চলতি বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। গত সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১১জন। এর মধ্যে ১০ জনই নারী। জেলা এলাকার চেয়ে নগরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের হার বেশি। চলতি অক্টোবর মাসের সাত দিনে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৬২ জন।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। সূত্রটি জানিয়েছে, গত ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে নগরে ৫৮৫ জন ও উপজেলায় ৩২২ জন। মারা গেছেন ১১ জন। এর মধ্যে ১০ জনই নারী, চারজন পুরুষ এবং দুজন শিশু।
সূত্র জানায়, চলতি বছর গত ৭ অক্টোবর পর্যন্ত নগর ও জেলায় মোট ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬৭ জন। এর মধ্যে নগরে ১ হাজার ১৫৩ জন ও জেলায় ৭১৪ জন। এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের হিসাবে নগরের ছয়টি এলাকাকে চিহ্নিত করে লাল তালিকাভুক্ত করেছে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এলাকাগুলো হলো—কোতোয়ালি, বাকলিয়া, বায়েজিদ বোস্তামি, বন্দর, পাহাড়তলী ও খুলশী।
১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের ওপর ভিত্তি করে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি তালিকা প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ঠিকানা ধরে এই তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকায় নগরের মোট ২৩টি এলাকায় ৫১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় লাল তালিকাভুক্ত (রেডজোন) ছয়টি এলাকার মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে কোতোয়ালিতে ১০৬ জন, বাকলিয়ায় ১০৩ জন, বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় ৭৬ জন, বন্দরে ৩৩ জন, পাহাড়তলীতে ৩২ জন ও খুলশী এলাকায় ২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
নগরের পাঁচটি এলাকাকে হলুদ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচলাইশে ১৯ জন, হালিশহরে ১৮ জন, পতেঙ্গায় ১৫ জন, চান্দগাঁওয়ে ১১ জন ও ডবলমুরিং এলাকায় ১০জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। নীল তালিকাভুক্ত সাতটি এলাকার মধ্যে লালখান বাজারে ৯ জন, আগ্রাবাদে সাতজন, মুরাদপুরে ছয়জন, আকবর শাহ এলাকায় পাঁচজন, কাট্টলীতে পাঁচজন, নাসিরাবাদে চারজন ও দামপাড়ায় চারজন শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সবুজ তালিকাভুক্ত চারটি এলাকার মধ্যে অক্সিজেন এলাকায় তিনজন এবং সিটি গেট, চৌমুহনী ও সদরঘাট এলাকায় দুজন করে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যেসব এলাকা থেকে বেশি ডেঙ্গু রোগী পাচ্ছি, সেগুলোকে রেড জোন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছি। সেই তালিকা আমরা সিটি করপোরেশনে দিয়ে এলাকাগুলোতে মশা নিধনে বিশেষ নজর দিতে বলেছি।’
সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৫ জন, মার্চে ২৮ জন, এপ্রিলে ১৮ জন, মে মাসে ১৭ জন, জুনে ৪১ জন, জুলাইয়ে ১৯৮ জন, আগস্টে ২০২ জন ও সেপ্টেম্বরে ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়।
