ঘোষণা আগেই দেওয়া ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিলেন জার্মান ফুটবলের চার স্তম্ভ ইকায় গুনদোয়ান, টমাস মুলার, ম্যানুয়েল নয়্যার এবং টনি ক্রুস। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে এই চারজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয়। জয়েই রাঙা হয়েছে চার তারকার বিদায় ম্যাচটি। ১-০ গোলে ডাচদের হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে জার্মানি।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় এই চার ফুটবলারের জন্য ছিল বিশেষ আয়োজন। খেলা শুরুর আগে গ্যালারি জুড়ে ভেসে ওঠে চার তারকার মুখ। আর ওপরে জার্মান ভাষায় লেখা ‘লেজেন্ড’। জাতীয় সংগীতের আগেই গুনদোয়ান, নয়্যার ও মুলার মাঠে নেমে দর্শকদের থেকে বিদায় নেন। তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক। এরপর শুরু হয় খেলা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে চেষ্টা করেও গোল পায়নি কোনো দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে বুলেটগতির শটে জার্মানিকে গোল এনে দেন অভিষিক্ত ফরোয়ার্ড জেমি লেওয়েলিং। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণের গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এতে জার্মানির শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেল। নয়্যারের জায়গায় জার্মানির গোলবার সামলান ৩৪ বছরের অলিভার বাউম্যান। শেষ দিকে দারুণ একটি সেভও করেন তিনি। লিগ ‘এ’র গ্রুপ ১-এ চার ম্যাচে তিন জয় ও এক ড্রয়ে শীর্ষে থাকা জার্মানির পয়েন্ট ১০। সমান ম্যাচে দুই ও তিন নম্বরে থাকা নেদারল্যান্ডস ও হাঙ্গেরির পয়েন্টও ৫।
শেষ আটে ফ্রান্স : বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার আশা অনেকটাই মলিন করে দিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে ফ্রান্স। উয়েফা নেশনস লিগের মঞ্চে ফরাসিরা জিতেছে ২-১ গোলে। জোড়া গোল করেছেন কোলো মুয়ানি।
ব্রাসেলসে সোমবার রাতের ম্যাচে গোলের জন্য ২০টি শট নিয়ে ৭টি লক্ষ্যে রাখতে পারে স্বাগতিকরা। আর ফ্রান্সের ১৪ শটের ৪টি লক্ষ্যে ছিল। এই ম্যাচ শেষে ‘এ’ গ্রুপের দুই নম্বর গ্রুপে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইতালি, ৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ফ্রান্স আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে বেলজিয়াম। গ্রুপের শীর্ষ দুই দল যাবে শেষ আটে।
ম্যাচের শুরুর দিকে আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করেছিল বেলজিয়াম। ১৫তম মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও উড়িয়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন টিলেমানস। তবে ফরাসিরা এই ভুল করেনি। ৩৩তম মিনিটে বক্সের ভেতর বেলজিয়ান ডিফেন্ডার ভাউট ফাসের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কাস্তেলসকে ফাঁকি দিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে নেন পিএসজির ফরোয়ার্ড কোলো মুয়ানি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। টিমোটি কাস্টানিয়ার ক্রসে ছয় গজ বক্সের মুখে হেডে বল জালে পাঠান ওপেন্দা। লাইনসম্যান প্রথমে অফসাইডের পতাকা তুললেও, ভিএআরের সাহায্যে গোল দেন রেফারি। ৫৫তম মিনিটে লুকা দিনিয়ের ক্রস থেকে বক্সের ভেতর বল পায়ে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মুয়ানি। এই গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
অভিষেক তৃতীয় প্রজন্মের মালদিনি : দাদা চেসারে ও বাবা পাওলোর পর ইতালির জার্সিতে অভিষেক হলো দানিয়েল মালদিনির। ইসরায়েলের বিপক্ষে ইতালির ম্যাচের ৭৪তম মিনিটের খেলা চলছে তখন। ইতালির ফুটবলের একটি মাহেন্দ্রক্ষণ এলো তখনই। বদলি হিসেবে মাঠে নামলেন দানিয়েল মালদিনি। দানিয়েলের অভিষেকের আশায় এ দিন মাঠে ছিলেন পাওলো। ছেলে মাঠে নামার সময় এই কিংবদন্তির চোখেমুখে দেখা যায় গর্বের ছায়া। এক পরিবারের তিন প্রজন্মের ইতালির জার্সি গায়ে চাপানোর নজির এটিই প্রথম। উদিনেতে নেশনস লিগের ম্যাচটিতে দাপুটে ফুটবল খেলে ৪-১ গোলের জয় পায় ইতালি। গ্রুপে শীর্ষস্থান ধরে রাখে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
দাদা ও বাবার মতো দানিয়েল ডিফেন্ডার নন, বরং তিনি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ম্যাচ শেষে বলেন দেশের হয়ে খেলার ভালো লাগা ও গর্বের কথা, ‘আমি খুবই খুশি যে বাবা-মা এখানে এসেছে। বাড়ি ফিরে তাদের সঙ্গে কথা বলব। খুবই খুশি যে দেশের হয়ে খেলতে পেরেছি এবং ম্যাচটিও দারুণ হয়েছে আমাদের জন্য।’
