স্বতন্ত্র পরিদপ্তর গঠন ও ডিপ্লোমাধারীদের ১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণির গেজেটেড) পদমর্যাদা প্রদানসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন দেশের মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসির শিক্ষার্থীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী দেশে একজন চিকিৎসকের বিপরীতে পাঁচজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতেও দাবি জানান তারা।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মহাখালীর ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) কনফারেন্স হলে বৈষম্যবিরোধী মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আসাদুল শিকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাফসান হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন, সদস্য সচিব জীবন আহমেদ ও আইএইচটি শাখা কমিটির আহ্বায়ক আশিক জামাল, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন ও সদস্য সচিব নাঈমুল হাসান।
সেখানে বলা হয়, দীর্ঘ ১৪ বছরেরও অধিক সময় প্রশাসনিক জটিলতায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংখ্যা মাত্র ৪ হাজার ১০৬ জন ও মোট পদের সংখ্যা ৫ হাজার ৯৭৫টি। এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
এই খাতে বৈষম্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পেশাজীবীদের পেশাগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন, বদলি, পদোন্নতি, উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের জন্য কোনো স্বতন্ত্র উইং বা অধিদপ্তর নেই। ইন্সটিটিউটগুলোয় পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা এবং বিগত ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পদ সৃষ্টি না হওয়ায় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট শিক্ষায় হতাশা দেখা দিয়েছে।
এ পেশার বৈষম্য দূর করতে সংবাদ সম্মেলনে ৬ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- ১. মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি স্বতন্ত্র 'মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসি পরিদপ্তর' গঠন ।
২. ডিপ্লোমাধারীদের ১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণির গেজেটেড) পদমর্যাদা প্রদান, চিকিৎসক ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের আন্তর্জাতিক মানের সংখ্যা অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০১৩ সালের স্থগিতকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু।
৩. গ্রাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নবম গ্রেডের পদসৃষ্টি, চাকরিজীবীদের আনুপাতিক হারে পদোন্নতির নিয়ম বহাল রাখা এবং আধুনিক ও সময়উপযোগী নিয়োগবিধি প্রণয়ন।
৪. ঢাকা আইএইচটি-কে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর ও সকল আইএইচটি-তে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট শিক্ষকদের স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার প্লান গঠন করে বিদ্যমান নিয়োগ বিধি ও অসংগতিপূর্ণ গ্রেড সংশোধন।
৫. মেডিকেল টেকনোলজি কাউন্সিল ও ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড গঠন এবং প্রাইভেট সার্ভিস নীতিমালা প্রণয়ন।
৬. বি ফার্মসহ সকল অনুষদের বিএসসি ও এমএসসি কোর্স চালু করা এবং স্কলারশিপসহ প্রশিক্ষণ ভাতা চালু।
সিএমপি কমিশনারসহ তিন ওসিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
‘শেখ হাসিনাকে দেশে এনে বিচার করা হবে’