২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাঁচ নেতাকে গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এ অভিযোগ দাখিল করা হয়। দুপুরে এ বিষয়ে বিস্তারিত সাংবাদিকদের জানান ছাত্রশিবিরের আইন সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান ও আইনজীবী আমানুল্লাহ আল জিহাদী আদিব।
তারা বলেন, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত কাজ শেষে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি বাসে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে মধ্যরাতে গাড়ি থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র ও ইবি শাখার ছাত্রশিবিরের সাবেক অর্থ সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ এবং ফিকাহ বিভাগের ছাত্র ইবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল মুকাদ্দাসকে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে র্যাবের পোশাক পরিহিত ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যায়।
২০১৩ সালের ২ এপ্রিল রাত ৪টায় ঢাকা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজির ছাত্র শ্যামলী রিং রোডের বাসা থেকে হাফেজ জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় র্যাব। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদাবর থানার সেক্রেটারি ছিলেন। ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই বান্দরবান সদরের লেমুঝিনি গর্জনিয়া মসজিদের কক্ষ থেকে বান্দরবান ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ও শিবিরের চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানা সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীনকে তুলে নিয়ে যায় র্যাব। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় বেনাপোল পোর্ট-সংলগ্ন দুর্গাপুর বাজার থেকে র্যাব পরিচয়ে গ্রেপ্তার করা হয় বাগাছড়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্র ও ছাত্রশিবিরের থানা সেক্রেটারি রিজোয়ান হোসাইনকে। তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এ পাঁচজন এখন পর্যন্ত ফিরে আসেননি।
এ ছাড়া, ২০১৭ সালের ৭ মে ঝিনাইদহের সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসার ছাত্র ছাত্রশিবিরের কর্মী কামারুজ্জামানকে ঝিনাইদহ সদরের লেবু তলা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন পর্যন্ত ফিরে আসেননি।
