
৬০. রাফিকুজ্জামান ফরিদ, ছাত্র আন্দোলন সংগঠক
৬১. লাবণী মণ্ডল, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাহিত্য-সমালোচক
৬২. সাইফুর রুদ্র, আইনজীবী
৬৩. ইসহাক সরকার, শিক্ষক
৬৪. শাহেরীন আরাফাত, সাংবাদিক
৬৫. সাঈদ বারী,  প্রকাশক
৬৬. মুতাসিম আলী, কবি ও লেখক
৬৭. পূরবী তালুকদার, মানবাধিকার কর্মী
৬৮. সৈয়দ আবুল কালাম , সাংস্কৃতিক সংগঠক
৬৯. শ্যামল শিশির, নির্মাতা
৭০. সাদিক মোহাম্মদ আলম, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ
৭১. গোলাম সারওয়ার, সহযোগী অধ্যাপক
৭২. মুরাদ হাসান, লেখক
৭৩. মীর সাখাওয়াত , সংস্কৃতিকর্মী
৭৪. সুস্মিতা চক্রবর্তী, অধ্যাপক এবং ফোকলোরিস্ট
৭৫. মানস নন্দী, শ্রমিক অধিকার নেতা
৭৬. মাসুদ খান, রাজনীতিবিদ।
৭৭. নিঘাত রৌদ্র, ছাত্র আন্দোলন সংগঠক
৭৮. মোহম্মদ ইব্রাহিম, শ্রমিক নেতা
৭৯. খোবাইব হামদান, লেখক
৮০. চৌধুরী সাকিব আরিফ, কবি
৮১. আমিরুন নূজহাত মনীষা, সংস্কৃতি কর্মী
৮২. মিতা নাহার, মানবাধিকার কর্মী
৮৩. জাফর হোসেন, রাজনীতিবিদ
৮৪. বিপ্লব ভট্টাচার্য্য, রাজনীতিবিদ
৮৫. তাওফিকা প্রিয়া, ছাত্রনেতা
৮৬. শান্তনু বোস, এক্টিভিস্ট
৮৭. মোতাসিম বিল্লাহ, এক্টিভিস্ট
৮৮. মো. আশিকুর রহমান, সাংস্কৃতিক কর্মী 
৮৯. আবুল হাশেম খান, শিক্ষক ও এক্টিভিস্ট
৯০. সৈয়দ সালাউদ্দিন মাহমুদ, লেখক
৯১. মারুফ বরকত, লেখক ও গবেষক
৯২. সাদরুল হাসান রিপন, রাজনৈতিক কর্মী
৯৩. সৌরভ মাহমুদ, লেখক
৯৪. অধ্যাপক মোজাহার আলী, সাবেক উপাধ্যক্ষ 
রংপুর সরকারি কলেজ
৯৫. ইকবাল কবীর, রাজনৈতিক সংগঠক
৯৬. ডা. এম জি রব্বানী, চিকিৎসক
৯৭. শবনম হাফিজ, শ্রমিক সংগঠক
৯৮. খাঁন আয়্যুব, লেখক
৯৯. ইকবাল খান, সংস্কৃতিকর্মী
১০০. মাসুদ রেজা, শ্রমিক নেতা
১০১. শিল্পী আহসান আহমেদ, প্রতিষ্ঠাতা,পরিচালক,
চারুকলা একাডেমি, রংপুর।
১০২. পলাশ কান্তি নাগ, আইনজীবী
১০৩. কাজী আবদুর রহমান,শিক্ষক
১০৪. ধ্রুবজ্যোতি হোর, শিক্ষাকর্মী
১০৫. জামাল আবেদীন ভাস্কর, এক্টিভিস্ট
১০৬. ফারহানা শারমিন ইমু, স্থপতি
১০৭. লিখন দত্ত, লেখক
১০৮. খোকন দাস, লেখক, এক্টিভস্ট
১০৯. তানভীর তিয়াস, সমাজকর্মী
১১০. তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, রাজনৈতিক কর্মী
১১১. অরুণাভ আশরাফ, শিক্ষার্থী
১১২. নওশাদ এহ্সানুল হক,স্থপতি ও শিক্ষক
১১৩. মো. জামিল হুসাইন, শিক্ষার্থী
১১৪. মারুফ হাসান ভূঞা, লেখক
১১৫. সিমু নাসের, সাংবাদিক
১১৬. স্নেহাদ্রি চক্রবর্ত্তী রিন্টু, আইনজীবী
১১৭. আরিফুল হাসান, ছাত্র আন্দোলন কর্মী
১১৮. আয়েন উদ্দীন, সাংবাদিক
১১৯. মো. জামিল হুসাইন, শিক্ষার্থী
১২০. রবিউল করিম ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী এবং সংগঠক
১২১. তাসলিমা মিজি, অধিকারকর্মী
১২২. টনি মাইকেল গোমেজ, শিল্পী ও অধিকার কর্মী
১২৩. সামিউল আজীম, কবি
১২৪. ডা. মজিবুল হক আরজু, চিকিৎসক
১২৫. মাহির আহনাফ হোসেন, শিক্ষার্থী
১২৬. আব্দুল মজিদ অন্তর, এক্টিভিস্ট
১২৭. তৌহিদুজ্জামান জুয়েল, প্রাক্তন ছাত্রনেতা 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত