ক্ষমতাচ্যুত সুহার্তোর জামাতা এখন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৪, ১০:০৪ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার সাবেক জেনারেল প্রাবোও সুবিয়ান্তো দেশটির অষ্টম প্রেসিডেন্ট হিসেবে পার্লামেন্টে শপথ নিয়েছেন। রবিবার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশ শাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ৭৩ বছর বয়সী প্রাবোও। তিনি ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচার সুহার্তোর জামাতা।

শপথ অনুষ্ঠানে সুবিয়ান্তো ইন্দোনেশিয়ার নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। এদিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সব নাগরিকের, এমনকি যারা আমাদের ভোট দেননি, তাদের স্বার্থকেও অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ইন্দোনেশিয়া সরকারকে নেতৃত্ব দেব। এ সময় আইনপ্রণেতারা তার নামে স্লোগান দেন এবং সাধুবাদ জানান। খবর এএফপির।

এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে রাজধানী জাকার্তায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় এক লাখ পুলিশ ও সেনাসদস্য। শপথ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড লামি, চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ বেশ কিছু বিদেশি কূটনীতিক অংশ নেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার পরপরই অনানুষ্ঠানিক ভোট গণনায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সুবিয়ান্তো এবং তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জিবরান রাকাবুমিং রাকাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ২০ মার্চ দেশটির নির্বাচন কমিশন তাদের বিজয়ী ঘোষণা করে। জিবরান রাকাবুমিং রাকা হলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর বড় ছেলে।

ইন্দোনেশিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি প্রথম দফায় ৫০ শতাংশ ভোট নিশ্চিত না করতে পারেন, তবে নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়। তবে প্রাবোও প্রথম দফার ভোটাভুটিতেই প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেন।

প্রাবোওর বাবা সুমিত্র জোজোহাদিকুসুমো একজন নামকরা অর্থনীতিবিদ ছিলেন। দেশটির প্রতিষ্ঠাতা সুকার্নো ও স্বৈরাচার সুহার্তোর শাসনকালে তিনি অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রাবোওর ছোটবেলা কেটেছে সুইজারল্যান্ড, হংকং, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। ১৯৭০ সালে তিনি ইন্দোনেশিয়ার সামরিক একাডেমিতে যোগ দিতে দেশে ফেরেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণ নেন। সামরিক বাহিনীতে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল।

১৯৮৩ সালে প্রাবোও তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সুহার্তোর দ্বিতীয় মেয়েকে বিয়ে করেন। তাদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। পরে অবশ্য এই দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত