বিকল্প সড়ক না রেখে একই সাথে সকল রাস্তার উন্নয়ন কাজ শুরু করায় সম্পূর্নরূপে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন দক্ষিণখান ও উত্তরখানের বাসিন্দারা। সড়ক খুড়ে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় বৃষ্টি ও ড্রেনের পানিতে ভোগান্তির চরম সীমায় এই দুই এলাকার ৭টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কোনো রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার রাস্তা অবশিষ্ট নেই। পথেই সন্তান প্রসবের মত মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটেছে। এই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, এখানে যে কয়েকটি ক্লিনিক রয়েছে সেখানে চিকিৎসক আসতে না পারায় প্রায় বন্ধ চিকিৎসা সেবা।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর দক্ষিণখান বাজারে দক্ষিণখান ও উত্তরখানবাসীর আয়োজনে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব অভিযোগ ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। ‘এ সময় অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা চাই’, ’ড্রেনের পানিতে সাতার কাটতে চাই না, এই ভোগান্তির শেষ কবে’- এমন ব্যানার ফেস্টুন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন হাজারো মানুষ।
মানববন্ধনে দক্ষিণখান-উত্তরখান সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ইয়াছিন রানা বলেন, ২০১৬ সালে এই এলাকা ঢাকা উত্তর সিটির আওতায় আসার পর থেকে উন্নয়ন কাজ বন্ধ ছিল। সিটি নির্বাচনের ছয় বছর পরে এসেও এখানকার চিত্র বদলায়নি। বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা তলিয়ে যায়, হাঁটার মত অবস্থা থাকে না। সড়ক খনন নীতিমালা না মেনে সব রাস্তা এক সাথে কাটায় মানুষ যাতায়াত করতে পারে না। অফিস করতে উত্তরা বা বিমানবন্ধর যেতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়, কয়েক কিলোমিটার রাস্তা হেটে পাড়ি দিতে হয়। ১০ টাকার অটো ভাড়া ৫০ টাকা নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় কোনো গাড়িই চলাচলের সুযোগ নেই। বৃষ্টি হলেই রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, গত বুধবার ৯ অক্টোবর দক্ষিণ খান বাজারে ঈদগাহ মাঠের সামনে একজন গর্ভবতী নারী হেটে ক্লিনিকে যাবার সময় রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। রোগীদের হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার মত এই এলাকায় রাস্তা নেই।
ইয়াছিন রানা বলেন, এই এলাকায় সিটি করপোরেশনের কেউ পরিদর্শনেও আসেন না। তারা উত্তরা, গুলশান, মিরপুরেই শুধু পরিদর্শন করেন। তাদের কাছে জানতে চাই, উত্তরা-গুলশানের বাসিন্দারা এ গ্রেডের নাগরিক আর দক্ষিণখান-উত্তরখানের বাসিন্দারা সি গ্রেডের নাগরিক হিসেবে কেন তারা মূল্যায়ন করছেন তা স্পষ্ট করতে হবে।
মানববন্ধনে ৭টি দাবি তুলে ধরেন দক্ষিণখান-উত্তরখান সচেতন নাগরিক কমিটির আহবায়ক ইয়াছিন রানা। দাবিগুলো হল:
১. কাজের গতি যেকোনো উপায়ে দ্রুত বৃদ্ধি করা।
২. জরুরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলো অগ্রধিকার ভিত্তিতে লোকবল বৃদ্ধি করে চলাচল উপযোগী করা।
৩. যে সকল রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোর একটি টাইম সিডিউল দিয়ে দিতে হবে। কত দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে এটা জানিয়ে প্রত্যেক রাস্তায় তা লিখে টানিয়ে দিতে হবে।
৪. যে রাস্তার কাজ যে ঠিকাদার পেয়েছে সে ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠানের নাম এবং ঠিকানা যোগাযোগের নম্বর জানিয়ে দিতে হবে।
৫. রাস্তার কাজের মান নিয়ে সাধারণ জনগণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে এই বিষয়ে সঠিক তদারকি করতে হবে।
৬. নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ চলতে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার কাজ ভালো মানের উপকরণ দিয়ে করার আদেশ জারি করতে হবে।
৭. কোনো ঠিকাদার যথাযথভাবে কাজ না করলে কিংবা অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
